আপোষ মিমাংসার ২৪ ঘন্টা না পেরোতেই দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হলেন মির্জার্চর ইউনিয়নের দুই দুই বারে সফল চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিক। অদ্য ৩ ডিসেম্বর শনিবার বিকেলে মির্জারচর ইউনিয়নের শান্তিপুর বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
জাফর ইকবাল মানিক নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মির্জারচর ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান। জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন সফল চেয়ারম্যান। মির্জারচর ইউনিয়নের একজন জনপ্রিয় আওয়ামীলীগ নেতা।
নিহত মির্জারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিক আজ সামাজিক কাজে শান্তিপুর গ্রামে যান। তখন বাজারে উৎপেতে থাকা সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তার উপর হামলা চালায়। জাফর ইকবাল মানিক কে গুলি করে দূর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
আশে পাশের লোকজন এসে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ট্রলারে তুললে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুর্বৃত্তের হাতে এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঘটনার পর বন্দুক যুদ্ধ চলমান চরাঞ্চলে । নিহত মানিক চেয়ারম্যানের ভাই ও তার সমর্থকরা দাবী করেন ফারুক বাহিনীর হাতে খুন হয়েছে মানিক চেয়ারম্যান।
চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবত বিজয়ী মানিক চেয়ারম্যান ও পরাজিত প্রার্থী ফারুক ও তাদের সমর্থকদের মাঝে দফায় দফায় টেটা ও বন্দুক যুদ্ধ হয়েছে। বছরের পর বছর চলতে থাকা এই টেটা ও বন্দুক যুদ্ধে প্রান হারিয়েছে অসংখ্য মানুষ। ঘরবাড়ি পুড়ানো হয়েছে অসংখ্য মানুষের, আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ।
দীর্ঘদিন যাবত চলতে থাকা এই ঝগড়া সংঘর্ষ বন্ধে ২৪ ঘন্টা আগেই পুলিশ, গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের উপস্থিতে আপোষ মিমাংসা করা হয়। নিহত মানিক চেয়ারম্যান ও ফারুক দুইজনের উপস্থিতেই এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আপোষ মিমাংসা করা হয়।
কিন্তু আপোষ মিমাংসার ২৪ ঘন্টা পেরোনোর আগেই, নির্মম ভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিক। কয়েক বছর আগে দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রান হারান বাশগাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক।
রায়পুরা উপজেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে বছরের পর বছর যাবত চলে আসছে এই টেটা ও বন্দুক যুদ্ধ। এলাকায় প্রভাব বিস্তার কে কেন্দ্র করে প্রতিটি ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধ হয় প্রতিনিয়ত। এই বন্দুক যুদ্ধে গত ২০ বছরে প্রান হারিয়েছে অনেক মানুষ। কোটি কোটি টাকার বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছে, কোটি কোটি টাকার সম্পদের বিনাশ হয়েছে।
রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল বাশগাড়ি, মির্জারচর,চরমধুয়া,নিলক্ষা,শ্রীনগর, চানপুর টেটা ও বন্দুক যুদ্ধের কারনে এক অভিশপ্ত জনপদে রুপ নিয়েছে।
অথচ পুলিশ প্রশাসন নিরব,নির্বাক দর্শক ছাড়া আর কিছুইনা। প্রশাসনের কোন জোড়ালো পদক্ষেপই নেই এই অভিশপ্ত টেটা ও বন্দুক যুদ্ধ নির্মূলে। সম্পুর্ণ ব্যর্থ পুলিশ প্রশাসন। দিনে দিনে এসব চরাঞ্চলে অবস্থার আরো অবনতি হচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতিতে পৌছেছে। সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনের এই বিষয়ে জোড়ালো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি দরকার।
১৬৬ দিন ৮ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
২১২ দিন ১৩ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
২২৫ দিন ২ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৩৪৭ দিন ১ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৩৫৬ দিন ২৩ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৪০৬ দিন ১ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৪৭১ দিন ১৮ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৪৭২ দিন ১৫ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে