গোয়ালন্দে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত করা সেই কথিত ছাত্র নেতাকে গ্রেফতারের দাবি
মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান।।
গোয়ালন্দে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত করা সেই কথিত ছাত্র নেতাকে গ্রেফতারের দাবি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষিকা শামসুন্নাহার পপির পাশে অবশেষে দাড়ালো জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।
তারা লাঞ্চনাকারী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কথিত নেতা শরিফ সরদারকে (২৭) গ্রেফতার ও শাস্তির প্রদান এবং কর্মক্ষেত্রে শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ৩ মে রবিবার বিকাল ৩ টায় রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি আঞ্জুমান আরা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাজমুল ইমাম। মানববন্ধন শেষে শিক্ষকরা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিটি প্রদান করেন। এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ বাবর আলী, সাধারণ সম্পাদক নাসরিন আক্তার ইতি সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১ মে গোয়ালন্দ উপজেলার শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষনা করেও অদৃশ্য চাপে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
শিক্ষক লাঞ্চিতের বিষয়টি নিয়ে ২৯ এপ্রিল বুধবার যুগান্তর অনলাইনে সচিত্র এবং ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে করে সংশ্লিষ্ট সকল মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।
এর আগে ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষকের সাথে ওই ছাত্রের অসদাচরণ ও হুমকি প্রদানের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
অভিযুক্ত শরীফ সরদার উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বরাট গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য শাজাহান সরদারের ছেলে।
মানববন্ধনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সহ সভাপতি আঞ্জুমান আরা বলেন , ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক শিক্ষকতার পাশাপাশি দেবগ্রাম ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ২৬ এপ্রিল রবিবার মাতৃত্বকালীন ভাতার ত্রুটিপূর্ণ একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে ওই প্রধান শিক্ষককে চাপ দেন। কিন্তু তিনি স্বাক্ষর না করাতে অভিযুক্ত যুবক শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষককে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি প্রদান করেন এবং জোর করে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে তাকে আটকে রাখেন। এ ঘটনায় স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থী, অন্যান্য শিক্ষকমন্ডলী ও উপস্হিত কয়েকজন অভিভাবক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আমরা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছি। সেইসাথে কর্মক্ষেত্রে শিক্ষকদের নিরাপত্তা বিধানসহ অভিযুক্ত যুবককে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজবাড়ী জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মূখ্য সংগঠক আকিব সরদার জানান, শরীফ সরদারকে গোয়ালন্দ উপজেলায় বৈষম্য বিরোধী কোন আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা কখনো দেখিনি। হঠাৎ কোথা হতে আবির্ভাব হয়ে ৬ মাস পর তিনি নিজেকে ওই আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে থানায় এসে মামলা দায়ের করেন।
একজন প্রধান শিক্ষকের সাথে তার চরম অসদাচরণ ও লাঞ্চিত করার ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।