সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬তম তিরোধান দিবস ও দিনাজপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী রায় সাহেব বাড়ি কেন্দ্রীয় লোকনাথ মন্দিরের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে দিনাজপুর শহরের রায় সাহেব বাড়ি লোকনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দিনাজপুর সদর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জীবনাদর্শ মানবতা, সহমর্মিতা, সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা দেয়। তাঁর আদর্শ শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সকল ধর্মের মানুষের সমঅধিকার ও নিরাপদে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান দিবস আমাদের মানবসেবা ও কল্যাণমূলক কাজে আরও বেশি আত্মনিয়োগের অনুপ্রেরণা জোগায়।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক মামুনুর রশীদ কচি, দিনাজপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান জিয়া, জেলা বিএনপি সদস্য মোস্তফা কামাল মিলন, দিনাজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. রুবেল ইসলাম, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের দিনাজপুর জেলা শাখা সভাপতি উত্তম কুমার রায়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও
অনুষ্ঠানে মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় লোকনাথ মন্দিরের সভাপতি সমর দাস, গণেশতলা মন্দিরের স্বপন কুমার বোস, ১৩৬তম তিরোধান দিব😁স উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক উদ্দীপ ভৌমিক, লোকনাথ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক মানবেন্দ্র দাস মনোজ, প্রদীপ আগরওয়াল, গোবিন্দ নারায়ণ ভট্টাচার্য, চিত্ত ঘোষ, রত্না মিত্র, অর্পনা সরকার ও সারথী ঘোষসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় মন্দির প্রাঙ্গণে অসংখ্য ভক্ত, পূজারি ও সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে ধর্মীয় আলোচনা, প্রার্থনা ও বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়। ভক্তরা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং দেশ, জাতি ও মানবকল্যাণ কামনায় প্রার্থনায় অংশ নেন।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দিনাজপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মন্দির প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। আয়োজকরা জানান, তিরোধান দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালিত হবে।