পুলিশেরচিরায়ত নিয়মে ফুলে ফুলে সুসজ্জিত গাড়িতে চড়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিলেন কুষ্টিয়ার মানবিক পুলিশ সুপার জনাব মোঃখাইরুল আলম কুষ্টিয়াজেলার আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং সবার জন্য আইনের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার যে ব্রত নিয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে এসেছিলেন জনাব মোঃ খাইরুল আলম, তা তার বিদায়জনিত কারণে সমাপ্তি।আজ তিনি কুষ্টিয়া জেলা থেকে হাইওয়ে পুলিশে বদলী হয়েছেন। সকল আবেগের ঊর্দ্ধে উঠে বিদায় নিচ্ছেন কুষ্টিয়া জেলার সাধারণ মানুষের কাছে আস্থা ও ভালোবাসার প্রিয় মানুষ হয়ে ওঠা প্রজাতন্ত্রের এই কর্মকর্তা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়েও শুধু নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যে মানুষটা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে এসেছিলেন কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে, এখন তার বিদায়ে কুষ্টিয়াবাসী আজ আবেগতাড়িত,বাকরুদ্ধ ও অশ্রুসিক্ত ।টানা ২ বছর পাঁচ মাসের মতো দায়িত্ব পালনের পর কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপার জনাব এ এইচ এম আব্দুর রকিব বিপিএম, পিপিএম(বার) মহোদয়ের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করে তাঁর বদলিকৃত কর্মস্থলের উদ্দ্যেশে কুষ্টিয়া ত্যাগ করেন।মোঃখাইরুল আলম কুষ্টয়ায় ০২ বছরপাঁচ মাসের মতো পুলিশ সুপার হিসাবে অত্যন্ত দক্ষতা এবং সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়, মানবিক এবং জনবান্ধব একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেনএবং দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত সুনাম ও আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার এক প্রিয় নাম এসপিখাইরুল আলম। তার কর্মকালে সকলের সাথে সুসম্পর্ক রেখে জনসাধারণকে তিনি উজার করা সেবা দিয়েছেন, বিপদে-আপদে জনগণের পাশে দাড়িয়ে অসহায় ও নিপীড়িতদের সাহস ও শক্তি যুগিয়েছেন। কুষ্টিয়াবাসীর আস্থার ও ভালোবাসার মানুষ ছিলেন তিনি।পুলিশসুপার মোঃ খাইরুল আলম কুষ্টয়া জেলার সর্বজনের কাছে এক জননন্দিত নাম। দায়িত্বভার গ্রহণের পর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পুলিশ বিভাগেও কুষ্টিয়ার জনগণের নিকট তিনি ঘনিষ্ট হয়ে যান তার কাজের মাধ্যমে। সহজ সরল নিরীহ জনগণের পুলিশি সেবা প্রাপ্তির সহজলভ্যতা এখন অত্র জেলার মানুষের মুখে মুখে। তাঁর অসাম্য কর্মপ্রচেষ্টায় দেশ ও জাতির কাছে আজ তা দৃশ্যমান। অন্যদিকে বিভাগীয় কার্যক্রমের বিত্তের বাইরেও রয়েছে তাঁর নানাবিধ সামাজিক কর্মদ্যোগ।কুষ্টিয়ার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে এলাকার সকল শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় সভা সমাবেশ করে জঙ্গি ও গুজব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করেছেন তিনি। মাদক,সন্ত্রাস,ডাকাত সহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে চিরুনী অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের শীর্ষ এই অফিসারের কঠোর নির্দেশে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যাবসায়ী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান পরিচালনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এসপি মোঃ খাইরুল আলমের এমন পদক্ষেপের কারনে অপরাধ প্রবনতা অনেকাংশেই কমে এসেছে। উল্লেখ জেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করে প্রায়শই বলেন পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম অপরাধীদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। আগে যে মানুষ গুলো পুলিশ সর্ম্পকে বিরুপ মন্তব্য করতো তারাই আজ র্গব করে পুলিশের সর্ম্পকে প্রশংসা করতে দ্বিধাবোধ করে না।পুলিশ নিয়ে অনেকের বিরূপ ধারণা থাকলেও কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি), যশোরের সন্তান মোঃ খাইরুল আলম সে ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। দুষ্টের দমন, শিষ্টের লালন নীতিতে কাজ করে তিনি সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় কাগজে কলমে সমাপ্তি হওয়া অনেক গুলো মামলার জট। তিনি টিম ওয়ার্কের (টিম কুষ্টিয়া) মাধ্যমে মামলা গুলোর বিশাল জট নিরসনে দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করেন। দায়িত্ব নেয়ার পর শান্তি রক্ষায় অনেক অনেক ভালো ভালো উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন এসপি মোঃ খাইরুল আলম । জটিল এবং ক্লুলেস অনেক মামলার যেমন সহজ সুরাহা হয়েছে তার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপের ফলে,নিস্বপত্তি হয়েছে অনেক জট লেগে থাকা মামলারও। এমনিভাবে নানা সংকটের সময় মানবিক কাজের দ্বারাও তিনি দারুণ ভাবে প্রশংসিত হয়েছেন কুষ্টিয়া জুড়ে। এক্ষেত্রেও প্রচুর উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন কুষ্টিয়ার বিদায়ী এ পুলিশ সুপার। তার মানবিক কার্যক্রমে অনেকে যেমন আনন্দে ভাসছেন, তেমনি ভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদছেনও।পুলিশ জনগণের বন্ধু এ কথাটি এত দিন কাগজে-কলমে থাকলেও করোনা সংকটের সময় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ দেখেছে প্রকৃত পুলিশের রুপ। সুযোগ পেলে পুলিশ কি না করতে পারে তার প্রমাণ কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ দিয়েছেন। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের এই ভুমিকা প্রশংসিত হয়েছে নানা মহলে। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ বাহিনী করোনা ভাইরাসের সম্মুখ যুদ্ধে কুষ্টিয়ার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম এর সু-র্নিদেশনায় কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ কুষ্টিয়াবাসিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন তারাই বাংলার র্সূয্য সন্তান। চোখে না দেখা এমন এক মরনব্যাধির যুদ্ধে সবাই যখন ঘরে পুলিশ তখন আমাদের জন্য দিন রাত বাহিরে। নিজেদের জীবনের তুয়াক্কা না করে তারা নিরলস ভাবে ছুটে চলেছেন আমাদের তরে। ভাবেননি তাদের পরিবার পরিজনের কথা। দিন রাত কাজ করেছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে। শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়। কাজ করছেন সব শ্রেনীর মানুষের জন্য। পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী নিজ হাতে বহন করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন। পুলিশ সদস্যদের সাথে নিয়ে থানায় থানায় গিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন এবং সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। করোনাযুদ্ধে সহযোদ্ধা মারা গেলেও দমে যায়নি তারা। মাঠপর্যায়ে মানুষের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। মানুষকে সেবা দিয়েছেন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পুলিশের প্রতিটি সদস্য সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখাসহ সব ধরনের কাজ করছেন। অতীতে এমন মানবিক পুলিশকে দেখেননি কুষ্টিয়ার মানুষ।
৭ দিন ৬ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
৭ দিন ৮ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
৭ দিন ১৫ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
২১ দিন ২১ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
৩৬ দিন ৪৭ মিনিট আগে
৪৮ দিন ৬ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৬০ দিন ১৩ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
৬৪ দিন ৫ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে