◾ মিসবাহুল ইসলাম
মানবজাতি স্বভাবজাতের উপর প্রতিষ্ঠিত। যখন সে জন্মগ্রহণ করে তার কোন পরিচয় থাকে না। কোন মূল্যবোধ না হওয়ার প্রধান কারণ থাকে কোন শিক্ষা তার ভিতর না থাকা। ধর্মীয় শিক্ষা হোক অথবা অধর্মীয় শিক্ষায় তার ভিতর নীতি এবং অনৈতিকতার মনুষ্যবোধ জাগ্রত হয়। ফলে ধীরে ধীরে শিক্ষায় ব্যক্তিগত এবং সামাজিকভাবে সে একজন শিক্ষিত নাগরিক হয়ে বেড়ে উঠতে থাকে। কিন্তু ইসলাম ছাড়া যে কোন ধর্মই তার ভিতর থাকুক না কেন ব্যক্তিগত গুনাবলি এবং সামাজিক পরিচয়ের উৎকর্ষ সাধনে সে কখনোই পোছতে পারে না। মানুষের ব্যক্তিগত গুনাবলীর উৎকর্ষই হলো ইসলামী শিক্ষা। কারণ ইসলাম মানুষকে উওম নীতি শিক্ষা এবং সং গুণাবলী অর্জনের আহ্বান জানায়।
একইভাবে ইসলাম ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে শিক্ষিত করে তোলে তার চরিত্র, স্বভাবের উৎকর্ষ আনয়নের সাথে সামাজিক পরিচয়ের উন্নতি ঘটায়। ইসলাম একটি উজ্জ্বল তরবিয়তের প্রতিক্রিয়া তার ব্যক্তি ও সামাজিক কাজকর্মে সেই প্রভাব ফুটে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ: মুসলিম পরস্পর ভাই ভাই হিসেবে পরিচিত; সীসা ডালা শক্ত প্রাচীরের মতন। পরস্পর সম্প্রীতি,ভালোবাসা এবং করুণায় এক দেহের মতন। যেমনটা হাদিস শরীফে বলা হয়েছে, "একজন মুমিন ব্যক্তি কখনোই অপর ভাইয়ের জন্য এমন অপছন্দীয় জিনিস পছন্দ করবে না যা তার জন্য সে অপছন্দ করে" এটি এমন একটি শিক্ষা যা ব্যক্তিকে তার স্বার্থপরতার ঘৃণ্য মনোভাব, বৈশিষ্ট্য থেকে দূরে রাখে। ইসলাম মানুষের শিক্ষা ও লালন-পালনের এক মহা আদর্শ যার পরিস্ফুটিত বাস্তবতা সামাজিক দৃশ্যে অবলোকন হয় ।
শৈশব কাল থেকেই একটা শিশুর অভ্যাস গঠনের গুরুত্ব প্রদান করে ইসলাম সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং বড় হওয়ার সাথে সাথে তার প্রতি কল্যাণময় এবং উওম স্বভাব গঠনের আদেশ দেয়। নবীজি এরশাদ করেছেন,"তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে নামাজের নির্দেশ দাও যখন তারা সাত বছর বয়সে উপনীত হয় আর যখন তাদের দশ বছর হয় তাদেরকে এর জন্য শাস্তি প্রদান কর"(সুনানে আবী দাউদ ৪৯৫)
শৈশবের শুরু থেকেই নৈতিক শিক্ষা এবং উওম চরিত্র গঠনের জন্য ইসলামী শিক্ষা এবং নবীজির দেওয়া এই নির্দেশ খুবই যুক্তিযুক্ত। কারণ মহান আল্লাহ পাক বলছেন, "একটা শিশু ফিতরাত তথা নিজস্ব স্বভাবজাতের উপর জন্মগ্রহণ করে এরপর হয়তো তার বাবা-মা তাকে ইহুদি বানায় অথবা খ্রিস্টান হিসেবে গড়ে তোলে" (সহীহ মুসলিম:২৬৫৮)
কিন্তু ইসলাম জন্মের পর থেকে তার সাথে ইনসাফ ও ন্যায় বিচার করতে থাকে। কোন মানুষের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করে না।কেননা কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, "অবশ্যই আল্লাহ তা'য়ালা ন্যায়পরায়ণতা, সদাচার প্রদর্শন এবং আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখার নির্দেশ দেন"। (সূরা নাহল: ৯০)
কেবল ব্যক্তিগত নয় সামাজিকভাবেও ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব তুলনাহীন। মানবজাতির প্রতিটি পরতে পরতে এই শিক্ষার সংস্পর্শ রয়েছে। মানুষের যেমন বাহ্যিক অসুস্থ রোগ ব্যাধি থাকে ঠিক অন্তরেও এ ধরনের কঠিন রোগ বাসা বাঁধে কিন্তু ইসলাম এই সব ধরনের ব্যাধি আর কঠিন রোগ কে দূর করে তাকে কলুষ মুক্ত এবং পবিত্র ময় করে তোলে। জাহান্নামের প্রান্তে দাঁড়ানো কুফর, শিরক এবং অন্ধকারে নিপতিত মানুষদের ঈমানের নূর এবং হেদায়েতের আলোয় পথ দেখায়। পরিশেষে এই ইসলাম ধর্ম মানবজাতির সামনে মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের ধার প্রান্ত উন্মোচন করে দেয়।
লেখক: মিসবাহুল ইসলাম
ইসলামী বিষয়ক লেখক ও শিক্ষার্থী
৪ দিন ২৩ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
৫ দিন ১৬ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
৫ দিন ১৮ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
৬ দিন ৪ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৭ দিন ১ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
৭ দিন ১৬ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
৮ দিন ১৪ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
১৩ দিন ১৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে