দিনাজপুরে শঙ্খধ্বনিতে মুখর ঢেপা নদী,নৌযাত্রায় কান্তজিউ বিগ্রহ হকৃবিতে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্জিক্যাল কিট বক্স বিতরণ চলতি মাসে ৩ লঘুচাপ, স্বল্পমেয়াদি বন্যার আভাস অসুস্থ জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি দেওয়ানগঞ্জের ডাংধরায় ৮৮ বোতল ভারতীয় মদসহ আটক ১ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, নেতৃত্বে জয়নুল আবদিন ফারুক নন্দীগ্রামে নানা আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বৃহত্তর নোয়াখালীর রেল সেবার উন্নয়নে রেল সচিব কে নোয়াখালীবাসীর পক্ষে স্মারকলিপি প্রদান মধুপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রোগী সেজে সোনার চেইন চুরি, এক্সরে করে পেটে শনাক্ত বর্ণাঢ্য আয়োজনে দেওয়ানগঞ্জের সানন্দবাড়ীতে বিএনপি'র ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত বাঘায় ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা এর শুভ উদ্বোধন ডিবি পরিচয়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ১২ লাখ টাকা ছিনতাই শ্রীমঙ্গলে কলার আড়ত থেকে উদ্ধার বিষধর 'সবুজ ফণিমনসা' সাপ বিএনপি হলো জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতিষ্ঠান : এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু মামলা-আপত্তি সত্ত্বেও নামজারি করায় চন্দনাইশ এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ লাখাইয়ে ২টাকায় সিঙ্গারা,পেয়াজু, ৩০ বছর ধরে সুকময় দাসের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। আক্কেলপুর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত. রামগড়ে বিএনপি'র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন স্বৈরাচার দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে পালিয়েছে : ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন

‎তারুণ্যের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ছবি সংগৃহীত

মোংলা প্রতিনিধিঃ 

‎শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত অকালপ্রয়াত প্রতিভার স্মৃতি।একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মোংলার মিঠাখালীতে শোভাযাত্রা, স্মরণসভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

‎বাঙালি সাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী ও তারুণ্যের প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রবিবার যথাযোগ্য মর্যাদায় মোংলার মিঠাখালীতে পালিত হয়েছে। সকাল ৯টায় রুদ্র স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শোভাযাত্রা শেষে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং পরবর্তীতে কবির নিজ বাসভবনে বিশেষ দোয়া ও মিষ্টান্ন বিতরণের আয়োজন করা হয়। অকালপ্রয়াত এই কবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা প্রমাণ করে বাংলা সাহিত্যের মূলধারায় রুদ্রের প্রভাব আজও কতটা সুগভীর ও অটুট।

‎সকাল ১০টায় কবির বাসভবনে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জীবন ও কর্মের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন। রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি সাংবাদিক রুদ্র অনুজ সুমেল সারাফাতের সভাপতিত্বে এবং আসাদুজ্জামান টিটোর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুদ্র স্মৃতি সংসদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি ও মিঠাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহামুদ হাসান। আলোচকরা রুদ্রকে কেবল একজন কবি হিসেবে নয়, বরং সমাজের বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে তুলে ধরেন। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নূর আলমসহ অন্যান্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক নেতারা মন্তব্য করেন যে, রুদ্রের কবিতা ও গান কেবল শিল্পকর্ম নয়, বরং তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারুণ্যের এক বলিষ্ঠ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। ভুক্তভোগী ও অনুসারীদের মতে, বর্তমান সময়ে যখন বুদ্ধিবৃত্তিক আপোষকামিতা প্রকট, তখন রুদ্রের আদর্শ ও তাঁর লেখনীর প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।

‎অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে রুদ্রের গড়া সংগঠন 'অন্তর বাজাও'-এর শিল্পীরা কবির লেখা ও সুরারোপিত কালজয়ী গান পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত শ্রোতাদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। সংশ্লিষ্ট আয়োজক ও বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটকালে রুদ্র যে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রশাসনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সুশীল সমাজের সদস্যরা কবির কর্মকে সংরক্ষণের ওপর জোর দেন এবং ভবিষ্যতে তাঁর সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বক্তারা বলেন, রুদ্রের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখা মানেই হলো দেশের সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তাকে বাঁচিয়ে রাখা।

‎রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মৃত্যুর ৩৫ বছর পরেও তাঁর জনপ্রিয়তা বা প্রাসঙ্গিকতা বিন্দুমাত্র কমেনি, বরং সময়ের আবর্তে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বল্পকালীন জীবনে রচিত সাতটি কাব্যগ্রন্থ এবং তাঁর অবিস্মরণীয় গান 'ভালো আছি ভালো থেকো' দুই বাংলায় যে গভীর ছাপ ফেলেছে, তা তাঁকে অমরত্ব দিয়েছে। ২০২৪ সালে মরণোত্তর একুশে পদক প্রাপ্তি তাঁর দীর্ঘদিনের স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মোংলার এই স্মরণসভা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি কবির আদর্শকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি নিরন্তর প্রচেষ্টা। যতদিন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য থাকবে, ততদিন রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ তাঁর সৃষ্টিশীল সত্তা ও বিদ্রোহের চেতনায় বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন, এটাই আজকের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য।

আরও খবর