বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার ক্ষমতাচ্যুত করতে ‘দড়ি ধরে টান মারার’ জন্য সবাইকে সংগঠিত হতে হবে।
সোমবার বগুড়ায় বিএনপি'র তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিকেল ৪ টায় বগুড়া শহরের সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠে এ সমাবেশ শুরু হয়। ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে এক মহান আন্দোলনে শরিক হয়েছে তরুণেরা। তারেক রহমান সেটা করতে পেরেছেন। তেতুঁলিয়া থেকে সেই রাজশাহীর পদ্মার তীরের তরুণরা এখানে সমবেত হয়েছেন। যে গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে সেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আজকে বিপন্ন তা রক্ষা করতে হবে।
ইতিহাস স্বৈরাচারকে হটিয়েছেন উল্লেখ করে বিএনপি'র এই নেতার আরও বলেন, আজ দেশ চরম বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র লুট করে নিয়ে গেছে। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হারিয়ে গেছে। এখন তরুণ সমাজের প্রতি আমাদের আবদার, সময় এসেছে দেশ রক্ষা করার।
সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ সিনেমার কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “একটা মূর্তি বানিয়েছিল.. ওই রাজার মূর্তি। ওই মূর্তি উদ্বোধন করবে যেদিন সেদিন হাজার হাজার লোক এসে গেল। একটা দড়ি লাগিয়ে মানুষ বলল, দড়ি ধরে মার টান, রাজা হবে খান খান। আজকে এই দড়ি ধরে টান মারতে হবে। আর রাজাকে খান খান করতে হবে।”
নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, তোমাদেরকে ভবিষ্যৎ ডাক দিচ্ছে। দেশ মাতৃকাকে রক্ষা করার। অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছি আমরা। এমন সময় অতীতে আর ছিল না। সরকার জোর করে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা দখল করে আছে পাকিস্তানি হানাদারদের মতো। আবার তারাই দাবি করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে। তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করেছে।
ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার রাজনৈতিক কারণে মেধাবীদের চাকরি দিতে পারে না। তারা ব্যবসার কোনো সুযোগ দিতে পারে না। চার কোটি বেকার চাকরি পাচ্ছে না। তারা নিজেদের ধনী বানাতে ব্যস্ত। তারা লুট করে বিদেশে পাচার করবে, বাড়ি বানাবে, সেই বিষয় নিয়ে ব্যস্ত। তাদের একটাই লক্ষ্য লুট করা।’
ভয়ে সমাবেশে আসার পথে গাড়ি পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সরকার আসলে কাপুরুষ। এতো ভীত; যে গাড়ি চলতে দিলে বগুড়ায় জায়গা দিতে পারত না।
‘আমরা মানুষকে সাথে নিয়ে আমাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে চাই। আমরা মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই।
গণতন্ত্র রক্ষা লড়াই আমাদের বিএনপি'র লড়াই নয়। এই লড়াই সমগ্র জাতির লড়াই। এই লড়ায়ের জন্য আমাদের নেতা তারেক রহমান পরিষ্কার করে বলেছেন, আমাদের দাবি একটা। সেই দাবি হচ্ছে আমাদের ভোটাধিকার ফেরত দিতে হবে। এই জন্য সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে এবং তত্ত্ববধায়ক সরকার অথবা নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। নতুন একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নতুন সরকার গঠন করা হবে। এক দফা এক দাবি, শেখ হাসিনার পদত্যাগ। এই দাবি আদায় হবে রাজপথে।’
৪০ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তার আগে কোনো নির্বাচন নয়। তরুণেরা গর্জে উঠুন আবার। আমরা গণতন্ত্র চাই। আমরা মুক্তি চাই।’
বাংলাদেশ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের আয়োজনে এ তারুণ্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী। সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।
এ ছাড়া বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক রুহুল কুদ্দুস দুলু, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবীব দুলু, বগুড়া জেলা বিএনপি'র সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। দোয়া পরিচালনা করেন জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা।
এ সমাবেশ পরিচালনা করেছেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।