রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন কাজী কেরামত আলী রাজবাড়ী ১আসন ও জিল্লুহ হাকিম রাজবাড়ী ২ আসন।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী ১ ও ২ আসনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন কাজী কেরামত আলী এমপি ও জিল্লুর হাকিম।রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ৩০০ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে।।এর আগে কয়েক দফায় দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী ঠিক করে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব সভায় সভাপতিত্ব করেন।এর আগে, রাজবাড়ী জেলার দুইটি সংসদীয় আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য ১৬ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।
রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ৩০০ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে, রাজবাড়ী জেলার দুইটি সংসদীয় আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য ১৬ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।
রাজবাড়ী -১ আসন
রাজবাড়ী-১ (রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ) আসন নিয়ে গঠিত। এ আসনে কাজী কেরামত আলী ১৯৯৩ সালের উপনির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬, ২০০৮,২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন তিনি। ষষ্ঠ বারের মত এ সংসদ সদস্য ২০১৮ সালের শুরুতে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী (মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ) হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন।
কাজী কেরামত আলী ১৯৫৪ সালে ২২ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলা শহরের হাসপাতাল রোডের সজ্জনকান্দার বাসায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম কাজী হেদায়েত হোসেন এবং মায়ের নাম মনাক্কা বেগম।
রাজবাড়ী ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিকম সম্মানসহ এমকম ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তিনি ব্যবসার পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারী ৯ তারিখ পর্যন্ত রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছেন।
কাজী কেরামত আলীর বাবা মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেন ছিলেন, বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধা, রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রাক্তন গণপরিষদ সদস্য, রাজবাড়ী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এবং আওয়ামীলীগের তৎকালীন রাজবাড়ী আঞ্চলিক জোনের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা থেমে যায়নি। তারা বঙ্গবন্ধু’র সহযোদ্ধাদেরও খুঁজে বের করে হত্যা করে। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাত্র তিন দিনের মাথায় ১৮ আগষ্ট প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে কাজী হেদায়েত হোসেনকে।
রাজবাড়ী-১ (সদর-গোয়ালন্দ) আসনে নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী কেরামত আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি রাজবাড়ী-১ আসন থেকে পাঁচ বারের সংসদ সদস্য। নেত্রী আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করেন। আমার বাবা মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেন জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর ছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ে আমার নেতাকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় নেত্রী পুনরায় আমাকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছেন।আমি আশাবাদী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো। আমার অসামপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করবো।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে দ্রুত টানেল অথবা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করার জন্য নেত্রীকে বলবো। এছাড়াও বেকারত্ব দূরীকরণে আমার এলাকায় একটি ইপিজেড গড়ে তোলা হবে। নদী ভাঙন থেকে রাজবাড়ী শহরকে রক্ষা করার জন্য নদী শাসনের স্থায়ী সমাধান করবো।
রাজবাড়ী -২ আসন
রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) উপজেলা নিয়ে এ আসন গঠিত। এই আসনে এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুল হাকিম। তিনি রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুল হাকিম ১৯৫৪ সালের ২ জানুয়ারি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার আনন্দবাজার গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মো. আবুল হোসেন নিজেও ছিলেন একজন সমাজসেবক এবং শিক্ষানুরাগী। জিল্লুল হাকিমের পৈতৃক বাড়ি পাংশা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.জিল্লুল হাকিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর(এমএ) পাশ করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মো. জিল্লুল হাকিম মুক্তিযুদ্ধকালীন গোয়ালন্দ মহকুমা কমান্ডার ছিলেন। তিনি সংসদ সদস্যের পাশাপাশি একজন সফল ব্যবসায়ী।তার স্ত্রী সাঈদা হাকিম ও দুই ছেলে মিতুল হাকিম ও রাতুল হাকিমও সফল ব্যবসায়ী।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুল হাকিম পাঁচ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে চার বার সংসদ সদস্য হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরের বার অর্থাৎ ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নাসিরুল হক সাবুর কাছে হেরে যান। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির নাসিরুল হক সাবুকে পরাজিত করে ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত। ২০১৪ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.জিল্লুল হাকিম সংসদ সদস্যের পাশাপাশি রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ তিনি ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তৃতীয় বারের মতো রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্যের পাশাপাশি তিনি জেলা আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।
রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুল হাকিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি রাজবাড়ী-২ আসনের চারবারের সাংসদ সদস্য। আমার প্রতি নেত্রীর আস্থা রয়েছে বলেই নেত্রী আবারও আমাকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি আশা করি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো। আমার অসমাপ্ত কাজ গুলো সমাপ্ত করবো। এছাড়াও পাংশার ক্রিয়া প্রেমীদের জন্য একটি স্টেডিয়াম ও একটি আধুনিক শিল্পকলা তৈরি করা হবে। আমার আসনে ধর্মীয় সকল প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্টসহ যাবতীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।
৩ দিন ৬ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
৬ দিন ৫ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
৭ দিন ৩৫ মিনিট আগে
৭ দিন ২৩ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
৯ দিন ১ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১০ দিন ২ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
১০ দিন ৩ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
১২ দিন ২৩ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে