ইরান যুদ্ধে ইরাকের তেল-বাণিজ্যে ধস গোয়ালন্দে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে পোস্টারিং ও নৌ-মিছিল।। এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর! অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট ২১ জেলার মানুষের দাবিতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর আহ্বান জাবিপ্রবির নবনিযুক্ত উপাচার্যের যোগদান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট রায়পুরে ঘাট দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ,আহত ৭ জন নেপালে ইতিহাস গড়লেন বানিয়াচংয়ের আমির উদ্দিন সাতক্ষীরায় ৫৬ ইউনিয়ন ভূমি অফিস সক্রিয় পীরগাছায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মী সম্মেলন সাতক্ষীরায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার মামলা প্রস্তুতি বকশীগঞ্জে কম মূল্যে 'পৌরস্ট্যান্ড' ইজারা : মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ লাখাইয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে অনলাইন জুয়ারী গ্রেফতার-০৩। লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ৫০ শয্যায় সেবা দিতে হিমশিম ১০০ শয্যায় উন্নীতের দাবি কুমিল্লা বিভাগ যদি জনগণের দাবি হয় সেটি বাস্তবায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী তাসকিন আহমেদ শাওন বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা সুন্দরবন রক্ষায় সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান লাখাইয়ে ঈদকে সামনে রেখে উর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের দাম,অস্তিরতায় নিম্ন আয়ের মানুষ।

অসচেতন ও বেপরোয়া চালনায় রক্তাক্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে একের পর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা এখন সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রতিনিয়তই এই ব্যস্ত মহাসড়কে ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ, পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অনেকে, আর অসংখ্য পরিবার হারাচ্ছে তাদের প্রিয় স্বজনকে। দুর্ঘটনার খবর যেন এখন আর নতুন কিছু নয়; বরং এটি একটি ভয়াবহ বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। আর এসব দুর্ঘটনার পেছনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী বেপরোয়া, অদক্ষ ও দায়িত্বহীন গাড়িচালকরা—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় জনসাধারণ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়কপথ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবিকার তাগিদে, চিকিৎসার প্রয়োজনে কিংবা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এই সড়কে যাতায়াত করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যাত্রীদের সেই যাত্রা অনেক সময় নিরাপদ হয় না। একটু অসতর্কতা, অতিরিক্ত গতি কিংবা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব মুহূর্তেই কেড়ে নিচ্ছে বহু মানুষের জীবন।

দীর্ঘদিন ধরে এই মহাসড়কে দুর্ঘটনার অসংখ্য নজির রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কটি দ্রুত ছয় লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন। কারণ বর্তমান সড়ক ব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত যানজট, ওভারটেকিং এবং যানবাহনের চাপ বাড়ছে। তবে শুধু রাস্তা বড় করলেই যে দুর্ঘটনা কমে যাবে, এমনটিও মনে করছেন না অনেকেই। তাদের মতে, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সর্বপ্রথম প্রয়োজন সচেতন, প্রশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল চালক।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে কিছু পরিবহনের বেপরোয়া চালকদের আচরণ। যাত্রীদের অভিযোগ, তারা অনেক সময় যাত্রীদের অনুরোধ উপেক্ষা করে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। অন্য গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওভারটেক করতে গিয়ে তৈরি হয় ভয়াবহ ঝুঁকি। বিশেষ করে মারসা পরিবহনের কিছু চালকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এসব গাড়ি প্রায়ই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলাচল করে এবং অনেক সময় ট্রাফিক নিয়মের প্রতিও উদাসীনতা দেখা যায়।

কিছুদিন আগেও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও সমালোচনার মুখে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তারা নিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালাবেন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন খুব একটা দেখা যায়নি। বরং আগের মতোই চলছে বেপরোয়া গতি আর প্রতিযোগিতা। এরই করুণ পরিণতি দেখা যায় গত ৯ মে শনিবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায়।  হোটেল ফোর সিজনের সামনে দুইটি মারসা পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন চারজন নিরীহ মানুষ এবং আহত হন আরও বহু যাত্রী। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দময় যাত্রা পরিণত হয় শোকের মাতমে।

এই দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তারা কেউ হয়তো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন, কেউ ছিলেন সন্তানের বাবা, কারো আদরের সন্তান কিংবা প্রিয় ভাই। একটি দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি প্রাণই কেড়ে নেয় না, বরং ধ্বংস করে দেয় বহু পরিবারের স্বপ্ন, সুখ ও ভবিষ্যৎ। আহতদের অনেকে হয়তো সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করবেন। তাদের পরিবারের কষ্ট ও দুর্ভোগ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

স্থানীয় জনসাধারণের মতে, কিছু চালকের মাঝে দায়িত্ববোধের চরম অভাব রয়েছে। তারা শুধু ভাবেন কিভাবে দ্রুততম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় কিংবা অন্য গাড়িকে পেছনে ফেলা যায়। কিন্তু তাদের এই প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার কারণে যে কত পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে, কত শিশু পিতৃহারা হচ্ছে, কত মা হারাচ্ছেন সন্তান সেসব যেন তাদের ভাবনার বিষয় নয়। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, দুর্ঘটনার পর সাময়িক আলোচনা হলেও কিছুদিন পর আবারও আগের মতোই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলতে দেখা যায়।

সচেতন মহল মনে করছে, শুধুমাত্র চালকদের দোষারোপ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর পাশাপাশি প্রয়োজন কঠোর নজরদারি, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। যারা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান কিংবা ট্রাফিক আইন অমান্য করেন, তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ, চালকদের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই এবং নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা জরুরি। এছাড়া যাত্রীদের মাঝেও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। অনেক সময় যাত্রীরা নিজেরাও দ্রুত পৌঁছানোর জন্য চালকদের উৎসাহিত করেন। কিন্তু জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নয়। একটু ধৈর্য ও সচেতনতা হয়তো বাঁচাতে পারে বহু প্রাণ।

 সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা,চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ দেশের প্রতিটি সড়কে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা হোক। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন, পরিবহন মালিক, চালক এবং যাত্রী সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ প্রতিটি মানুষের জীবন অমূল্য। একটি পরিবারের হাসি যেন আর কোনো বেপরোয়া চালকের কারণে চিরদিনের জন্য নিভে না যায় এটাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।



আরও খবর