জামালপুরের ইসলামপুরে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ) কর্মসূচির আওতায় চাহিদার চেয়ে কার্ড কম বরাদ্দ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। ফলে একদিকে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রসহ নানা নদ-নদী ভাঙনকবলিত এই উপজেলার অন্তত অর্ধলক্ষাধিক দরিদ্র মানুষ সরকারের খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে। অন্যদিকে, দারিদ্র্যপীড়িত জনবহুল এই এলাকায় কম বরাদ্দের খাদ্যশস্য সহায়তার কার্ড বিতরণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
জনপ্রতিনিধিদের দাবি, অতিদ্রুত চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ বৃদ্ধি করে অসহায় মানুষের মাঝে যেন খাদ্যশস্য সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।
উপজেলা ত্রাণ শাখা সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ভিজিডি অনুবিভাগের উপপরিচালক (ভিজিডি-২) কাজী মো. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে আসছে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ উপজেলায় ১৩ হাজার ৮৩৪টি কার্ডের বিপরীতে ১৩৮ মেট্টিক টন ৩৪০ কেজি চাল কার্ড বরাদ্দ হয়েছে। এতে একটি কার্ডে পরিবারপতি বিনামূল্যে ১০ কেজি হারে চাল বিতরণ করা হবে।
গত ঈদুল ফিতরে ৪৬ হাজার ৬১ জন সুবিধাভোগীর জন্য চাল বরাদ্দ ছিলো। এবার জনসংখ্যার বৃদ্ধির তুলনায় বাড়তি বরাদ্দের পরিবর্তে কার্ড কম অনুমোদন হওয়ায় সরকারের খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন অন্তত অর্ধলক্ষাধিক দরিদ্র মানুষ।
জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ভিজিএফ সরকারের একটি সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি। এর মাধ্যমে অসহায়, ভূমিহীন এবং কর্মহীন অতিদরিদ্র এবং ঘূর্ণিঝড়, নদী ভাঙ্গন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থসহ মঙ্গা বা চরম দারিদ্র্যের শিকার দুস্থ পরিবারগুলোর মাঝে সাময়িকভাবে খাদ্য সহায়তা হিসেবে পরিবারপ্রতি ১০ কেজি চাল বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়ে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড মেম্বার ও চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সুবিধাভোগীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
উপজেলায় জনসংখ্যা, দরিদ্রতার হার এবং দুর্যোগ পরিস্থিতি অনুযায়ী সুবিধাভোগিদের সংখ্যা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১২টি ইউনিয়নে নিয়ে গঠিত প্রায় পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এ উপজেলায় দুই লাখ ৮২ হাজার ১০৩ জন ভোটার রয়েছেন। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, দশআনীসহ বিভিন্ন নদ-নদী ভাঙনকবলিত
চরাঞ্চল এলাকায় হওয়ায় এখানকার সিংহভাগ মানুষের জীবনমান দারিদ্র্য-পীড়িত। এ উপজেলায় জনসংখ্যার ভিত্তিতে অন্তত ৬০ হাজার কার্ডের চাহিদা রয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোছা. নূর-এ শেফা আজকের পত্রিকাকে বলেন, '১৩ হাজার ৮৩৪টি পরিবারের জন্য ভিজিএফের কার্ড বরাদ্দ হয়েছে। এটা চাহিদার চেয়ে কম। তবে কী কারণে কম বরাদ্দ হয়েছে, সেটা বলতে পারছি না।'
উপজেলার বেলগাছ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, 'আমাদের ইউনিয়নটি যমুনা নদী ভাঙনকবলিত এলাকা। এখানকার বেশির ভাগ মানুষ দরিদ্র। গত বছর চার হাজারেরও বেশি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ কম হওয়ায় এবার মাত্র এক হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া যাবে। এনিয়ে বিপাকে পড়েছি। বরাদ্দ বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।'
কুলকান্দী ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আনিছ বলেন, 'অধিকাংশ এলাকা নদ-নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল।
ভিজিএফ কর্মসূচির সুবিধাভোগী হলো গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কোনো যুক্তিতে এগুলোতে বিতরণ কম হওয়া উচিত নয়। সরকারি কর্মসূচি যদি এভাবে সংকুচিত হয়ে যায়, তাহলে এটা আতঙ্কিত হওয়ার মতো বিষয়। বরাদ্দ বৃদ্ধির বিকল্প নেই।'
ইসলামপুর উপজেলা পরিসংখ্যান তদন্তকারী মো. আতিকুর রহমান বলেন, '২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী এ উপজেলায় জনসংখ্যা তিন লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮ জন। জনসংখ্যা এবং অর্থনৈতিক শুমারীর তথ্যাদি যথারীতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। তবে কী কারণে বরাদ্দ কম অনুমোদন হয়েছে, সেটা বলতে পারছি।'
ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নামজুল হুসাইন বলেন, 'বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।'
জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, 'কম বরাদ্দের বিষয়টি কেউ জানায়নি। এখন জানলাম। বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করা হবে।'
৪ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
১ দিন ১ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
১ দিন ২১ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
১ দিন ২২ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
১ দিন ২২ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
১ দিন ২৩ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে