জামালপুরের ইসলামপুর থানা প্রাঙ্গণে পোড়ানো হয়েছে ৬ লাখ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ পলিথিন।
পলিথিন পোড়ানোর আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা দাউদাউ করে ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। আগুনে থানা প্রাঙ্গণে গ্যারেজ রাখা স্থানীয় দুই সাংবাদিকের মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে এদুর্ঘটনাটি ঘটে।
এর আগে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে অভিযান চালিয়ে পৌর শহরের বেপারীপাড়া এলাকা থেকে
১২৫ বস্তায় ৩১ হাজার ২৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার করে যৌথবাহিনী। এসময় অবৈধভাবে নিষিদ্ধ পলিথিন মজুত রাখার দায়ে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বেপারীর ছেলে আমিন বেপারীকে (৩৫) আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
উদ্ধার করা এসব পলিথিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে পোড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া নিষিদ্ধ পলিথিন অবৈধভাবে মজুত রাখার দায়ে আটক আমিন বেপারীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তাঁকে সাত দিনের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। জরিমানার টাকা জমা দিয়ে মুক্তি পান আমিন বেপারী।
জনবসতি এলাকায় ও থানা প্রাঙ্গণে পলিথিন পোড়ানোয় নানা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, পলিথিন নিরাপদ স্থানে পোড়ানোর বিকল্প নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, থানা ভবনে জব্দ করা পলিথিনের বস্তা শ্রমিক দিয়ে থানা প্রাঙ্গণে পোড়ানোর জন্য স্তূপ করা হয়। এসময় ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ইমরুল হাসান পলিথিন পুড়ানোর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর একজন পুলিশ সদস্য পেট্টল ঢেলে পলিথিনের স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেন।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজোয়ান ইফতেকার, ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ুম গাজী, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন, এসআই মো. সোহেল রানা এবং এসআই মো. হাবিবুর রহমান।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজোয়ান ইফতেকার থানা প্রাঙ্গণ থেকে চলে যাওয়ার পরপরই পলিথিন পোড়ানোর আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠে। একপর্যায়ে আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে থানার মোটরসাইকেল গ্যারেজসহ থানা প্রাচীর ঘেঁষে নির্মাণ করা পুলিশ কল্যাণ মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ওসিসহ এসআই ও পুলিশ সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রাণপণ চেষ্টা চালান। থানা-পুলিশ মোটরসাইকেল গ্রেজের টিনের বেড়া ভেঙে বেশকিছু মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে পারলেও স্থানীয় দুই সাংবাদিকের দুইটিনমোটরসাইকেল আগুনে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুন নেবাতে থানায় আগত লোকজনও এগিয়ে আসেন। কিন্তু কোনোক্রমেই আগুন নিয়ন্ত্রণে হচ্ছিল না। খবর পেয়ে ইসলামপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
এবিষয়ে ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ইমরুল হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ না করায় তাঁর মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।'
ইসলামপুর থানার ওসি মো. কাইয়ুম গাজী আজকের পত্রিকাকে বলেন 'ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে জব্দ করা নিষিদ্ধ পলিথিন থানা প্রাঙ্গণে পোড়ানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনেন। আগুন যে এত ভয়াবহতার রূপ নেবে, এটা আমাদের অভিজ্ঞতা ছিলো না। ভবিষ্যতে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা হবে।'
স্থানীয় বাসিন্দা দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার জামালপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক খাদেমুল হক বাবুল বলেন, 'থানা প্রাঙ্গণে গ্যারেজে রাখা আমার এবং আজকের পত্রিকার সাংবাদিক দোলন বিশ্বাসের মোটরসাইকেল পলিথিন পোড়ানো আগুনে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।'
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজোয়ান ইফতেকার বলেন, 'জব্দ করা পলিথিনগুলো থানা ভবনে পুলিশী হেফাজতে রাখা হয়েছিলো। থানা থেকে পলিথিনগুলো নিয়ে দূরে কোথাও পোড়ানো হলে, পলিথিন খোয়া যাওয়ার শঙ্কা ছিলো। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে হয়। যার ফলে থানা প্রাঙ্গণেই পলিথিনগুলো আগুনে পুড়ানো হয়।'
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ এ এ এম আবু তাহের বলেন, 'পলিথিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। শ্বাসনালীতে জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা ফুসফুসের জটিল রোগ ও স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।'
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী মোহাম্মদ মানিক মিয়া বলেন, 'পলিথিন নিরাপদ দূরুত্বে পোড়ানো খুবই জরুরি। জনবসতি এলাকায় পলিথিন পোড়ানো সমীচীন নয়। এটা আইনের পরিপন্থী।'
৫ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে