একটি আলোচিত হত্যা ও ডাকাতি মামলা থেকে ‘বেকসুর’ খালাস পেলেন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম। একই মামলায় আরও ৯ জন আসামিকেও বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। ২০০১ সালের ১০ নভেম্বর চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের চিরিঙ্গা-মানিকপুর সড়কের মানিকপুর ঢালায় এই ডাকাতি ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছিল। যদিও ওই সময় জাফর আলম সংসদ সদস্য কিংবা জনপ্রতিনিধি ছিলেন না।
কক্সবাজারের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল সোমবার (২৪ জুলাই) আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এই রায় ঘোষণা করেছেন। রায় ঘোষণার সময় সংসদ সদস্য জাফর আলমসহ ৯ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
একই আদালতের জেলা নাজির বেদারুল আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলাটির রায় ঘোষণার পর থেকেই সর্বমহলে রায় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এই ঘটনাটি দিনজুড়ে ‘টক অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট্রে’ পরিণত হয়েছে।
মামলায় বেকসুর খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন কফিল উদ্দিন, মো. হাছান ওরফে হাছু, নুরুল ইসলাম, জিয়াবুল হক ওরফে মানিক্যা ডাকাত, জাফর আলম ওরফে বাইট্টা জাফর, কালা মনু, এ.কে খান, নুরুল হক, হাসান আলী ও হাছান আলীর ছেলে জাফর আলম। আসামিরা সকলেই চকরিয়ার পালাকাটা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০০১ সালের ১০ নভেম্বর বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের চিরিঙ্গা-মানিকপুর সড়কের মানিকপুর ঢালায় একদল সশস্ত্র ডাকাত পরপর ২টি যাত্রীবাহী জীপে ডাকাতি করে এবং জীপের হেলপার, একই উপজেলার মাঝের ফাঁড়ি এলাকার মোহাম্মদ ইসমাইলের ছেলে রুহুল আমিনকে (১৫) গুলি করে হত্যা করে।
এই ঘটনায় জীপের ড্রাইভার, চকরিয়ার কাকারা মাঝের ফাঁড়ির ওসমান গণির ছেলে আশরাফুল ইসলাম ওরফে টিটু বাদী হয়ে ১৮৬০ সালের ফৌজদারী দন্ডবিধির ৩৯৬/৪১২ ধারায় অভিযোগ এনে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলমসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ভাবে অভিযোগ এনে তদন্তকারি কর্মকর্তা আদালতে চার্জশীট প্রদান করেন। মামলাটি ২০০৩ সালের ১৮ আগস্ট চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, সাক্ষীদের আসামী পক্ষের জেরা, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট যাচাই, আলামত পর্যালোচনা, আসামীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, যুক্তিতর্কসহ মামলার সব কার্যক্রম শেষ করে কক্সবাজারের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল মামলাটি রায়ের জন্য সোমবার (২৪ জুলাই) দিন ধার্য করেন।
রায় ঘোষণার দিনে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ‘আদালতে প্রমাণ করতে না পারায়’ বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য আসাসি জাফর আলমসহ সকল আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
ঘটনার দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর পর বিচারিক কার্যক্রম শেষে সোমবার (২৪ জুলাই) মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
মামলাটি পরিচালনা করেন রাষ্ট্রপক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম, আসামি জাফর আলমের পক্ষে অ্যাডভোকেট আবু সালাম ও অন্য আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান।
১ দিন ২ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৪৫ দিন ৫ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
১১২ দিন ১০ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
১৩৬ দিন ১২ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
১৪৪ দিন ১৩ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
১৪৪ দিন ১৩ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
১৫৩ দিন ৮ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
১৫৩ দিন ১২ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে