গ্রীষ্মের প্রখর রোদ্দুরে পুষ্পভারে আচ্ছাদিত রাস্তার দুই পাশের জারুল গাছ। জারুলের গাঢ় বেগুনি রঙের ফুল সৌন্দর্যের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে সর্বত্র। হালকা নিলুয়া বাতাসে সবুজ পাতার ফাঁকে মাথা তুলেছে জারুলের বেগুনি পাপড়ি। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, আদিতমারী ও কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা মিলে জারুল ফুলের সৌন্দর্য। সবুজ প্রকৃতির মাঝে রোদে ঝলমল করে একেকটি জারুল গাছ। গ্রীষ্মের শুরুতেই জারুল ফুল মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেয়। রং আর রূপের বাহার ছড়ানো অপরূপ বর্ণিল সাজের এ ফুল প্রকৃতিকে সাজিয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যে। লালমনিরহাটের বিভিন্ন সড়কের পাশে জারুল ফুলের ঝুমকো সৃষ্টি করেছে অপরূপ নান্দনিকতা। জারুলকে বলা হয় বাংলার চেরি। গ্রীষ্মে ফোটা এ ফুলের রূপ দেখে চোখ ভরে যায়।
জারুলের রঙে মুগ্ধ হয়ে কবি আহসান হাবিব তার স্বদেশ কবিতায় লিখেছেন, মনের মধ্যে যখন খুশি এই ছবিটি আঁকি, এক পাশে তার জারুল গাছে দুটি হলুদ পাখি।
উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা জানান, জারুলের আদি নিবাস শ্রীলঙ্কা হলেও এটি ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব বৃক্ষ। বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও চীন, মালয়েশিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে জারুল গাছের দেখা মেলে। জারুল ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম লেজারস্ট্রমিয়া স্পেসিওসা। জারুলগাছ সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিটার উঁচু হয়। গ্রীষ্মের শুরুতেই এর ফুল ফোটে এবং শরৎ পর্যন্ত দেখা যায়। ফুল শেষে গাছে বীজ হয়। বীজ দেখতে গোলাকার। জারুল বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। বাংলাদেশে সাধারণত নীলাভ ও গোলাপি এ দুই রঙের জারুল ফুল দেখা যায়। জারুলগাছের বীজ, ছাল ও পাতা ডায়াবেটিস রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া জ্বর, অনিদ্রা, কাশি ও অজীর্ণতার চিকিৎসায়ও জারুল যথার্থ উপকারী।
ছবি: বায়েজিদ হোসাইন, পাটগ্রাম লালমনিরহাট।
১৬৬ দিন ৩ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
১৭৩ দিন ১৭ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
২০৭ দিন ১৩ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
২২৪ দিন ৫ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
২২৯ দিন ৮ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
২৩৩ দিন ৫ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
২৩৪ দিন ৮ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
২৩৪ দিন ৯ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে