বাংলাদেশ এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—একদিকে কোভিড-১৯-এর নতুন ধরন ফের আলোচনায়, অন্যদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়ংকরভাবে বাড়ছে। উভয় রোগই জনস্বাস্থ্যব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। এই বাস্তবতায় যদি আবারও লকডাউন ঘোষণা করা হয়, তাহলে দেশজুড়ে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউ থেকেই আমরা লকডাউন শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। ২০২০ ও ২০২১ সালে বেশ কয়েকবার দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষিত হয়েছিল। এতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আংশিক সফলতা এলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্থনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা এবং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য। সেই অভিজ্ঞতা এখনো তাজা।
বর্তমানে যখন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে, আর হাসপাতালে স্থান সংকট প্রকট, তখন কোভিডের সম্ভাব্য উর্ধ্বগতি নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। যদি এই দুই মহামারি একসাথে তীব্র হয় এবং সরকার বাধ্য হয় আবারও লকডাউন জারি করতে, তাহলে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
প্রথমত, অর্থনৈতিক দিক থেকে লকডাউনের প্রভাব হবে ভয়াবহ। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠী আবারও আয়হীন অবস্থায় পড়বে। দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, হোটেল-রেস্টুরেন্ট খাতসহ বহু মানুষ হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়বে। খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। সরকারকে আবারও খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। একদিকে করোনা রোগীদের জন্য আইসোলেশন ও অক্সিজেন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে ডেঙ্গুর চিকিৎসায় লাগবে পর্যাপ্ত স্যালাইন, প্লেটলেট, রক্ত ও অভিজ্ঞ জনবল। এমন অবস্থায় হাসপাতালগুলোতে রোগী ঠাঁই পাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে।
তৃতীয়ত, শিক্ষাক্ষেত্রে আবারও বিপর্যয় দেখা দেবে। দীর্ঘ বন্ধে অনলাইন ক্লাস চালু হলেও গ্রামীণ ও দরিদ্র শিক্ষার্থীরা এর বাইরে থেকে যায়। ফলে ঝরে পড়া ও শিখন ঘাটতির হার বেড়ে যায়। নতুন করে যদি লকডাউন হয়, এই চক্রে শিক্ষাব্যবস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
চতুর্থত, মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি হবে উদ্বেগজনক। বিচ্ছিন্নতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও স্বাস্থ্যভীতির কারণে মানুষ হতাশাগ্রস্ত হবে, যা আত্মহত্যা বা সহিংস আচরণের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে—পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এখন অনেক বেশি প্রস্তুত। স্বাস্থ্যবিধি, টিকা, হটলাইন, অনলাইন সেবা প্রভৃতি এখন বেশ সংগঠিত। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, এনজিও ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, করোনা ও ডেঙ্গুর যুগল সংকট মোকাবিলায় লকডাউন শেষ উপায় হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। জনসচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, টিকা প্রদান ও স্থানীয় পর্যায়ে কঠোর নজরদারি চালিয়ে গেলে হয়তো লকডাউনের প্রয়োজনই পড়বে না। তবুও সম্ভাব্য বিপদের প্রস্তুতি থাকা চাই। বাংলাদেশ আগেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে, এবারও পারবে—যদি সবাই একসাথে সচেতন ও দায়িত্বশীল হই।
লেখক: অমিতাভ হালদার,এমবিবিএস শিক্ষার্থী, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ,বরিশাল ৷
২ দিন ৩ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
৩ দিন ২১ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৬ দিন ১৬ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
১৬ দিন ২২ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
২৬ দিন ২৩ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
৩০ দিন ৮ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৩২ দিন ১৭ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
৩৩ দিন ১৩ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে