লালমনিরহাটের পাটগ্রামে আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের ধাওয়া করেছে। উপজেলার সরকারী ও বেসরকারী অনন্ত ১৫ টি স্থাপনায় ভাঙচুর এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (০৪ আগস্ট) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত থেমে থেমে এসব ঘটনা ঘটে।
উপজেলার বাইপাস মোড় সড়কে সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে থাকে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা থেকে প্রায় কয়েক হাজার আন্দোলনকারী হাতে লাঠি, সোটা নিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় বিএনপি, জামাত, ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের কর্মীরাও আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে এবং অংশ নেয়। এতে বুড়িমারী স্থলবন্দর-পাটগ্রাম মহাসড়ক, পাটগ্রাম-লালমনিরহাট মহাসড়ক অচল হয়ে পড়ে।
এ সময় উপজেলার সরকারী কলেজ মোড়, পূর্ব ও পশ্চিম চৌরঙ্গী মোড়, পৌরসভা মোড়, রেল স্টেশন মোড়, দহগ্রাম রেলগেট মোড় সড়কে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়ায় পুরো উপজেলা জুড়ে সকাল থেকে থমথমে অবস্থার সৃষ্টি হয়। সকাল সাড়ে ১০ টায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বাইপাস মোড়ে যায়। এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরকে ধাওয়া করে। এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দিকে চলে যায়। পাটগ্রামে রোববার সাপ্তাহিক স্থানীয় হাটবার। এতে বাজারে আসা লোকজন দিকবিদিক ছুটে যায় ও মূহুর্তে দোকানপাট বন্ধ হয়ে ফাঁকা হয়ে যায়। ইটপাটকেলের আঘাতে আন্দোলনকারীদের দুই জন আহত হয়েছে। তাদের নাম ঠিাকানা জানা সম্ভব হয়নি।
প্রায় ৩ ঘন্টা বাইপাস মোড় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে বক্তব্য দিতে থাকে। এ সময় পৌর বিএনপি’র সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল ও উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং পাটগ্রাম বিএম কলেজ কলেজের অধ্যক্ষ শওকত হায়াত প্রধান বাবু আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন। অন্যান্যদের মধ্যে হাতীবান্ধা আলীমুদ্দিন সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান, উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ আনসারি, তা’মীরুল মিল্লাত মাদ্রসার শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত ও পাটগ্রাম সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী মতিউর রহমান মাহি বক্তব্য দেন। আন্দোলনকারীরা এ সময় একদফা একদাবি বাস্তবায়ন ও সরকারের পদত্যাগের দাবি জানান।
দুপুর একটার পর আন্দোলকারীরা বাইপাস মোড় হতে শহরে প্রবেশ করে। এ সময় উপজেলা পরিষদের নতুন ভবন, মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন অডিটোরিয়াম, সমবায় কার্যালয়, সমাজসেবা কার্যালয়, নির্বাচন কার্যালয়, হিসাব রক্ষণ কার্যালয়, সাব রেজিস্ট্রি কার্যালয়, উপজেলা পরিষদে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও ম্যুরালে লাল রঙ দিয়ে ভুয়া লেখা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, জেলা পরিষদের দুইটি ডাকবাংলো, টি.এন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোটেল প্যারাডাইস, ডাচ বাংলা ব্যাংক, রংতুলি আর্ট একাডেমি, পাটগ্রাম পৌরভবনসহ অন্তত ১৫ টি সরকারী- বেসরকারী স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় আন্দোলনকারীরা এবং এসব স্থাপনার প্রায় ১৫ থেকে ২০ টি সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলা হয়। এ সময় বিজিবি ক্যাম্পের সামনে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে রাখা ৩ টি ও টি.এন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভিতরে রাখা ৬ টি মোটরসাইকেল পৌরসভার ভেতরে রাখা ৪ টি ট্রাক, জেলা পরিষদের ভেতরে রাখা ১ টি ট্রাক ভাঙচুর করা হয়। পাটগ্রাম থানা ভবনে ও বিজিবি ব্যাটালিয়নের গাড়িতেও ইটপাটকেল ছুঁড়ে আন্দোলনকারীরা। প্রায় দুপুর দেড়টার দিকে পূর্ব চৌরঙ্গী মোড়ে আন্দোলনকারীরা অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত করে ফিরে যায়।
পাটগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, আমরা আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। এখনও উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পুলিশ রয়েছে। অনাকাঙ্খিত ঘটনা এঁড়াতে সর্তক রয়েছে পুলিশ।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীদেরকে বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশের টহল জোড়দার করা হয়েছে।
১৬৪ দিন ১৩ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
১৭২ দিন ৩ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
২০৫ দিন ২৩ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
২২২ দিন ১৫ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
২২৭ দিন ১৮ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
২৩১ দিন ১৫ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
২৩২ দিন ১৮ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
২৩২ দিন ১৯ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে