জামেয়া ইসলামিয়া শ্রীমঙ্গলের সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিবৃতি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জামেয়া ইসলামিয়া মাদরাসার এক অস্থায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নয় বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে অতিমাত্রায় শাসন ও পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক রাকিবুল হাসান মেরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সন্ধায় এক বিবৃতিতে জামেয়া ইসলামিয়া শ্রীমঙ্গল কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযোগের বিষয়ে অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিবারের উপস্থিতিতে জরুরি সভা আহ্বান করে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসা ও সার্বিক আইনি সহায়তার প্রতিশ্রæতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঘটনার পরপরই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং আইনানুগ সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো শিক্ষক, কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক, পাশবিক নির্যাতন কিংবা অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হলে তার দায়ভার সম্পূর্ণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির। এ ধরনের কর্মকাÐ জামেয়ার আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং এ ধরনের অপকর্মকে কর্তৃপক্ষ কখনোই প্রশ্রয় দেয় না।
তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, অপরাধ বা ভুল ব্যক্তির নিজস্ব, তার দায়ভার পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায় না। তিন দশকের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও সুশিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলেছে, ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রতিষ্ঠানটি এ জনপদে নারী শিক্ষাসহ দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে অপরিসীম অবদান রেখে চলেছে। ইতোপূর্বে এ ধরণের কোনো ঘটনাার অবতরণ হয়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গ্রেফতার আসামি রাকিবুল ইসলাম মেরাজ শ্রীমঙ্গল শহরতলীর সুনগইড় এলাকার রফিক মিয়া ও সফিনা বেগমের ছেলে। তিনি ওই মাদ্রাসা মসজিদের খাদিম ও অস্থায়ী শিক্ষক ছিলেন।
এদিকে এ ঘটনার বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা রোববার থানায় মামলার দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে আসামিকে ওইদিন আটক করে থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অপরাধ স্বীকার করেছেন। পরবর্তী আদালতের মাধ্যমে গতকাল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
১০ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
১৪ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
১৬ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১৬ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে