দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে ব্লেড দিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে এবং অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে লিমা রানী (২২) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত স্বামী শিমুল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩ নভেম্বর রাতে পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের চাচেয়া খামার গ্রামে নিহতের স্বামীর বাড়িতে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ নভেম্বর রাতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিমার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে লিমা রানীর সঙ্গে শিমুল চন্দ্র সরকারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা, ৪ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার টাকার যৌতুক দেওয়া হয়েছিল।
বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি আরতী বালার প্ররোচনায় স্বামী শিমুল লিমাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। প্রায় দুই বছর আগে নির্যাতনের শিকার হয়ে লিমা স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হন। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে তাকে পুনরায় স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
মামলার বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন গত ৩ নভেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে স্বামীর বাড়িতে অবস্থানকালে লিমার কাছে বাবার বাড়ি থেকে আরও ১০ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার দাবি করেন অভিযুক্তরা। লিমা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী শিমুল ও শাশুড়ি আরতী বালা তাকে চেপে ধরে ব্লেড দিয়ে দুই হাতের কবজি ও পায়ের রগ কেটে দেন। এ সময় অন্য অভিযুক্তরা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা কোনো আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে স্থানীয় এক পল্লীচিকিৎসককে বাড়িতে ডেকে লিমার দুই হাতে সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরদিন ৪ নভেম্বর স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরা স্বামীর বাড়িতে গেলে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পার্বতীপুর থানা পুলিশের মধ্যপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
পুলিশের সহায়তায় গুরুতর আহত লিমাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৪ নভেম্বর রাত ৯টায় লিমার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে পার্বতীপুর মডেল থানায় স্বামী শিমুল চন্দ্র সরকার ও শাশুড়ি আরতী বালাইসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি স্বামী শিমুল চন্দ্র সরকারকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
০ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে