গত ২৪/০৪/২০২৩ খ্রি. তারিখ রাত্রী অনুমান ০৩.০০ ঘটিকার সময় বগুড়া সদর থানাধীন সামমাথা এলাকায় অবস্থিত প্রধান ডাকঘরের ভল্ট কেটে ডাকাতি ও ডাকঘরে পাহাড়ারত অফিস সহায়ক শ্রী প্রশান্ত কুমার আচার্য্য (৪৩), পিতা-প্রাণকৃষ্ণ আচার্য্য, মাতা- মীরা রানী আচার্য্য, সাং-বেজোড়া হিন্দুপাড়া, থানা-শাজাহানপুর, জেলা-বগুড়াকে হত্যা করা হয়।
উক্ত বিষয়ে বগুড়া জেলার সদর থানায় মামলা দায়ের হইলে সদর থানা পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি পুলিশ সুপার বগুড়া মহোদয়ের মৌখিক নির্দেশে বগুড়া ডিবির একটি টিম তাৎক্ষণিক ছায়া তদন্তে নামে। তারই ধারাবাহিকতায় বগুড়া জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম পিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব স্নিগ্ধ আক্তার পিপিএম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল জনাব মোঃ শরাফত ইসলাম এর তত্তাবধানে ডিবি বগুড়া’র ইনচার্জ মোঃ সাইহান ওলিউল্লাহ এর নেতৃত্বে টিম ডিবি বগুড়া ও সদর থানার একটি যৌথ টিম নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য এবং ডিজিটাল ফুট প্রিন্টের ভিত্তিতে ০৩/০৪/২০২৩ খ্রি. তারিখ বিভিন্ন সময়ে নওগাঁ জেলার সদর ও সাপাহার থানার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বগুড়া’র প্রধান ডাকঘরে চাঞ্চল্যকর ডাকাতি ও ডাকঘরে পাহারারত অফিস সহায়ক শ্রী প্রশান্ত কুমার আচার্য্যকে খুনের ঘটনার সহিত সরাসরি জড়িত একমাত্র আসামীকে গ্রেফতার পূর্বক ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম ও ঠিকানাঃ
১। মোঃ শফিকুল ইসলাম(৪০), পিতা-মৃত আব্দুস সালাম, মাতা-কেতামন, সাং-পশ্চিম করমডাঙ্গা, থানা-সাপাহার, জেলা-নওগাঁ।
উদ্ধারকৃত আলামতঃ
১। ধুসর ও সাদা রংয়ের কেডস জুতা ০১ জোড়া।
২। গোলাপী রংয়ের হাফহাতা শার্ট ০১ টি।
৩। কালো রংয়ের ব্রেসলেট ০১ টি
(উপরোক্ত আলামতগুলি গত ১৫/০৩/২০২৩ খ্রি. তারিখে ডাকাতির মালামাল ক্রয়ের সময় আসামী পরিহিত অবস্থায় ছিল যা সিসি টিভি ফুটেজ হতে সনাক্তকৃত। পরবর্তীতে আসামী গ্রেফতারের সময় তার হেফাজত হইতে উদ্ধার করা হয়)
৪। কালো রংয়ের ফুল প্যান্ট ০১ টি।
৫। কালো রংয়ের অস্বাভাবিক বড় বেল্ট ০১ টি।
(উপরোক্ত আলামতগুলি গত ২১/০৪/২০২৩ খ্রি. তারিখে ডাকাতির সময় আসামী পরিহিত অবস্থায় ছিল যা সিসি টিভি ফুটেজ হতে সনাক্তকৃত। পরবর্তীতে আসামী গ্রেফতারের সময় তার হেফাজত হতে উদ্ধার করা হয়)
৬। Lenovo সোনালী ও সাদা রংয়ের স্মার্ট ফোন ০১ টি।
৭। SAMSUNG সোনালী রংয়ের স্মার্ট ফোন ০১ টি।
৮। Huawei কালো রংয়ের স্মার্ট ফোন ০১ টি।
৯। Nokia কালো রংয়ের ফোল্ডিং ফোন ০১ টি।
১০। Nokia সবুজ রংয়ের বাটন ফোন ০১ টি।
১১। Lava কালো রংয়ের বাটন ফোন ০১ টি।
(উপরোক্ত আলামতগুলি আসামী গ্রেফতারের সময় তার হেফাজত হতে উদ্ধার করা হয়)
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী জানায় যে, সে দীর্ঘদিন যাবত দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, দোকনপাটে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গত অনুমান ১২/০৩/২০২৩ খ্রি. তারিখ সে শার্ট বানানোর জন্য নওগাঁ থেকে তার ব্যবহৃত লাল রংয়ের ফেজার মোটরসাইকেল যোগে বগুড়া’য় আসে এবং সেন্ট্রাল পোষ্ট অফিসের সামনে মোটর সাইকেল পার্কিং করে রাখার সময় সে দেখতে পায় লোকজন পোষ্ট অফিস থেকে টাকা তুলে বের হচ্ছে, তখন তার মাথায় পোস্ট অফিসের ভল্ট কেটে টাকা লুন্ঠন করার পরিকল্পনা আসে। সে পোষ্ট অফিসের ভেতরে যায় এবং ভোল্ট রুম ও সিসি ক্যামেরার অবস্থানসহ সমস্ত জায়গায় রেকি করে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে নেয়। এরপর গত ১৫/০৩/২০২৩ খ্রি. তারিখ পুনরায় বগুড়া এসে বগুড়া নিউমার্কেট এলাকা হতে হ্যান্ড গ্লাভস, সাতমাথা ফুটপাত থেকে ট্রাউজার, গেঞ্জি, থানার পেছনের বাবু মেশিনারিজ নামক হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে গ্রিল/ভোল্ট কাটার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং ভাংরিপট্টির একটি দোকান থেকে এসএস পাইপের একটি খন্ড ক্রয় করে। উক্ত যন্ত্রপাতি কেনার সময় তার কাছে টাকা কম থাকায় সে ক্রয়কৃত মালামাল দোকানে প্যাকেট করে রেখে সে তিনমাথা ইসলামি ব্যাংক বুথ থেকে ১৫,০০০/-(পনেরো হাজার) টাকা উত্তোলন করে নিয়ে এসে তার ক্রয়কৃত মালামালসহ নওগাঁ জেলার সাপাহার থানাধীন নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। এরপর তার পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে সে ২০/০৪/২০২৩ খ্রি. তারিখ রাত অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় বগুড়ায় আসে। সারারাত ঘোরাফেরা করে ২১/০৪/২০২৩ খ্রি. তারিখ রাত্রী ২/৩ টার দিকে উত্তর পূর্ব কোনার চায়ের দোকানের পাশ দিয়ে পোষ্ট অফিসের ওয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে পোষ্ট অফিসের মসজিদ ও গ্যারেজের পিছনে এক কোণায় অপেক্ষা করতে থাকে। পরে সকাল অনুমান ৬/৭ টার দিকে পোস্ট অফিসের গার্ড প্রসাব করতে গেলে সে যন্ত্রপাতির ব্যাগসহ চুপি সারে কেঁচিগেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় গিয়ে ছাদের গেটের কোনায় সিঁড়ি ঘরে লুকিয়ে থাকে। সেখানে বসে কয়েকটি লাল ব্যানসন সিগারেট খায়। এরপর দুপুর অনুমান ০১.০০ ঘটিকার দিকে সুযোগ বুঝে নিচে নামার চেষ্টা করে। কিন্তু কর্তব্যরত গার্ড পোস্ট অফিসের ভিতরে থাকার কারণে নিচে নামতে না পেরে সে পুনরায় উপরে উঠে লুকিয়ে থাকে। পরবর্তীতে কর্তব্যরত গার্ড পোস্ট অফিসের মসজিদের অজু খানায় হাতমুখ ধুতে গেলে সে সেই সুযোগে দুপুর অনুমান ০১.১৫ ঘটিকার দিকে ভোল্ট রুমের দিকে যায় এবং জানালার গ্রিল ভেঙ্গে ভোল্ট রুমে প্রবেশ করে। ভোল্ট রুমে প্রবেশ করে ভোল্ট রুমের সিসি টিভি ক্যামেরার লাইন কেটে দেয় এবং ভোল্ট কাটে কিন্তু টাকার বাক্স দুরে থাকায় টাকা নিতে পারে না। পরে সবকিছু ওইখানে রেখে সন্ধ্যা ৬/৭ টার দিকে মূলগেট টপকে বাইরে বের হয়ে তার নওগাঁর ভাড়া বাসায় চলে যায়। একদিন নওগাঁর ভাড়া বাসায় অবস্থান করে রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যায়। পরের দিন ঈদের নামাজ পড়ে বাড়িতেই অবস্থান করে। ঈদের পরের দিন বিকালে সে মোটরসাইকেল নিয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে নওগাঁর ভাড়া বাসায় আসে সেখানে মোটরসাইকেল গ্যারেজে রেখে বাস যোগে রাত্রী ৯/৯.৩০ এর দিকে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে এসে চারমাথায় বাস হতে নামে। চারমাথা থেকে সিএনজি নিয়ে সাতমাথা আসে। সাতমাথা নেমে রাত্রী অনুমান ০২.০০ টা পর্যন্ত পোস্ট অফিসের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। রাত্রী দুইটার দিকে চায়ের দোকানের পাশ দিয়ে ওয়াল টপকে পোষ্ট অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে। কিন্তু ঐদিন কেঁচিগেট লাগানো থাকায় পোস্ট অফিসের বারান্দার গ্রিলের দুইটা পাতি রেঞ্জ দিয়ে ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে কর্তব্যরত গার্ড জেগে থাকায় সে কার্টুন ও বস্তার আড়ালে ঘন্টাখানিক অপেক্ষা করে। এক সময় সতর্কতার সাথে সিসি টিভি ক্যামেরা ঘুরিয়ে দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে সোজা ভোল্ট রুমে চলে যায়। ভোল্ট রুমের টাকার র্যাক কাছে নিয়ে আসার কিছু না থাকায় সে অন্য ২/৩ টা রুমের তালা কেটে ভেতর থেকে একটি লম্বা রড নিয়ে আসে। রুমের তালা কাটার শব্দে কর্তব্যরত গার্ড জেগে যায় এবং গার্ডের সাথে তার ধস্তাধস্তি হয়। পরবর্তীতে তার কাছে থাকা এসএস পাইপ দিয়ে গার্ডের মাথায় আঘাত করে ও গলা চেপে ধরে থাকে এতে ঘটনাস্থলেই গার্ড মারা যায়। সে পুনরায় ভোল্ট রুমে গিয়ে ওই রড দিয়ে ভল্ট রুমে থাকা র্যাকটি কাছে নিয়ে এসে র্যাকে রক্ষিত ১০০(একশত) টাকার ৭০(সত্তর) টি বান্ডিল ও ৫০ (পঞ্চাশ) টাকার ২০ (বিশ) টি বান্ডিল যাতে সর্বমোট ৮,০০,০০০/-(আট লক্ষ) টাকা ছিলো উক্ত টাকাগুলো তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে নিয়ে সকাল অনুমান ০৭.০০ ঘটিকার সময় সে মৃত গার্ডের পকেটে থাকা কেঁচিগেটের চাবি বের করে নিয়ে ভিতরের গেট এবং মূল গেটের তালা খুলে বাহিরে বের হয়ে বাহির থেকে মূল গেট তালা দিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সে সাতমাথা জিরো পয়েন্ট থেকে অটোরিক্সা ধরে চারমাথা যায়। পরে চারমাথা হতে বাস যোগে নওগাঁ চলে যায়। নওগাঁ গিয়ে নওগাঁ সদরে অবস্থিত জলিল মার্কেটের মার্কেন্টাইল ব্যাংকে তার একাউন্টে ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা এবং ডাচ্ বাংলা ব্যাংকে তার একাউন্টে ৩,৭৬,০০০/-(তিন লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার) টাকা জমা রেখে সে তার নওগাঁর ভাড়া বাসায় যায়। সেখানকার গ্যারেজ থেকে তার মোটরসাইকেল নিয়ে গ্রামের বাড়ি সাপাহারে চলে যায়। ধৃত আসামী একজন পেশাদার চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী সে আরো জানায় যে, সে ইতিপূর্বে ২০১৯ সালে ডিএমপি বনানী থানা এলাকায় জনতা ব্যাংকের ভল্ট কেটে টাকা লুন্ঠন করার সময় ধৃত হয়। তাছাড়া সে বাংলাদেশের বিভিন্ন থানা এলাকায় দোকানঘরে চুরি, বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি, ছিনতাইসহ পার্শ্ববর্তীদেশ ভারতেও ডাকাতি ও ছিনতাই কার্যক্রম চালিয়ে কারাভোগ করেছে বলে স্বীকার করে।
সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে টিম ডিবি বগুড়ার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৪১৮ দিন ২৩ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
৪৩৩ দিন ১৮ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
৪৬৬ দিন ১৯ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
৪৬৭ দিন ১৮ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
৬৪৯ দিন ১৭ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
৬৬২ দিন ১৯ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
৬৬৯ দিন ২০ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৬৭৬ দিন ১৩ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে