মৌলভীবাজার-৩ আসন : ১১ দলীয় জোটে বিভক্তি
মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে ১১ দলীয় জোটে বিভক্তি প্রকট আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ ১১ দিনের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ ভোটের মাঠে তৎপর হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নান। সোমবার দিনব্যাপী নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণায় অংশ নেন আব্দুল মান্নান। এর আগে গত শনিবার বাদ আসর মৌলভীবাজার প্রে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিশাল শোডাউনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার নামেন।
এ আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হলেন খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় কমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের মাওলানা আহমদ বিলাল। এ জোটের প্রধান শরিক দল জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানকে গত ২০ জানুয়ারি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। ফলে আইনি জটিলতায় জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা বহাল থেকে যায়। এদিকে গত ২১ জানুয়ারি আব্দুল মান্নানকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হলেও গত ১১ দিন তাকে নির্বাচনি মাঠে দেখা যায়নি। দীর্ঘ এই সময় পর হঠাৎ ৩১ জানুয়ারি বড় ধরনের শোডাউনের মাধ্যমে তার সরব উপস্থিতিতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। এতে ১১ দলীয় জোটে বিভক্তি এবং চরম অসন্তুষ দেখা দিয়েছে। জোটের দুই প্রার্থীর ভোট ভাগাভাগিতে নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের পাল্লা ভারী হয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা।
তবে ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে দেয়াল ঘড়ি মার্কার প্রার্থী আহমদ বিলাল পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় নেমেছেন। মাঠে ময়দানে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন, আমাকে জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমার মনোনয়নে জোটের শরীক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কামালী ভাই তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে আমার সাথে গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। আমি আশাবাদী যেভাবে গণজোয়ার সৃৃষ্টি হয়েছে আমরা বিজয় আমাদের নিশ্চিত। তিনি আরো বলেন, জোটের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে জামায়াত নেতার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করা এবং জনসংযোগ করায় তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃত। তিনি আরও বলেন, শুরুতে জামায়াতের প্রার্থী প্রচার করেন নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে রাখায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। আর এখন তিনি জোটের নির্দেশ অমান্য ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে শোডাউন করেছেন। এটা কীসের আলামত বহন করে?
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইয়ামীর আলী বলেন, দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে জামায়াত প্রার্থীর প্রতীক সরানোর আবেদন করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন প্রতীক না সরানোর ফলে তিনি বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন। আর অন্যান্য প্রশ্নের জবাব ১২ ফেব্রæয়ারির পর দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নান বলেন, নির্বাচন কমিশনের ফয়সালা মতে আমি বৈধ প্রার্থী তাই গণসংযোগ ও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে শোডাউন করছি, নির্বাচনী প্রচারণা করছি। তিনি আরো জানান, মৌলভীবাজার-৩ আসনটি ১১ দলীয় জোট প্রার্থীদের জন্য প্রকাশ্যে উন্মুক্ত না হলেও অনেকটা উন্মুক্তের মতো।
অপরদিকে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার শহরের স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে মৌলভীবাজা-৩ আসনের প্রার্থী খেলাফত মজলিস নেতা আহম বিলাল ১৫ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। এসময় ১১ দলীয় জোটেরর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের আহমদ বিলাল বলেন, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর জনপদকে একটি পরিকল্পিত, উন্নত ও পরিবেশবান্ধব নিরাপদ এলাকা আর শহরকে যানজটমুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন এবং ডিজিটাল শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমি প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। তার ঘোষিত ইশতেহারের মধ্যে রয়েছে মৌলভীবাজার রাজনগরের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার সুনিশ্চিত করা। বয়স্ক ও শিশু ভাতা নিশ্চিত করা। ভূমিহীন, অসহায়দের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজ, রাজনগর ডিগ্রি কলেজ, মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদরাসা, রাজনগর দারুসসুন্নাহ ফাজিল মাদরাসা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষক সংকট দূর করে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা। কওমি মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও পড়াশোনার মান আরো বৃদ্ধি করার চেষ্টা করা উলামাদের পরামর্শে। মৌলভীবাজার সদরে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালোভাবে সংসদে উত্থাপন ও বাস্তবায়ন করা। কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র প্রবাসে গমনেচ্ছুক যুবকদের জন্য একটি আধুনিক ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা যাতে তারা দক্ষ হয়ে বিদেশ যেতে পারেন। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু করা। গরিব রোগীদের জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড এবং স্বল্পমূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করা। মাদকমুক্ত সমাজ মাদকমুক্ত করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও তরুণদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ জননিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স। সংখ্যালঘুদর জানমালের নিরাপত্তা এবং সকল মা-বোনের ইজ্জত রক্ষায় সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগ করা। বর্ষাকালে শহরের প্রধান সড়কগুলো ও প্রতিটি বাজারের রাস্তার পানি জমা রোধে একটি মাস্টার ড্রে ড্রেনেজ সিস্টেম' বাস্তবায়ন করা। পৌর এলাকার নাগরিক সেবাগুলো ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের আওতায় এনে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা এবং রাজনগর উপজেলাকে পৌরসভায় উন্নীত করা। যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যাবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে কুসুমবাগ ও চৌমুহনা ও বেরীরপার মোড়ের তীব্র যানজট নিরসনে সমীক্ষা সাপেক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ফ্লাইওভার বা বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মাণ। বাস ও ট্রাক টার্মিনাল শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে শহরের বাইরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত কেন্দ্রীয় বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মান ও স্থানান্তর করা। সিএনজি ও ইজি-বাইক স্ট্যান্ড: যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করে নির্দিষ্ট পার্কিং জোন তৈরি করা। সদর উপজেলায় দ্বিতীয় বিসিক শিল্প নগরী স্থাপন করে স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। শেরপুর ইকোনমিক জোনকে দ্রæত কর্মমুখর করে তোলা। তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ে দক্ষ করতে একটি আধুনিক হাই-টেক পার্ক নির্মাণ করা। রাজানগরে বরফ কল ও কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক কোম্পানি চালু করা। মহিলাদের জন্য ঘরে ঘরে ক্ষুদ্র কুটির শিল্প গড়ে তোলার সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেয়া। হাওর, কাউয়াদীঘী হাওর ও কড়াইয়া হাওর, মনু ও ধলাই তীরবর্তী মানুষের জানমাল রক্ষায় টেকসই বাঁধ ও জলমহালগুলো প্রকৃত মৎস্যজীবীদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। চা বাগান এলাকার স্কুলগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিক সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষায় বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করা। চা শ্রমিকদের চিকিৎসা ও সম্মানি ভাতা নিশ্চিত করা। পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের পর্যটন স্পটগুলো সাজানো ও পরিবেশবান্ধব করা। বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক বিশ্বমানের এবং সমৃদ্ধ করা। পাঁচগাঁও দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রাজনগরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে পাঁচগাঁও গণকবরে একটি জাদুঘর নির্মাণ এবং জেলার ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ। হাওরাঞ্চলে পর্যটনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং রাজনগর ও মৌলভীবাজারে ২ টি শিশুপার্ক করা। সদর উপজেলার ১২টি রাজনগরের ৮ টি ইউনিয়নের প্রতিটি কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ এবং সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সড়ক বাতি নিশ্চিত করা। রাজনগর উপজেলা এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় গ্যাস সংকট দূর করা। কুশিয়ারা নদীর উপর রাজনগর বালাগঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ করা, ধলাই নদীর উপর কামারচাক ইউনিয়নে একটি ব্রিজ নির্মাণ এবং মৌলভীবাজার শহরের কাছ থেকে বালিকান্দী এলাকার দিকে মনু নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা। বিগত কয়েকবছর দেশ ও মানুষের জন্য আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী সবাইকে বিশেষ সম্মান প্রদর্শন। নিহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন ও আহতদের চিকিৎসাসহ ভাতার ব্যাবস্থা করা। সরকারি অফিস আদালতে ঘুষমুক্ত মানবসেবা নিশ্চিত করা।
৫ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে