আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নে মৎস্য ঘেরে জবর দখলে বাধা দেওয়ায় সন্ত্রাসী স্টাইলে ঘের মালিক ইলিয়াছের ভাইপো ইমরানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে ঘের জবর দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। দখল চেষ্টাকারীদের অবৈধ আনাগোনা ও হুংকারে ঘের মালিক ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে।
শ্রীউলা ইউনিয়নের কলিমাখালী গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদ গাজীর ছেলে স্কুল শিক্ষক ইলিয়াছ হুসাইন জানান, তিনি কলিমাখালী মৌজায় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ২.৮৫ একর জমির মৎস্য ঘের ডিড দিয়ে ২২/২৩ বছর ভোগদখল করে আসছেন। স্থানীয় মোস্তফা কামাল মৌখিক ভাবে ডিড নিয়ে নিয়মিত হারীর টাকা পরিশোধ করে মাছ চাষ করে এসেছেন। নছিমাবাদ গ্রামের মুনছুর মোড়লের ছেলে ফয়সাল আহমেদ ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক দীপঙ্কর বাছাড় দিপ ও আওয়ামীলীগ নেতা আলাউদ্দীন লাকির মধ্যস্থতায় মাষ্টার ইলিয়াছ এর নিকট থেকে ২০২২ সালে মৌখিক ডিড নিয়ে মাছ চাষ করেন। নির্দিষ্ট সময়ে হারির টাকা না দেওয়ায় মধ্যস্থতাকারীর অনুমতি সাপেক্ষে জমির মালিক ২০২৩ সালের জন্য মাষ্টার সোহাগ এর কাছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা হারি নিয়ে তাকে মৌখিক ডিড প্রদান করেন। তখন ঘেরের মাটির কাজ করতে গেলে পূর্ব হারির গ্রহিতা আলা উদ্দিন লাকীর হস্তক্ষেপে পুনরায় ঘের হারিতে নেওয়ার জন্য কথা বলেন এবং ২০ ফেব্রæয়ারি সমুদয় টাতা দেবেন বলে জানান। কিন্তু সমুদয় টাকা না দেওয়ায় লাকী সাহেব তার (ফয়সাল) টাকা ফেরৎ দিয়ে মালিক ইলিয়াছকে ঘেরে দখলে যেতে অনুমতি প্রদান করেন। এতকিছুর পরও ফয়সাল ২ মার্চ ঘেরে জবর দখল করতে যান। খবর পেয়ে লাকী দিং এর অনুমতি সাপেক্ষে শিক্ষক স্কুলে থাকায় তার ভাইপো ইমরান হোসেনকে ঘেরে পাঠালে সেখানে কাউকে না পেয়ে পাইপের মুখ বন্ধ করে দেয়। এসময় ফয়সালের নেতৃত্বে একটি মামলার আসামী আহসানসহ ১০/১২ জন ইমরানকে নির্মমভাবে মারপিট করে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে ইমরানের মা, বোন ও ফুফু ঘটনাস্থলে পৌছে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এতেও জবরদখলকারীরা শান্ত হয়নি, তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘের মালিকের বাড়ির সমানে ও বিভিন্ন স্থানে মহড়া দিয়ে স্কুল, বাজারে যেতে বাড়ি থেকে বের হলে খুন জখমের হুমকী দিয়ে যাচ্ছে অভিযোগ করে মাষ্টার ইলিয়াছ পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান।
এব্যাপারে মধ্যস্থতাকারী আ’লীগ নেতা আলাউদ্দিন লাকি বলেন, ঘটনা সত্য। ঘেরে ফয়সালের কোন জমি নেই, সে হারী নিয়ে ঠিকভাবে টাকা দেয়নি। মালিক তার ঘের নিয়েছে। সেখানে জবর দখল ও মারপিটের ঘটনা দুঃখ জনক। আমরা ঘের মালিককে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি।