রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, দেশবরেণ্য কবি, কথাসাহিত্যিক, গল্পকার আবুবকর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর ২০২৩) ভোর ৫.৩৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।
আবুবকর সিদ্দিক ১৯৩৬ সালের ১৯ আগস্ট (২ ভাদ্র ১৩৪১) রবিবার, বাগেরহাটের গোটাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মতিয়র রহমান পাটোয়ারী ছিলেন সরকারি চাকুরিজীবী এবং মা মতিবিবি ছিলেন গৃহিণী। তার পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার বৈটপুর গ্রামে।
১৯৫২ সালে আবুবকর বাগেরহাট মাধ্যমিক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে সরকারি পিসি কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৫৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক এবং ১৯৫৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৫৮ সালে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে আবুবকর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হন। প্রথমে চাখার ফজলুল হক কলেজে শিক্ষকতা শুরু করলেও পরবর্তীতে বি এল কলেজ, পি.সি কলেজ, ফকিরহাট কলেজ ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। এরপর দীর্ঘদিন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন। ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জুলাই সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর ঢাকার নটর ডেম কলেজ এবং কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন।
তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস সমুহ, জলরক্ষস, খরাদাহ, বারুদপোড়া প্রহর, একাত্তরের হৃদভস্ম
উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প, ভূমিহীন দেশ, চরবিনাশকাল, মরে বাঁচার স্বাধীনতা কুয়ো থেকে বেরিয়ে, ছায়াপ্রধান অঘ্রান
এছাড়াও তার লেখা কাব্যগ্রন্থ, ধবল দুধের স্বরগ্রাম, বিনিদ্র কালের ভেলা, হে লোকসভ্যতা, মানুষ তোমার বিক্ষত দিন, হেমন্তের সোনালতা, নিজস্ব এই মাতৃভাষায়, কালো কালো মেহনতী পাখি, কংকালে অলংকার দিয়ো, শ্যামল যাযাবর, মানব হাড়ের হিম ও বিদ্যুত সহ আরো অনেক কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
তিনি ১৯৮৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ২০১৬ সালে মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার, বাংলাদেশ কথাশিল্পী সংসদ পুরস্কার, বঙ্গভাষা সংস্কৃতি প্রচার সমিতি পুরস্কার (কলকাতা),খুলনা সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ স্বর্ণপদক সহ আরো অনেক পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হন।
অধ্যাপক আবুবকর সিদ্দিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোঃ সুলতান-উল- ইসলাম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোঃ হুমায়ুন কবীর।
উপাচার্য মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। শিক্ষা ও বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে মরহুমের অবদান জাতি স্মরণ করবে বলে উপাচার্য অভিমত ব্যক্ত করেন।
৩৩ দিন ১৯ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৩৫ দিন ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
৪৯ দিন ১৬ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
৫২ দিন ৬ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
৫৯ দিন ৩ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
৬০ দিন ১৩ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৬২ দিন ৪ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
১১১ দিন ২ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে