রাজবাড়ীতে খালাতো বোনকে বিয়ে না করতে পেরে অভিমানে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা।
রাজবাড়ীতে খালাতো বোনকে বিয়ে না করতে পেরে অভিমানে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে নাঈম খান (১৮) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী।
রোববার (১১ ফেব্রুয়ারী) বিকালে রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের চাঁদপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত নাঈম খান ওই এলাকার মান্নান খানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নাঈমের সাথে তার খালাতো বোনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো এবং ছেলের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলে মেয়ের বাড়ীতে থেকে না করে দেয়। এ নিয়ে নাঈমের তার মা চায়না বেগমের সাথে বাক-বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে সে তার নিজ রুমে গিয়ে কাপড় দিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস নেয়। পরবর্তীতে নাঈমের মা রুমে গেলে ছেলের ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করে।
নাঈমের বাবা মান্নান খান বলেন, নাঈম শিশু থাকতে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে এবং সে সময় থেকেই তিনি ছেলেকে মানুষ করেছেন। ৭ম শ্রেনীতে পড়া অবস্থায় মোটরসাইকেলের লোভ দেখিয়ে ওর মা চায়না নাঈমকে নিয়ে যায়। এরপর দুইবার মোটর সাইকেল এক্সিডেন্ট করে নাঈম। তারপর অনেকে রাগারাগি করে মোটর সাইকেল বিক্রি করিয়েছেন এবং ছেলেকে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেছেন। তখন ছেলে বলে ওকে ওখান থেকে আসতে দেয় না। নাঈম তার কাছে না থাকলেও যখন যা চেয়েছে, তখনই তা দিয়েছেন। গতবছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক বিষয়ে ফেল করেছে। মূলত সম্পত্তির লোভে নাঈমকে ষড়যন্ত্র করে মেরেছে চায়না ও তার দ্বিতীয় বিয়ে করা স্বামী। নাঈম না থাকলে ওদের সব হয়ে যাবে এই লোভে । চায়না ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে তিনি মামলা করবেন।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের নাসিং সুপার ভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ী সদর থানার এসআই আবুল হোসেন , প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছেন সে আত্মহত্যা করেছে। গলায় ফাঁস নেবার চিহৃ রয়েছে। ময়নতদন্তের রিপোর্ট পাবার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এর পরই বিস্তারিত বলতে পারবো। তবে এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে।