জামালপুরের ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) কার্যালয়ে ভুল বানানে লেখা নামফলক সাঁটিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ভুল বানান সংবলিত লেখার নামফলক দীর্ঘদিন ধরে ওই সার্কেল কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রদর্শিত হলেও সংশ্লিষ্টরা সেটা সংশোধনে আমলে নিচ্ছেন না।
ইসলামপুর থানাসহ থানা এলাকায় ডিগ্রিরচর এবং গুঠাইল পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের তদারকির দায়িত্বে থাকা একজন বিসিএস ক্যাডারের কার্যালয়ে সাঁটিয়ে দেওয়া নামফলকের লেখা বাক্যে বানান ভুলের কারণে বিষয়টি দৃষ্টিকটু ঠেকেছে অনেকের কাছে।
তবে নামফলক ভুল বানানে লেখা হলেও, এটা মানতে রাজি নন সার্কেল কর্মকর্তা এএসপি মো. ইমরুল হাসান। বিপরীতে তিনি নামফলকের লেখা শব্দ শুদ্ধভাবে লেখা হয়েছে মর্মে দাবি করেন।
ভুল বানানে নামফলক দেখে সার্কেল কার্যালয়ে আগত শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবী ভুল বানান শিখছে বলে মন্তব্য সচেতন মহলের।
মনোবিদেরা বলছেন, একজন বিসিএস কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাঁটানো নামফলকে এ ধরনের ভুল বানান বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। বানান ভুল ও ভাষা বিকৃতির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতাকে দায়ী করে অনেকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসলামপুর সার্কেল কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ পথের দরজার সামনের দেওয়ালে সার্কেল কর্মকর্তার নামফলক সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে 'সহকারী পুলিশ সুপার' বাক্যে 'সহকারী' শব্দের স্থলে ভুলভাবে 'সহকারি' শব্দ লেখা হয়েছে। এ ছাড়া সার্কেল কর্মকর্তার নামের প্রথমাংশ 'মোহাম্মদ' শব্দটি সংক্ষিপ্ত করতে বিসর্গ বর্ণ ব্যবহারে করে ভুলভাবে লেখা হয়েছে 'মোঃ'। একইভাবে ভুল বানানে লেখা হয়েছে সার্কেল কর্মকর্তার কক্ষে সাঁটানো নামফলকেও।
এবিষয়ে ইসলামপুর সার্কেল কর্মকর্তা এএসপি মো. ইমরুল হাসান বলেন, 'বাংলা একাডেমি অনেক শব্দের বানান পরিবর্তন করেছে। সেকারণে 'সহকারী' শব্দটি বর্তমানে লেখা হয় 'সহকারি' বানানে। এটা ভুলের কিছু নয়।'
জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আব্দুল হাই আল হাদী বলেন, 'সহকারী' শব্দের স্থলে 'সহকারি' লেখাটা মারাত্মক ভুল। কারণ 'সহকারী' শব্দটি ব্যক্তিবাচক। এ ছাড়া বিসর্গ একটি স্বাধীন বর্ণ। সেকারণেই ব্যাকরণের নিয়মানুযায়ী 'মোহাম্মদ' কিংবা কোনো শব্দের সংক্ষিপ্তকরণে বিসর্গের ব্যবহারের সুযোগ নেই।'
শিশু ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হেফজুল বারী বলেন, বিশেষ করে শিশু-শিক্ষার্থীরা অনেক কিছুই দেখে শেখে। বর্ণমালা শেখার পর যা দেখে, তা-ই বানান করে পড়ার চেষ্টা করে। ফলে দেখা ভুল বানানের ঘেরাটোপ থেকে অনেকেই বেরিয়ে আসতে পারে না।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ মানিক মিয়া বলেন, ‘ব্যাকরণগত ভুল ও বিকৃত বানানের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসাটা জরুরি। যত্রতত্র বাংলা বানানের ভুল ভাষার জন্য অমর্যাদাকর। এ ধরনের ভুল ও বিকৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার বিকল্প নেই।'
৫ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে