আশাশুনিতে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৭ বছরের ভোগদখলীয় জমিতে জবর দখল নিতে শালিস অমান্য করে ঘর নির্মান চেষ্টাসহ নানা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা ঘটেছে উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া গ্রামে।
নাকতাড়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে আলমগীর ২১/১০/১৫ তাং মাড়িয়ালা মৌজায় ৪.২/৩ শতক জমি মহিষকুড় গ্রামের আঃ হক মোল্যা দিং নিকট থেকে ৩৮১৭ নং দলিলে কোবালা দলিলে ক্রয় করে সেখানে সেই থেকে ভোগদখলে আছেন। বসতঘরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মান, গাছগাছালি লাগানোসহ ফসল চাষ করে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে আছেন। এবং ১১/৮/২১ তাং ২১৩০ নং দলিলে তার স্ত্রী ইয়াছমিন আরা পারভিন মহিষকুড় গ্রামের মৃত সৈয়দ আলী মোল্যার ছেলে আঃ খালেকের নিকট থেকে একই স্থানে আরও সাড়ে ৪ শতক জমি ক্রয় করে একই সাথে ভোগদখলে আছেন। অনুমান দেড় মাস পূর্বে নাকতাড়া গ্রামের মৃত আবু বক্তর কারিকরের ছেলে খলিল আঃ হাকিম মোল্যার ছেলে শহিদুজ্জামানের নিকট থেকে ১৪ শতক জমি ক্রয় করেছে দাবী করে দখল নিতে আসলে বিরোধের সৃষ্ট হয়। এনিয়ে সবশেষে শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে নিয়ে একজন অর্ভিজ্ঞ উকিলের কাছে শালিসে পাাঠান। উকিল শালিসের পরামর্শ অনুযায়ী গত ৬ মার্চ স্থানীয় ইউপি সদস্য, গন্যমান্য ব্যক্তি, জমির দাতাগণ, ক্রেতা বাদী ও বিবাদীর সম্মতি স্থানীয় সার্ভেয়ারদ্বারা সরেজমিন জমি জরিপ করা হয়। জরিপে দেখা যায় ২৩০নং খতিয়ানে এসএ ৩৬৫, সাবেক ২৬০৯ ও ২৬০৫ দাগে ১২ শতক জমি আছে। উক্ত জমি উভয় পক্ষের সম্পত্তি ও দলিল অনুযায়ী বাদী পক্ষ ইয়াসমিনারা ৭ শতক ও বিবাদী পক্ষ খলিল গং ৫ শতক জরিপ করে সীমানা নির্দ্ধারন করে পীলার বসিয়ে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ইউপি চেয়ারম্যানের সামনে উভয় পক্ষ ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ আপোষনামায় স্বাক্ষর করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে খলিল দিং হঠাৎ করে শালিস অমান্য করে নিজের ইচ্ছেমত বাঁশের খুঁটি পুতে টিন দিয়ে ছাউনি ও টোঙ ঘরে বেড়া দিতে গেলে জানতে পেরে আলমগীর ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এরমধ্যে খলিল বিজ্ঞ আদালতে ১৪৫ ধারা মামলা করেন। ফলে বিষয়টি জটিল হতে শুরু করে। আলমগীর জানান, শনিবার (১ এপ্রিল) বেলা ১১.৩০ টার দিকে খলিল, তার স্ত্রী ও পুত্রবধূ টোঙ ঘরে ঢুকে সবার সামনে বিচালীতে আগুন জ্বালিয়ে ঘরের ভিতরে, জায়নামাজ ও কাথাকাপড়ে আগুন লাগায় এবং নিজেরা নিজেদের গায়ে বটি ও কয়েলের স্টান্ড দিয়ে কেটে রক্ত বরে করে ও ভাংচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছে ১৪৫ ধারা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে আদেশ করে হুঁশিয়ার করে যান।
ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক দীপংকর বাছাড় দীপু জানান, উকিলের শালিসী পরামর্শ নিয়ে উভয় পক্ষ, জমিদাতা, মেম্বার, গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে স্থানীয় সার্ভেয়ারদ্বারা মাপ জরিপ করে শান্তিপূর্ণ আপোষ করে দিয়েছি। তারপরও শালিস অমান্য করে মামলা ও পরবর্তী ঘটনা আমাদের অজ্ঞাতে করে বিষয়টি জটিল করা হচ্ছে।