সোহেল পারভেজ, কেশবপুর প্রতিনিধি
ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কাজে দূর্নীতির সুযোগ না দেয়ায় কেশবপুরের হাসানপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি ও জামায়াতের ইন্ধনে কতিপয় মেম্বররা এ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে এলাকার উন্নয়নে বাধাগ্রস্থ শুরু করেছেন।
জানা যায়, সামাজিক ও নির্বাচনী বিরোধের জের ধরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য তৌহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসানপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর হেকমত আলী, কামরুজ্জামান, আরশাফুজ্জামান, কল্লোল দাস, আব্দুর রশিদ, আরফাজুল ইসলাম চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছেন। উক্ত ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অন্যান্য ইউপি সদস্যবৃন্দ। এছাড়াও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষও একাত্মতা প্রকাশ করে অপপ্রচারে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান তৌহিদুজ্জামান বলেন, তার পরিষদের বিএনপি ও জামাতপন্থী মেম্বররা আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ করতে আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে করেছেন। মিথ্যা অভিযোগ সত্য বানাতে কর্মসূজন কর্মসূচি প্রকল্পের সর্দার আলম হোসেনকে মারপিট করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষি দিতে বলা হচ্ছে। ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বর আরফাজুল ইসলামের পিতা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকারের ভূমিকায়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন সড়কের গাছ কেটে সড়ক অবরোধসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ছিল মেম্বর হেকমত আলী। যারা অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন সবাই বিএনপি জামায়াতের কর্মী। নৌকা প্রতিক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপি সমর্থিত মেম্বর হেকমত ও আরফাজুল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ভিজিডি কার্ড দেবার নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে টাকা নেয়া বন্ধ করে দেয়ায় তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। মেম্বর কামরুল ও বুলবুল এলজিএসপির কাজ করেছেন। মেম্বর রুবিয়া, জাহানারা ও আরফাজুল কাবিটা প্রকল্পের কাজ করেছেন। মেম্বর হেকমত টিআর প্রকল্পের কাজ করেছেন। এসব প্রকল্পে তারা অনেক অনিয়ম ও দূর্নীতি করেছেন যে কারনে এবার অন্য মেম্বরদের দিয়ে প্রকল্পের কাজ করানো হচ্ছে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা এসব অভিযোগ করেছেন। ৩০ কেজি চাউলের কার্ড ও প্রতিবন্ধীদের কার্ড দেবার কথা বলেও হেকমত মেম্বর অনেকের নিকট থেকে টাকা নিয়েছেন যা তদন্ত করলে প্রমান হবে।
মেম্বররা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যেসব অভিযোগ দিয়েছেন প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য দ্রুত সেসব অভিযোগের তদন্ত করার জন্য চেয়ারম্যান তৌহিদুজ্জামান অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি আমার কর্মী-সমর্থক ও ইউনিয়নবাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি, মাননীয় সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার ও উপজেলা প্রশাসন সব বিষয়ে অবগত আছেন। এসব বিষয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে ধৈযর্য সহকারে সকল ষড়যন্ত্র মেকাবিলা করার আহবান জানিয়েছেন।
মেম্বর হেকমত আলী বলেন, চেয়ারম্যান নিজের ইচ্ছামত পরিষদ পরিচালনা করেন। মেম্বরদের মূল্যায়ন করেন না যে কারনে আমরা অভিযোগ করেছি। অভিযোগ করার পর চেয়ারম্যানের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে সে কারনে তিনি আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। কার্ড দেবার কথা বলে টাকা নেয়ার ঘটনার কোন সত্যতা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
মেম্বর আরফাজুল ইসলাম বলেন, আমার পিতা রাজাকার ছিল এটা সঠিক। তিনি দুইবছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু আমার জন্মের পর থেকে আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত এবং সকল কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করি। চেয়ারম্যানের দূর্নীতির প্রতিবাদ করাই আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে যা সত্য নাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ হয়েছে। তদন্তের পর সত্য মিথ্যা জানা যাবে।
৬৭১ দিন ৯ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
৬৯১ দিন ৫ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
৬৯১ দিন ৫ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
৭২৬ দিন ১৩ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৭২৮ দিন ৮ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
৭৩০ দিন ১১ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
৭৩০ দিন ১৮ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৭৩২ দিন ১০ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে