রায়পুরা চাঞ্চল্যকর ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিক হত্যার রহস্য উদঘাটনের প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত বিবরন প্রদান করেন।
গত ৩ ডিসেম্বর এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয় মির্জারচর ইউনিয়নের দুই দুই বার নির্বাচিত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিক কে।
রায়পুরা থানাধীন মির্জারচর ইউনিয়নের শান্তিপুর ৩নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেরিবাধের অগ্রগতি বিষয়ক সভা শেষ করে ফেরার পথে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হন মির্জারচর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিক। দুর্বৃত্তরা গুলি করে দ্রুত পালিয়ে চলে যান।
পরবর্তীতে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। উল্লেখিত ঘটনাটি জেলা পুলিশের দৃষ্টিগোচরে আসার সাথে সাথে পুলিশ সুপার, নরসিংদীর নির্দেশে থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখাকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ সুপার, নরসিংদী স্বশরীলে জেলার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শনপূর্বক এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন। থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা ছায়া তদন্ত শুরু করে।
উল্লেখিত ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী মোছাঃ মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে ২১জন এজাহারনামীয় আসামী এবং ৪/৫ জন অজ্ঞাত আসামীগণের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানার মামলা দায়ের করেন
জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক চৌকস টিম চরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ২জন আসামীকে রায়পুরা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে তারা কিলিং মিশনে সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন এবং এই ঘটনার সাথে কারা জড়িত সে বিষয়েও পুলিশকে তথ্য প্রদান করেন। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
মূলত চর এলাকার দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আধিপত্য বিস্তার, পূর্ব শত্রুতা এবং আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কারণেই এই হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছে। হত্যাকান্ডের পূর্বেই আসামীগণ বিশেষ সভা করে হত্যাকান্ডের নীলনকশার ছক আকেন এবং পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী উল্লেখিত দিনে তা বাস্তবায়ন করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন ১। রাসেল ওরফে এবাদুল্লাহ (৩৫), পিতা-আবু সিদ্দিক, সাং-মির্জারচর ব্যাপারীবাড়ি, রায়পুরা, নরসিংদী।
২। রমজান (২৮), পিতা-জয়নাল মিয়া, সাং- মির্জারচর বিরামপাড়া, রায়পুরা, নরসিংদী। গ্রেফতারের সময় আসামীদের কাছ থেকে দুইটি একনলা বন্দুক ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের পিসি-পিআর
সিডিএমএস পর্যালোচনায় আসামী রাসেল ওরফে এবাদুল্লাহর বিরুদ্ধে হত্যা, মারামারি ও বিস্ফোরক আইনে রায়পুরা থানায় ৫টি মামলা (তার মধ্যে ৪টি খুন মামলা) ও আসামী রমজানের বিরুদ্ধে হত্যা, মারামারি ও বিস্ফোরক আইনে রায়পুরা থানায় ৪টি মামলা (তার মধ্যে ৩টি খুন মামলা) রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে উল্লেখিত হত্যা মামলায় গ্রেফতার পূর্বক অদ্যই বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে এবং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।
১৬৬ দিন ৮ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
২১২ দিন ১৩ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
২২৫ দিন ২ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৩৪৭ দিন ১ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৩৫৬ দিন ২৩ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৪০৬ দিন ১ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৪৭১ দিন ১৮ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৪৭২ দিন ১৫ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে