জামালপুরের ইসলামপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নকল নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে সতর্কীকরণ ব্যানার। কিন্তু এসব ব্যানারে লেখা বাক্য গঠন ও বানান ভুলের কারণে বিষয়টি দৃষ্টিকটু ঠেকেছে অনেকের কাছে।
গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় সারা দেশের ন্যায় উপজেলার ১০টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নকলের প্রবণতা দূর করতে নিজ নিজ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের সতর্কতামূলক দিকনির্দেশনা লেখাসংবলিত ব্যানার কেন্দ্রের প্রধান ফটকে টানিয়ে হয়। নকল প্রতিরোধে সতর্কতামূলক দিকনির্দেশনা প্রচারণার এসব ব্যানারে ’পরীক্ষা’ শব্দসহ ভুলের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। ভুল বানানে ভরা ব্যানার দেখে পরীক্ষার্থীসহ শিশু-কিশোরেরা ভুল বানান শিখছে বলে মন্তব্য করেছে সচেতন মহল। মনোবিদেরা বলছেন, বানান ভুল ও ভাষা বিকৃতির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহীদ মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ বীর উত্তম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রের ফটকে নকল নিরুৎসাহিত করতে টানিয়ে দেওয়া ব্যানারে খোদ ‘পরীক্ষা’ শব্দটি লেখা হয়েছে ‘পরিক্ষা’ বানানে। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বাক্যে ’রাহিম’ শব্দটি লেখা হয়েছে ’রাহীম’। ’এসএসসি’ শব্দটিও লেখা হয়েছে ’এস এস সি’। এ ছাড়া ’বাউন্ডারি’ শব্দ লেখা হয়েছে ’বাউন্ডারী’ ’দাঁড়ানো’ শব্দটি লেখা হয়েছে ’দাড়ানো’ এবং ’হাইস্কুল’ শব্দটি লেখা হয়েছে ’হাই স্কুল’। এ ছাড়া ওই বাক্যটিতে যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়নি।
ইসলামপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা পরীক্ষাকেন্দ্রের ফটকে টানিয়ে দেওয়া ব্যানারে ’নকলমুক্ত’ শব্দটি ভুলভাবে লেখা হয়েছে ’নকল মুক্ত’। ’পরীক্ষাকেন্দ্র’ শব্দটি লেখা হয়েছে ’পরীক্ষা কেন্দ্র’ এবং কেন্দ্রকোর্ড শব্দটিও লেখা হয়েছে ’কেন্দ্র কোর্ড’।
এ ছাড়া ’মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ’ বাক্যটিতে একদিকে ব্যবহার করা হয়নি যতিচিহ্ন। অন্যদিকে ’সম্পূর্ণ’ শব্দটি প্রয়োগ করায় বাক্যটি ব্যাকরণসিদ্ধ হয়নি।
সরকারি ইসলামপুর কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক মাহমুদা সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ’পরীক্ষা’ শব্দটি ’পরিক্ষা’ লেখা হলে, সেটা ভুল।
ইসলামপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিবের দায়িত্বে থাকা মরাকান্দি নছিমুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. এনামুল হক বলেন, ’ব্যানারে লেখা ভুল হয়েছে কি না, সেটা আমার নজরে পড়েনি।’
শহীদ মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ বীর উত্তম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে সচিবের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, ’লেখা ভুল হয়েছে কি না, সেটা ব্যানার দেখে বলতে হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, কল রিসিভ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজোয়ান ইফতেকার বলেন, ’পরীক্ষাকেন্দ্রে টানানো ব্যানারে ভুলভাবে লেখা হয়েছে কি না, সেটা খোঁজ নিয়ে ভুল সংশোধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’
শিশু ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হেফজুল বারী বলেন, ’শিশুরা অনেক কিছুই দেখে শেখে। বিশেষ করে বর্ণমালা শেখার পর যা দেখে, তা-ই বানান করে পড়ার চেষ্টা করে। ফলে যাত্রাপথে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা ভুল বানানের ঘেরাটোপ থেকে অনেকেই বেরিয়ে আসতে পারে না।’
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ মানিক মিয়া বলেন, ‘বিকৃত বানান ও ব্যাকরণগত ভুলের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যত্রতত্র বাংলা বানানের ভুল ভাষার জন্য অমর্যাদাকর। এ ধরনের ভুল ও বিকৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়া অত্যাবশ্যক।’
২ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে