বর্ষায় যে জমি হাওরের পানির নিচে তলিয়ে বিশাল আকৃতির জলাশয়ের রুপ নেয় হেমন্তের শুরুতে হাওরের সেই পানি বিলীন হয়ে কৃষিজমি আবাদের জন্য ভাসতে শুরু করে।
বর্ষায় হাওরের যে কৃষক অলস সময় পার করে হেমন্তে সেই কৃষকের মধ্যেই দেখা যায় কর্মচঞ্চলতা।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার পাইকুরাটি ইউনিয়নের কৃষকেরা ব্যস্ত বীজতলা প্রস্তুতে।
বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা যায় কৃষকেরা এলাকা ভিত্তিক দিনক্ষণ টিক করে বীজতলায় সবাই একসাথে বীজবপন করে।
অঙ্কুরিত এ বীজ বপনকে আঞ্চলিক ভাষায় ‘জালা’ নামে ডাকা হয়।
গত মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটায় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বৌলাম গ্রামের কৃষকদের বীজতলা পরিদর্শন করে দেখা গেল অন্তত ২০০ জন কৃষক ভোরের আলো ফোঁটার আগেই হালকা কুয়াশায় বীজতলায় ঝাঁকে ঝাঁকে আবাল বৃদ্ধ সবাই মিলে মাথায় ডুলি (অঙ্কুরিত বীজ বহনের পাত্র) করে অঙ্কুরিত বীজ বপনের মহা উৎসবে ব্যস্ত।
এ যেন হাওরপাড়ের মানুষের কর্মব্যস্ততার আনন্দের আরেক অঘোষিত উৎসব।
স্বানীয় কৃষক মো: আল আমিন বলেন,
প্রতিবছর আমরা সকলেই হেমন্তের শুরুতে পুরা এলাকাবাসী এক হয়ে এক সাথে জালা (বীজধান) ফালাই। এ বছর আমরা ব্রি-৮৯ ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ ধানের বীজ রোপন করছি।
আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম (৪৫)বলেন ” হাওর অঞ্চলের একটাই হসল (ফসল), এইডা অইলো বৈশাখকিয়া (বৈশাখী) বোরো হসল। এই হসলের দাই(জন্য) আমরা অগ্রয়নের (অগ্রহায়ন) হইলা (প্রথম) সপ্তায় বুরো ধানের জালা (অঙ্কুরিত বীজ) ফালতাছি ( বপন করা)। ”
বৈশাখ মাসকে সামনে রেখেই হাওর অঞ্চলের বীপতলায় সচারাচর বোরো ধানের হাইব্রিড জাত ব্রি -২৮, ব্রি ২৯ ধানের অঙ্কুরিত বীজ বপন করা হয়।
তবে এ বছর তারা ব্রি-৮৯ ধানের বীজও রোপন করছে।
হাওরে পাহাড়ি পানির ঢল আসার পূর্বেই কৃষক যাতে বৈশাখ মাসের মধ্যেই বোরো ফসল কর্তন করে ঘরে তুলতে পারে এই লক্ষ্যেই কৃষকদের বীজতলা প্রস্তুতের ধূম।
১৮ দিন ১০ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
৪৫ দিন ৯ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৪৮ দিন ৭ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
৮২ দিন ১৩ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
১৮৪ দিন ১ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
২১৪ দিন ১৭ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে
২২৩ দিন ১৮ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
২৩৪ দিন ১৭ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে