◾ মাইমুনা আক্তার। :উপার্জন ও খরচ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিটি মানুষকেই জীবনের তাগিদে অর্থসম্পদ উপার্জন করতে হয়, আবার খরচও করতে হয়। বাহ্যিক ভাবে খরচ হওয়াকে কমে যাওয়া মনে হলেও কিছু খরচ এমন আছে, যেগুলো মানুষের রিজিকে বরকতের দরজা খুলে দেয়। তারা যত বেশি খরচ করে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের অর্থসম্পদ আরো বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ বলেন, তুমি ব্যয় কর, হে আদম সন্তান! আমিও তোমার প্রতি ব্যয় করব।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৩৫২)
কোরআন-হাদিসের বহু জায়গায় দান-সদকার উপকারিতা বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষ করে মহান আল্লাহ দান করা ও অভাবগ্রস্তকে সাহায্য করাকে তাঁর সত্কর্মপরায়ণ বান্দাদের বিশেষ গুণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইতঃপূর্বে এরাই ছিল সত্কর্মশীল। তারা রাতের সামান্য অংশই অতিবাহিত করত নিদ্রায়, আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা চাওয়ায় রত থাকত। আর তাদের ধনসম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ১৬-১৯)
এই আয়াতে বোঝা যায়, মানুষের উপার্জিত সম্পদে কিছু মানুষের হক আছে। আল্লাহর যেসব বান্দারা আল্লাহর আদেশ পালন করতঃ সেই হক আদায় করে, মহান আল্লাহ তাদের রিজিকে বরকত দিয়ে দেন। তারা যতটুকু ব্যয় করে, ইহকাল ও পরকালে তারা এর চেয়ে বহু গুণে ফেরত পায়।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, ফলে তিনি তার জন্য বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন? আর আল্লাহ সংকীর্ণ করেন ও প্রসারিত করেন এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরানো হবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৪৫)
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সঙ্কুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় কর তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা, আয়াত: ৩৯)
শুধু তাই নয়, তাদের দৈনন্দিন কাজে আসমানি সাহায্য আসে। কঠিন বিপদাপদ থেকে সহজে মুক্তি পায়। ইবনে উমার (রা.) বর্ণনা করেন, তার শব্দমালা এরূপ— ‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ হলো আনন্দ দানের নিমিত্তে তোমার মুসলমান ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করা, অথবা তার বিপদ দূর করা, অথবা তার মনের দুশ্চিন্তা দূর করে দেওয়া অথবা তার ঋণ পরিশোধ করা।’ (আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, হাদিস: ৪০০৬)
যারা আল্লাহকে খুশি করার আসায় অপর মুসলমানের সুখ-দুঃখে নিঃস্বার্থ ভাবে এগিয়ে আসে, মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়। তাদের গুনাহমুক্ত হওয়ার জন্য সহায়ক হয়।
হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা এক টুকরা খেজুর দিয়ে হলেও জাহান্নামর আগুন থেকে বাঁচ।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৫৪০) এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, ঈমানদারের দান-সদকা তাদের পরকালের সাজাকে প্রশমিত করে। দান-সদকা মানুষকে পাপমুক্ত হতে সাহায্য করে। আল্লাহর ফেরেশতারা দাতাদের জন্য কল্যাণের দোয়া করে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন। (বুখারি, হাদিস: ১৪৪২)
ফলে যারা নিয়মিত দান-সদকা করে, তারা তাদের রিজিকে ও জীবনে অন্যতম বরকত ও প্রশান্তি অনুভব করে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি দান-সদকা করার তাওফিক দান করুন।
৭ দিন ৩ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
২২ দিন ২ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
২৩ দিন ৩৯ মিনিট আগে
৩৬ দিন ২১ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
৪০ দিন ৫ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
৫৬ দিন ৩ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৫৯ দিন ২ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৬৫ দিন ৮ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে