বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে গৃহবঁধু শারমিনের (২৬) নিহতের ঘটনায় অবশেষে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার একদিন পর সোমবার রাতে নিহত শারমিনের মামা নুরুল হক খান (৪০) বাদি হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় এ মামলা দায়ের করেন বলে মোরেলগঞ্জ থানা ওসি মোঃ সাইদুর রহমান জানান। তিনি আরও জানান, মামলার আসামি করা হয়েছে ৫ জনকে। আসামিরা হল- স্বামী ইয়াসিন আলী (৩০), দেবর মহসিন আলী (২৬), দেবর শাওন (২০)৷ শাশুড়ি ফুলবরু (৫০), মামা শশুর কালাম(৪৫)। মঙ্গলবার সকালে আসামিদের বাগেরহাট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এর আগে ঘটনার দিন রবিবার রাতে এ হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে শাশুড়ি ফুলবরু, স্বামী ইয়াসিন আলী ও মামা শশুর কালামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ । পরদিন পলাতক দুই দেবর মহসিন ও শাওনকে পিরোজপুর তাদের আত্মীয়ের বাসা হতে গ্রেফতার করে মোরেলগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে।
প্রসঙ্গত, রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মোরেলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের পূর্বসরালিয়া গ্রামে স্বামীর গৃহ হতে নিহত গৃহবঁধূ শারমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল রিপোর্ট সহ খুটিনাটি বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিহতের মরদেহ সহ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
পরদিন ময়না তদন্ত শেষে পিতা- মাতা হারা নিহত শারমিনের মরদেহ নানা আব্দুল জব্বার ও মামা নুরুল হক খানের হাতে হস্তান্তর করলে নানাবাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। গৃহবধূ শারমিনের ২ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। নিহত শারমিন ইউনিয়নের রাজমিস্ত্রী ইয়াসিন আলীর স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানায়(৪ সেপ্টেম্বর) রোববার সন্ধ্যার দিকে থেকে শারমিন আক্তারের ঘর বাইরে থেকে তালা লাগানো ছিল। রাত আটটার কিছু পরে নিহতের মামী শাশুড়ি জানালা দিয়ে শারমিনকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পরে থাকতে দেখে জানালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
এদিকে নিহতের মামা নুরুল হক খান এবং নানা আব্দুল জব্বার সরদার দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবেই শারমিনকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরো দাবি করেন শারমিনের সাথে তার দুই দেবরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং শারমিনকে তার শশুরবাড়ির লোকেরা বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতো-যে কারণেই পরিকল্পনা করে শারমিনকে হত্যা করা হয়েছে।