সুন্দরবনের ত্রাস জোনাব বাহিনীর তিন সদস্য অস্ত্রসহ আটক: কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বড় সাফল্য ‎ ধুপখালীতে খেলা শুরুর আগেই আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নে মেতেছেন ভক্তরা, বইছে আনন্দের জোয়ার নায়েবের বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির দাবি ১০ গ্রাম গাঁজাসহ থানায় নেওয়া হলো দুইজনকে সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে সাড়ে ১৮ লাখ টাকার মালামাল জব্দ বাবার মৃত্যুর ৩ মাসের মাথায় পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে ঝরলো এসএসসি পরীক্ষার্থী শান্তর প্রাণ শান্তিগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাত কারাগারে শেরপুরে পরিবেশ উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ স্ট্যান্ডিং কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত কচুয়ার ভূঁইয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি পদে মোঃ আঃ কুদ্দুস মিয়া নির্বাচিত অস্ত্রসহ জোনাব বাহিনীর ৩ সদস্য আটক ক্ষেতলালে টানা দুই দিনের দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট; চরম ভোগান্তিতে হাজারো গ্রাহক ‎মোংলায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস্য আটক: উদ্ধার ৪ চোরাই মোটরসাইকেল সীমান্ত এলাকার যুবক-যুবতীদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ শেষে ১৪ বিজিবি কর্তৃক সনদপত্র বিতরণ পলাশকে মাদক মুক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান - গ্রেফতার ১৪ আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদারী কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ লালপুরে কৃষকের পেঁপে বাগান কেটে ফেললো দুর্বৃত্তরা ক্ষতি ৯ লাখ টাকা দুই বছর শারীরিক সম্পর্কের পর প্রতারণার অভিযোগ রেলপথে অসতর্কতার মাশুল, প্রাণ হারালেন এক তরুণ রংপুর বিভাগে লোকসংগীতে প্রথম স্থান অর্জন করল উলিপুরের নিজশ্রী সরকার পৃথিরাই বজ্রপাতের শিকার জেলের মরদেহ উদ্ধার

আজ ৬ ডিসেম্বর ঘোড়াশাল ট্রাজেডি দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর ঘোড়াশাল ট্রাজেডি দিবস 



মোহাম্মদ মিনার হোসেন খান, পলাশ ( নরসিংদী) 



                ভাষার জন্য পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানের বিপক্ষে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছেন।


             আজ ৬ ডিসেম্বর ঘোড়াশাল ট্র্যাজেডি দিবস। দিবসটি এলেই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র ৯দিন বাকি। দেশজুড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কোনঠাসা হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে তৎকালীন ঢাকার কালীগঞ্জ থানাধীন  ঘোড়াশালের আঁটিয়াগাওয়ে ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা। পাক হানাদার বাহিনী  আঁটিয়াগাওয়ের আবুল কাসেমের বাড়িতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়।  বিজয়ের মাসে এই দিনটি এলে আজও এলাকাবাসী শোকে বিহবল হয় পড়ে।


                       স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও ঘোড়াশালের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ রফিক ভূইয়া জানান, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সবেমাত্র মাগরিবের আযান হয়েছে। পাক হানাদার বাহিনী আবুল  কাসেমের বাড়ি দুইদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পাশাপাশি আশেপাশের এলাকার  ১০-১২টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে । ঘটনা আঁচ করতে পেরে আবুল কাসেম পরিবারসহ ঘরের ভিতর একটি মাটির গর্তে লুকিয়ে পড়ে। হানাদাররা বাড়ির বিভিন্ন ঘরের দরজা ভেঙ্গে ৩২ জন নারী পুরুষ শিশুকে উঠানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করায়। আচমকা নরপিশাচদের আগ্নেয়াস্ত্র গর্জে উঠে। ঘটনাস্থলেই শহীদ হয় ১৮ জন, ৪ জন  মারাত্মকভাবে আহত হয়। বাকিরা ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। মাটির গর্তে জ্ঞান হারায় আবুল কাসেম। তিনি প্রাণে বাঁচলেও ঐদিন শহীদ হয় আম্বিয়া খাতুন, মজিদা, আলিমুন বেগম, মালা বেগম, আকমন আলী, মোকছেদ আলী, শিশুপুত্রসহ আয়েশা বেগম, হযরত আলী, নেহাজ উদ্দিন, শাহাজদ্দিন, শাহাজাহান, রহম আলী,আ. হেকিমসহ আরো ৪ জন। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৪বছর, আজ পর্যন্ত আবুল কাসেমের বাড়িতে ঘটে যাওয়া শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে নেওয়া হয়নি কোন সরকারি পদক্ষেপ। 


                 আবুল কাসেম মৃত্যুবরন করেন ৭ বছর হলো। মৃত্যুর আগে তিনি প্রায়ই আফসোস করে বলতেন কত সরকার আসলো গেল কেউই আমার বাড়ির এই ১৮ জন শহীদের নামে কোন একটি স্মৃতি ফলকও করে দিল না। আবুল কাসেমের ছেলে সাত্তার বাবুল বলেন আমি তখন ছোট হলেও সবই পরিষ্কার মনে আছে। আমাদের উঠানে ১৮ জনের মৃতদেহ আহতদের চিৎকারে আমরাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি। তবে আক্ষেপ আমাদের বাড়ির শহীদদের নামে স্মৃতি রক্ষার্থে কোনকিছু আজো হলো না।এমনকি শহীদ পরিবারের মর্যাদাটুকু পেলামনা। আমরা চাই বাড়ির পাশে ১৮ জন শহীদ যে 'গোরস্তানে চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছে, তাদের সম্মান রক্ষায় সরকারের পক্ষ হতে একটা কিছু হোক। 


এদিকে শহীদদের গোরস্তানে ছবি তুলতে গেলে দেখা যায় নিরব নিথর এক গোরস্তান। তবে এলাকার সচেতন মহলের দাবী সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুতসময়ে এই ১৮ জন শহীদদের স্মৃতি রক্ষায়  দ্রুত উদ্যোগ গ্রহন করে।


Tag
আরও খবর