আজ থেকে শত বছর আগে
হাজার বছরের প্রতীক্ষার প্রহর শেষে,
বিশ্বের ইতিহাসে বাংলাদেশ নামক
একটি কবিতা লিখবেন বলে-
এমনই এক বসন্তের সকালে
১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ,
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া-
গ্রামে জন্ম গ্রহণ করলেন।
গণতন্ত্রের মহানায়ক,
স্বাধীনতার স্থপতি, রাজনীতির কবি
বাঙালী জাতির জনক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
যার আগমনে সারা বাংলায়
বয়ে গেল আনন্দের হিল্লোল,
প্রকৃতির পত্র পল্লবে দেখা দিল
সে-কি রোমাঞ্চকর অনুভূতি।
ঋতুরাজ বসন্ত নিজেকে
সাজিয়ে নিল লাল পলাশের রঙ্গে,
কোকিলের সুমধুর কন্ঠ,
গেয়ে উঠল আনন্দ রাগীনী।
হাজারো প্রস্ফুটিত ফুলের সুবাসে
বিমোহিত হল চারিদিক,
মৌমাছিরা মনের আনন্দে
ছুটাছুটি করল দিগ্বিদিক।
বাবা লুৎফর রহমান,
মা শায়েরা খাতুন এর স্নেহ-মমতায়
কাটল কবির আনন্দময় শৈশব আর
দুরন্ত কৈশোরের মধুময় দিনগুলো।
যৌবনে উপনীত কবির কবিতার
মাত্রা লয়ের ছন্দ
হতে চাইল স্রোতস্বনী মধুমতীর
জলধারার কলতান।
কবির কবিতার উপমা হতে চাইল
টুঙ্গিপাড়ার মাঠ, ঘাট, শ্যামল প্রন্তর,
সুনীল আকাশ, সুনির্মল বায়ু
কবিকে দিতে চাইল শব্দের সমাহার।
কিন্তু বাংলা ভাষার শব্দ সম্ভার থেকে
তিনি বেছে নিলেন একটি মাত্র শব্দ "স্বাধীনতা"।
যাকে নিয়ে কবিতা লিখতে গিয়ে
পেরিয়ে গেল তাঁর তারুণ্যদীপ্ত ১৯টি বসন্ত।
করতে হয়েছে কারাবাস,
কাটাতে হয়েছে কত বিনীদ্র রজনী
অবশেষে লিখা হল স্বাধীন বাংলাদেশ
নামক একটি কবিতা।
যে কবিতায় অলংকার হিসেবে স্থান পেল
৫২-এর ভাষা আন্দোলন,
৫৪-এর প্রাদেশিক নির্বাচন,
৬৬-এর ৬ দফা,
৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা,
৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান,
৭০-এর নির্বাচন,
৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম।
যা পড়ে শোনাবার জন্য কবি এক কবিতা আসরের আয়োজন করলেন,
জনতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তর্জনী উঠিয়ে,
হৃদয় প্রকম্পিত শিহরনে,
উদ্বেলিত কন্ঠে কবি পাঠ করলেন
সেই অমর কবিতাখানি।
কী অমিয় ছিল সেই বাণী,
জাগরণ দীপ্ত ছিল সেই সুর,
যার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে
বিদ্রোহী স্রোতা প্রাণ উৎর্সগ
করতে পিছপা হল না।
তাঁদের রক্তে বিশ্বমানচিত্রে লেখা হল
বাংলাদেশ নামক একটি কাব্য।
আঁকা হল লালা সবুজে একটি পতাকা
আমরা পেলাম আমাদের কাঙ্খিত স্বাধীনতা।
সেগুফতা আনসারী
সহকারী শিক্ষক ও কবি,
সিলেট সদর, সিলেট।
৭ দিন ১ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
৯ দিন ৪৭ মিনিট আগে
২৭ দিন ২ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
২৮ দিন ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
২৯ দিন ১১ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
৩২ দিন ৬ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৩৩ দিন ৪ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৩৮ দিন ২ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে