◼️ইমন হাওলাদার : ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক রাজধানীর সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও বরিশাল বিভাগের প্রধান সংযোগকারী সড়ক, যা পদ্মা সেতু ও ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে সরাসরি সংযুক্ত । এটি যাত্রাবাড়ী থেকে শুরু হয়ে পটুয়াখালী পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে সরু রাস্তা ও অবৈধ যানবাহনের কারণে এখানে দুর্ঘটনা ও যাত্রী ভোগান্তি বেড়েছে। বর্তমানে এটি মূলত দুই লেনের সড়ক, যা যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রায়শই যানজট ও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
সরু বাঁক এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে এই রুটে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে। পদ্মা সেতু চালু হবার পরে এই রুটে গাড়ির চাপ বেড়েছে কয়েক গুন। কিন্তু সেই অনুযায়ী রাস্তার সম্প্রসারণ হয়নি। যার কারণে সরু লেন এবং অতিরিক্ত গাড়ির চাপ মহাসড়কটিকে তৈরি করেছে মানুষ খেকো মহাসড়কে। যেখানে প্রতি নিয়ত বিলীন হচ্ছে শত শত পরিবারের স্বপ্ন। মুহুর্তেই মিলিয়ে যাচ্ছে পরিবারের উপার্জন ক্ষমো একমাত্র ব্যক্তিটি,পরিবার হয়ে পড়ছে নিঃস্ব। গাড়ির বেপরোয়া গতি এবং প্রতিযোগিতামূলক মন মানসিকতা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুন। বিষয়টি বেশি লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের সময়। মানুষ ক্রমান্বয়ে ঘর মুখি হয় পরিবারের সদস্যদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগির জন্য। আর সেই আনন্দ তৈরি হয় শোকে। ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত মহাসড়কের অধিকাংশ অংশে খানাখন্দ, সরু রাস্তা এবং চলমান উন্নয়নের কাজের কারণে দুর্ঘটনা প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদারীপুরের মস্তফাপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসচাপায় অন্তত ৬ জন নিহত হন। বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ (৬ মার্চ, ২০২৬): গৌরনদী উপজেলার কসবা এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ৩ জন আহত হন। পরিবারসহ নিহতের ঘটনা (২ মার্চ, ২০২৬): মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুইজন নিহত এবং চালকসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। মার্চ ২০২৪-এর শেষাংশ: এই সময়ে একাধিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়, যেখানে কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজির সংঘর্ষে একই পরিবারের ২ জনসহ বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। প্রতিনিয়তই বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনার সংখ্যা। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক মূলত ঢাকা থেকে বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলাসহ (বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি) এবং মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ১০টি জেলার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। ঢাকা থেকে বরিশালের যাত্রাপথে সাধারণত মাওয়া-ভাঙ্গা রুট ব্যবহার করা হয়, যা পদ্মা সেতুর কল্যাণে সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। ঢাকা বরিশাল মহাসড়কটি যেন এক ভয়ংকর মরন ফাঁদ। প্রতি নিয়ত এই মহাসড়কে ঝরছে মূল্যবান প্রাণ। সরু রাস্তা আর অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে দুর্ঘটনা এখন এই অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। মরণফাঁদ নয়, আমরা নিরাপদ ও আধুনিক সড়ক চাই। দক্ষিণবঙ্গের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং অকাল মৃত্যু রোধ করতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ৬ লেন এখন সময়ের দাবি। আর কোনো প্রাণহানি নয়,দ্রুত এই দাবি বাস্তবায়ন করার জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ইমন হাওলাদার
লেখক ও সংগঠক
৪ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১ দিন ৭ মিনিট আগে
১ দিন ৪ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
১ দিন ৪ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
১ দিন ৫ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
১ দিন ৬ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে