সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় অপহরণের শিকার পশু চিকিৎসক অনিমেষ পরমান্যকে অবশেষে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদল নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অপহৃত অনিমেষ পরমান্যকে সোমবার (৪ মে) সকালে সুন্দরবনের ধোলাই খাল এলাকা থেকে একটি জেলে নৌকার মাধ্যমে মীরগাং এলাকায় আনা হয়। পরে সেখান থেকে মোটরসাইকেলে করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুন্দরবন বাজারে পৌঁছে দেওয়া হয়। উদ্ধার পরবর্তীতে তাকে দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, অপহরণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন—মীরগাং গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে যুবদল নেতা মাহামুদুল হাসান ডন (৩২), একই গ্রামের আব্দুর জব্বার (৩৫) এবং শাহীনুর গাজী (৩০)। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে, যাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অপহৃতের পরিবার জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অনিমেষ পরমান্যকে সুন্দরবন বাজার থেকে অসুস্থ গরুর চিকিৎসার কথা বলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে সুন্দরবনের ভেতরে নিয়ে গিয়ে তার নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপহরণের পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং প্রশাসন উদ্ধার অভিযানে নামে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অপহরণকারীদের নির্দেশনা অনুযায়ী রবিবার রাতে তারা সাত লাখ টাকা নিয়ে মীরগাং এলাকায় যায়। তবে পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে অপহরণকারীরা সরাসরি টাকা নেয়নি এবং পরবর্তীতে চাপের মুখে অপহৃত ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
অপহৃত অনিমেষ পরমান্য জানান, আশরাফ আলী নামের এক ব্যক্তি তাকে ভারতীয় গরুর চিকিৎসার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায় এবং পরে অপহরণকারীদের হাতে তুলে দেয়। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপহরণের এই ঘটনা ঘটানো হয়। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় একটি চক্র এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমান জানান, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বনবিভাগ যৌথভাবে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিলে অপহরণকারীরা ভীত হয়ে অপহৃতকে ছেড়ে দেয়। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হবে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, গত ২ মে সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর অনিমেষ পরমান্য নিখোঁজ হন। পরে তার মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল।
৩৬ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে