লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত দেশের বহুল আলোচিত ছিটমহল দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাবাসীর যাতায়াতের জন্য তিন বিঘা করিডোরের গেট ২৪ ঘণ্টা খুলে দেওয়া হলেও সেখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা এখনো বাংলাদেশিদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।
তিন বিঘা করিডোর দিয়ে পারাপারের সময় ছিটমহলবাসী প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছেন বিএসএফের নির্যাতনের। এ নিয়ে ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে ছিটমহলবাসীর মধ্যে।
১৯৯২ সালের ২৬ জুন ভারত সরকার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলবাসীর যাতায়াতের জন্য শুধু মাত্র দিনের বেলা এক ঘণ্টা পর পর সন্ধা ৬টা পর্যন্ত করিডোরের গেট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তী সময়ে করিডোরের গেট সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এতে দহগ্রামবাসীর বন্দী জীবনের আংশিক অবসান হলেও রাতের বেলা তারা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ২৪ ঘণ্টা করিডোরের গেট খুলে দেওয়ার জন্য দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাবাসী দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
অবশেষে ২০১১ সালে বাংলাদেশ সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে তিন-বিঘা করিডোরের গেট ২৪ ঘণ্টা খুলে দেওয়ার ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দহগ্রাম সফরে আসেন এবং সেই দিনই করিডোরের গেট ২৪ ঘণ্টা খুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা বাসীর জন্য করিডোরের গেট ২৪ ঘণ্টা খুলে দেওয়া হলেও তাদের বঞ্চনার অবসান ঘটেনি। করিডোরের গেট দিয়ে গরু পারাপারে শর্ত আরোপ করায় ছিটমহলবাসী প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
শুধু শনিবার ও বুধবার প্রতি হাটে ৩০টি করে মোট ৬০টি গরু পারাপারের অনুমতি রয়েছে করিডোরের গেট দিয়ে। অন্যান্য দিন গরু পারাপারের অনুমতি না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে বা কোনো আনুষ্ঠানিকতায় তারা গরু পারাপার করতে পারেন না। যানবাহনে যাত্রী পারাপার করলে বিএসএফের মাধ্যমে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছে যাত্রীরা।
দহগ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন (২৩), আলী মিয়া (৪৫) ও কলেজ ছাত্রী শেফালী বেগম (২০) অভিযোগ করে বলেন, করিডোরের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কেউ মোবাইল ফোনে কথা বললে বিএসএফ তাদের ধরে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায়।
দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘‘বর্তমানে দহগ্রাম ইউনিয়নে প্রায় ২২ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। তাদের দাবি তারা যাতে অবাধে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে তিন বিঘা করিডোর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করতে পারেন। ’’
দহগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি রেজানুর রহমান রেজা বলেন , ‘‘বন্দিদশা থেকে বেড়িয়ে এলেও ভারত তিন বিঘা করিডোরের চারিদিকে ১৫ ফুট উচ্চতায় কাটা তারের বেড়া দিয়েছে। ফলে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার মানুষ ক্রমশই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। তাদের আশঙ্কা, কাটা তারের বেড়া দিয়ে আবারও তাদের বন্দি করে ফেলা হবে কি না।
এদিকে, ২৬ জুন শনিবার দেশের বহুল আলোচিত ছিটমহল দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা মুক্ত দিবস নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করছে স্থানীয় লোকজন। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মিলাদ মাহফিল, বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা।
১৬৬ দিন ৩ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
১৭৩ দিন ১৭ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
২০৭ দিন ১৩ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
২২৪ দিন ৫ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
২২৯ দিন ৮ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
২৩৩ দিন ৫ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
২৩৪ দিন ৮ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
২৩৪ দিন ৯ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে