লোহাগাড়া উপজেলার গৌড়স্থান মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব সদস্য মামুন আহমদের ছেলে মাহদির যুক্তরাজ্য গমন উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা *উখিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে ২০ হাজার ইয়াবা ও একটি ইজিবাইকসহ রোহিঙ্গা মাদক কারবারি গ্রেপ্তার* বড়াইগ্রামে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত প্রেসক্লাব যশোর নির্বাচন: দায়িত্ব নিল সাবু-আনিছ কমিটি, কার্যক্রম শুরু তৃতীয়তলায় চৌদ্দগ্রামে সাংবাদিক সমিতির বৃক্ষ বিতরণ, উৎসাহিত শিক্ষার্থীরা ইউজিসি চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন পবিপ্রবির শিক্ষক ডাঃ আমির হামজা মাসুম প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ পীরগাছায় কালীগঞ্জ মাদকবিরোধী কমিটির তালিকা প্রশাসনের কাছে জমা ঈশ্বরগঞ্জে ১১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই নৈশ প্রহরী লাখাইয়ে কর্মরত সাংবাদিকদেরসঙ্গে নবাগত ইউএনও এর সাথে মতবিনিময় ও সদ্য বিদায়ী ইউএনও এর বিদায় লাখাইয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহেদ আলীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন, বিভিন্ন মহলের শোক। লালপুরে ৩০ পরিবারের বাড়িঘর নদী গর্ভে পরিবেশ রক্ষায় লংকাবাংলা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ: ফলজ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি ২০২৬ দৈনিক মজলুমের কণ্ঠের ৩২তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে কেক কাটা ও দোয়া অনুষ্ঠান বরিশাল কাউনিয়ায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ইয়াবা-গাঁজা ও লাখো টাকাসহ আটক ৮ সংস্কারহীন সড়ক, দুর্ভোগে লোহাগাড়ার মানুষ আদমদীঘিতে বর্নাঢ্য আয়োজনে বিএনপি'র ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন আদমদীঘিতে সড়কে ছিনতাই কালে একজন আটক সান্তাহারে র‌্যাবের অভিযানে ১শ বোতল ফেয়ারডিলসহ দুই নারী আটক

লোহাগাড়ায় থামছে না পাহাড় ও মাটি কাটা: প্রকৃতির বিরুদ্ধে এক নীরব যুদ্ধ

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম 

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম ধারক পাহাড়ি অঞ্চলগুলো আজ ক্রমেই মানুষের লোভের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকায় অব্যাহত পাহাড় ও মাটি কাটার ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রা লাভ করেছে। প্রশাসনের অভিযান, পরিবেশবাদীদের সতর্কতা এবং আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই ধ্বংসযজ্ঞ থামছে না। ফলে প্রকৃতি, পরিবেশ এবং জননিরাপত্তা সবকিছুই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

পাহাড় কেবল মাটির উঁচু স্তূপ নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত ব্যবস্থা। পাহাড় বৃষ্টির  পানি ধারণ করে, ভূমিধস প্রতিরোধ করে, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে এবং স্থানীয় জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করে। অথচ ইটভাটা, আবাসন প্রকল্প, সড়ক নির্মাণ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে নির্বিচারে পাহাড় কেটে সমতল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিজমি ও পাহাড়ের পাদদেশ থেকে মাটি কেটে বিক্রি করার প্রবণতাও বেড়েছে।

লোহাগাড়ার বিভিন্ন এলাকায় রাতের অন্ধকারে কিংবা দিনের বেলাতেই প্রকাশ্যে চলছে মাটি ও পাহাড় কাটার কাজ। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাহাড়ের বুক চিরে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির মৌসুমে ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতীতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভূমিধসে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকেও যেন শিক্ষা নেওয়া হচ্ছে না।

পরিবেশ ধ্বংসের এই কর্মকাণ্ডের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্যের ওপর। পাহাড়ি বনাঞ্চল ও গাছপালা ধ্বংস হওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখির আবাসস্থল হারিয়ে যাচ্ছে। মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হওয়ায় কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে জলাধার ও খাল-বিল ভরাট হয়ে স্থানীয় পানি প্রবাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রশ্ন হলো, এত আইন-কানুন থাকার পরও কেন এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না? এর পেছনে রয়েছে অসাধু চক্রের প্রভাব, দুর্বল তদারকি এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে দায়সারা মনোভাব। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন স্পষ্টভাবে পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু আইনের কার্যকর প্রয়োগ না থাকলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

এ অবস্থায় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে হবে যে পাহাড় রক্ষা মানেই নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। উন্নয়নের নামে প্রকৃতিকে ধ্বংস করা কোনো টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না।

লোহাগাড়ার পাহাড় ও মাটি কাটা বন্ধ করা আজ শুধু পরিবেশ রক্ষার দাবি নয়। এটি মানুষের জীবন, জীবিকা এবং আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তার প্রশ্ন। প্রকৃতির বিরুদ্ধে এই নীরব যুদ্ধ বন্ধ না হলে একদিন এর ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে সবাইকে। এখনই সময় পাহাড় বাঁচানোর, প্রকৃতি রক্ষার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার। নইলে উন্নয়নের স্বপ্নের আড়ালে আমরা হারিয়ে ফেলব আমাদের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ।





আরও খবর