মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
আষাঢ়-শ্রাবণ পেরিয়ে ভাদ্রের দিনগুলোতে প্রকৃতিতে চলছে রোদ- বৃষ্টির এক অদ্ভুত খেলা। কখনো চোখ ঝলসানো রোদ, আবার কিছুক্ষণ পরই আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা। সকাল থেকে তীব্র রোদের কারণে অনেক বয়স্ক মানুষকে মাথার ওপর ছাতা নিয়ে চলতে দেখা যায়। বিকেল গড়াতেই বদলে যায় প্রকৃতির চেহারা আকাশে মেঘ জমে শুরু হয় বৃষ্টি। এমন বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার মধ্যেই সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা চলছে।
তবে প্রকৃতির এই রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সংস্কারহীন সড়ক। বর্ষার শুরুতেই অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় যেসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল, বর্ষা প্রায় শেষের দিকে এলেও সেসব সড়কের অনেকগুলোতে এখনো সংস্কারের উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।
লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও মাটি ও কঙ্কর সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। আবার কোথাও সড়কের দুই পাশ ভেঙে গিয়ে সরু হয়ে পড়েছে চলাচলের পথ। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে যায়। তখন বোঝার উপায় থাকে না কোথায় সড়ক, আর কোথায় গর্ত। যানবাহন চলাচলের সময় কাদা-পানি ছিটকে পথচারীদেরও দুর্ভোগে পড়তে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও নাজুক হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে ভারী যানবাহন চলাচল ও বৃষ্টির পানিতে সড়কের ক্ষয় আরও বেড়ে যায়। এতে একদিকে যেমন যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
এর মধ্যে বিশেষভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে লোহাগাড়া থেকে এম চর হাট হয়ে গৌড়স্থান ও কেয়াজুর পাড়া যাওয়ার সড়কটি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বর্তমানে অনেকটা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ এবং শত শত বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা এ সড়কের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
বর্ষার বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনকে সড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে হয়, ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষসহ ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
শুধু একটি সড়ক নয়, লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক একইভাবে সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে। কোথাও দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ভাঙা অংশ মেরামত করা হয়নি, আবার কোথাও সাময়িকভাবে মাটি-কঙ্কর ফেলে দায়সারা সংস্কার করা হলেও বৃষ্টিতে তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। ফলে স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পুটিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাতকানিয়া আইনজীবী সহকারী সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী এই প্রতিবেদককে বলেন, মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। বর্ষার আগেই প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।
তিনি আরও বলেন, সড়ক যোগাযোগ একটি এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। একটি সড়ক ভাঙাচোরা থাকলে শুধু যাতায়াতেই সমস্যা হয় না, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবাসহ সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে। তাই দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিশ্রুতি নয়, এখন তারা সড়কের বাস্তব সংস্কার দেখতে চান। বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করা না হলে সামনে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
সচেতন মহলের দাবি, লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ সড়ক শুধু ইট-পাথর ও বিটুমিনের একটি পথ নয়। এ পথের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবন, জীবিকা, স্বপ্ন ও প্রতিদিনের চলার গল্প। সেই পথ যদি ভাঙাচোরা ও অনিরাপদ হয়ে পড়ে, তাহলে থমকে যায় একটি জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও।
১ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে