মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গত আগস্ট মাসে লোকালয় থেকে বিপন্ন ও সংকটাপন্ন প্রজাতির ২০টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে ‘বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন’। ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, বাসাবাড়ি ও হাওরাঞ্চল থেকে এসব বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, চিকিৎসা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটি আহত ও অসুস্থ বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলে। পরে বন বিভাগের সহযোগিতায় এসব প্রাণীকে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, আগস্টে উদ্ধার করা প্রাণীগুলোর মধ্যে অজগর, লজ্জাবতী বানর, উল্টোলেজি বানর, শঙ্খচিল, তক্ষক এবং বিভিন্ন প্রজাতির বিরল সাপ রয়েছে। অসুস্থ ও আহত প্রাণীগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা শেষে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু প্রাণী সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর বনের নিরাপদ আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট হাইল হাওর থেকে একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। ৩ আগস্ট শহরের আরামবাগ ও উত্তর ভাড়াউড়া এলাকা থেকে দুটি অজগর এবং ৪ আগস্ট পূর্বাশা আবাসিক এলাকা থেকে একটি বেত আঁচড়া উদ্ধার করা হয়। ৬ আগস্ট হাইল হাওর থেকে একটি মৃত অজগর, ৮ আগস্ট শাহবাগ এলাকা থেকে একটি শঙ্খচিল উদ্ধার করা হয়। এরপর ১৩ আগস্ট মৌলভীবাজার রোডের ৫ নম্বর পুল থেকে একটি অজগর এবং ১৪ আগস্ট হাইল হাওর থেকে আরও একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। ১৫ আগস্ট নোয়াগাঁও থেকে একটি দাঁড়াশ সাপ, উত্তর ভাড়াউড়ার ৫ নম্বর বস্তি থেকে একটি লজ্জাবতী বানর এবং বারিধারা আবাসিক এলাকা থেকে একটি বিরল প্রজাতির সাপ উদ্ধার করা হয়। ১৯ আগস্ট মাঝেরগাঁও থেকে একটি শঙ্খিনী সাপ, ২১ আগস্ট শ্যামলী আবাসিক এলাকা থেকে একটি উল্টোলেজি বানর এবং ২৫ আগস্ট পূর্বাশা আবাসিক এলাকা থেকে আরেকটি শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার করা হয়।
২৬ আগস্ট ভাড়াউড়া বাগান থেকে একটি অজগর এবং সিন্দুরখান কুঞ্জবন থেকে একটি সাইবোল্ড ওয়াটার স্নেক উদ্ধার করা হয়। ২৮ আগস্ট ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তি কোয়ার্টার থেকে একটি অজগর, ২৯ আগস্ট সাতগাঁও খিলগাঁও থেকে একটি অজগর এবং ৩০ আগস্ট ইছবপুর থেকে একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে।
ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ক্রমাগত বন উজাড়, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস এবং বনাঞ্চলে মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশের কারণে বন্যপ্রাণীরা খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে পড়ে লোকালয়ে চলে আসছে। লোকালয়ে আসার পর অনেক প্রাণী মানুষের আঘাত কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না করে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকারী দল অথবা বন বিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য শ্রীমঙ্গলের সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন।
স্থানীয় পরিবেশবিদরা বন্যপ্রাণীর এভাবে লোকালয়ে চলে আসার ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, খাদ্যসংকট, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস ও ত্রুটিপূর্ণ বন ব্যবস্থাপনার কারণে বনের আদি বাসিন্দারা ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে।
জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ১ হাজার ২৫০ হেক্টর আয়তনের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন বনাঞ্চলে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৩৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৫৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ২২ প্রজাতির উভচর, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ১৬৭ প্রজাতির প্রজাপতির আবাস রয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, এসব বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে বন সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
৭ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে