অপাত্রে হয় না যেন কন্যাদান
নাজমুন নাহার
একজন লেখকের কাছে তার লেখা কবিতা,গল্প,প্রবন্ধ উপন্যাস যাহাই হোক না সেটা সন্তান সমতুল্য।
আর সেই লেখার সমষ্টি একটা পুস্তক হলো তার শত সন্তানের সমষ্টি।
আদর-ভালোবাসা,শক্তি তাঁর সম্মান। সে ভালোবাসার সন্তান যখন বিভিন্ন সংগঠন থেকে সেরা হিসেবে স্বীকৃতি পায় তখন গ্রেডিং এর কথা মনে থাকে না।
হাজার /দুহাজার লেখা বইয়ের মাঝে১০০/২০০ বই সিলেক্ট হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়, সিলেক্ট হয়েছে এটাই যথেষ্ট শুকরিয়া।কিন্তু যখন নিতান্ত অগোছালো লেখা
যার শুরু থেকে শেষের কোন ধারাবাহিকতা থাকে না শব্দের যথোপযুক্ত অর্থ থাকে না,
বিষয়ের গভীরতা সৌন্দর্য বা আবেদন থাকে না এ ধরণের লেখক এ+ (প্লাস) নিয়ে এসে যখন একজন অভিজ্ঞ লেখক যাঁর বই বি গ্রেড বা সাধারণ গ্রেডে সিলেক্ট করা হয়েছে তাঁকে
জিজ্ঞেস করে সে কোন গ্রেডে পেয়েছেন? তখন কিন্তু বিজ্ঞ লেখকের মনটা খারাপ হয়ে যায়, আর এটাই স্বাভাবিক। একটা বই কোন আঙ্গিকে সিলেক্ট করা হয়? যাঁরা বা যে প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন তাঁরা যদি পূর্বে বলে দেন অর্থাৎ গাইড লাইন বলা হয়,,, কি কি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হলে বইটি সেরা তালিকায় থাকবে এ+(প্লাস) এর তালিকায় থাকবে।
তাহলে যিনি লেখক তিনি সে আঙ্গিকে লিখবেন বা লিখতে চেষ্টা করবেন।
আর প্রতিটা বইয়ের ধরণ অনুযায়ী আলাদা আলাদা বিচার করলে বিচারকার্য সুষ্ঠু হবে বলে মনে করি। যেমন উপন্যাস শুধু উপন্যাস, গল্প শুধু গল্প, কবিতা গদ্য শুধু গদ্য,পদ্য শুধু পদ্য, ছন্দের শুধু ছন্দের, ছন্দবিহীন শুধু ছন্দবিহীন।
এভাবে হলে আমার মনে হয় কারো মনে কোন ক্ষোভ বা কষ্ট থাকবে না। সঠিক মূল্যায়ণটা হবে।
দূর-দূরান্ত থেকে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে শারীরিক কষ্ট অর্থ কষ্ট তখন আর মনো কষ্টে পরিণত হবে না। আর যাঁরা বিচারকার্যে নিয়োজিত থাকেন
তাঁরা যেন স্বজনপ্রীতি, প্রিয়জন প্রীতি,পরিচিতি প্রীতি থেকে দূরে থাকেন সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।
অনেক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আছেন ( সবাই নয়)যারা সংগঠন খুলে হাজার বিজ্ঞ লোকের বা লেখকের পরিচিতি লাভ করেন প্রিয় জন বানান বা প্রিয়জন হন
তারা এ পরিচিতির সুযোগ নিয়ে ফায়দা লুটে। মূলত সাহিত্যের "স" এদের বোধগম্যের বাহিরে থাকে।
এরা এলেমের জোরে নয়,, আঞ্চলিক কথায় বলে
হেলেমের জোরে,, নিজেকে ধরার মাঝে প্রতিষ্ঠিত করেন।তেলায়িতি করে সবার প্রিয়ভাজন হন, নিজেদের পাওনা কৌশলে আদায় করে নেন
সুতরাং যারা বিজ্ঞজন বা আয়োজক আছেন,,, দয়া করে সেরা প্রতিযোগিতায়-
এসব "খালি কলস বাজে বেশি" লোকের তেলায়িতি থেকে সাবধান থাকলে বিচারকার্যের স্বচ্ছতা বিদ্যমান থাকবে অর্থাৎ,,, অপাত্রে অযথা কন্যাদান হবে না।
লেখক - কবি , প্রাবন্ধিক ও সিনিয়র শিক্ষিকা
৮ দিন ৯ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
১১ দিন ৯ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
৬৪ দিন ১৪ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
৬৬ দিন ১৮ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
৬৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
৬৯ দিন ১৪ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৯১ দিন ১১ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৯২ দিন ১২ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে