বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যত্রতত্র ফিলিং স্টেশনের মতো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে চলছে জ্বালানি তেল বিক্রি।
ব্যবসায়ীদের কারো নেই বিস্ফোরক লাইসেন্স এবং ফায়ার অনুমোদন। ব্যস্ত সড়কের পাশে বিভিন্ন রকমারি দোকানের পাশে সাজানো হয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার। যেকোনও সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় থাকেন এলাকাবাসী সহ পথচারীরা।
অনুমোদন ছাড়াই মেশিনে জ্বালানি তেল বিক্রির বিষয়ে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দায়ের করা একটি অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা ভঙ্গ করে স্টোরেজ ট্যাংক এবং ডিসপেন্সিং ইউনিট বসিয়ে অবৈধভাবে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি করে আসছে উপজেলার পৌর এলাকার বাঙালি ব্রিজের পূর্ব পাশে সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় মেসার্স পারুল এন্টারপ্রাইজ এবং সারিয়াকান্দি জামিয়া ছিদ্দিকিয়া ক্বওমী মাদ্রাসা ও ট্যালেন্ট আইডয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুল সংলগ্ন মেসার্স লোপা এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি তেল কোম্পানির অনুমোদন না নিয়ে, বিস্ফোরক এবং ফায়ার অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে মেশিনে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে। এতে যেকোনও সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের অগ্নিকান্ড ও হতাহতের ঘটনা।
এছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর বাজারে ইকবাল হোসেনও অনুমোদন ছাড়াই মেশিনে জ্বালানি তেল বিক্রি করছেন।
অপরদিকে, কোনরূপ সরকারি নির্দেশনা না মেনেই উপজেলার পৌর এলাকার প্রধান সড়কের পাশে একাধিক দোকানে অবাধে চলছে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি। উপজেলার পৌর এলাকার কালিতলা নৌঘাটে, কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের দেবডাঙ্গা বাজারে, কামালপুর ইউনিয়নের কড়িতলা বাজারে, হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাসনাপাড়া ও নিজবলাইল বাজার এবং নারচী, ছাইহাটা, জোরগাছা বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে অবাধে ড্রামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। এসব বাজারের একাধিক মুদিখানার দোকানসহ বিভিন্ন রকমারি দোকানেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। যা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মেইন সড়কে স্তুপ করে রাখা হয়েছে এবং তা যেকোনও সময় বড় দুর্ঘটনার শিকারে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে মেসার্স পারুল এন্টারপ্রাইজ তেলের পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দুটি মেশিনে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। এ প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর হারুন-অর রশিদ অনুপস্থিত থাকায় তাকে ফোন দিলে তিনি ধরেন নি।
পাম্পের দায়িত্বে থাকা আছাব্বর মিয়া জানালেন, এ পাম্পের বিস্ফোরক অনুমোদন রয়েছে। ফায়ার অনুমোদন অনেক আগের। তবে সেটি নবায়ন করার জন্য কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে। মেসার্স লোপা এন্টার প্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী লোকমান হোসেন জানান, তার বিস্ফোরক লাইসেন্স আছে কিন্তু সেটা অনেক আগের। তবে তিনি জানান, গত কয়েকবছর আগে তিনি ফায়ার অনুমোদন নিয়েছেন এবং সাক্ষাতে কাগজ দেখার পরামর্শ দেন।
কুতুবপুরের ইকবাল হোসেন জানান, তিনি মেশিনে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।
বিস্ফোরক লাইসেন্স কর্তৃপক্ষ রাজশাহী অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মেসার্স পারুল এন্টারপ্রাইজকে বিস্ফোরক লাইসেন্স দেয়া হয়েছে কিন্তু তিনি শুধু ড্রামে করে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে পারবেন, তিনি কোনও মেশিনে তেল বিক্রি করতে পারবেন না। মেসার্স লোপা এন্টারপ্রাইজকে বিস্ফোরক লাইসেন্স দেয়া হয়েছে কিনা তার তথ্য অফিসে নাই। তবে গত ৫ মে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে বে আইনিভাবে ডিসপেন্সিং ইউনিট স্থাপন করে পেট্রোলিয়াম দ্রব্য মজুদ ও সরবরাহের জন্য কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না মর্মে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
ফুলবাড়ি আমতলী গ্রামের মেসার্স মুশফিকুর ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আতাউর রহমান বলেন, বিস্ফোরক, ফায়ার এবং ভ্যাট ট্যাক্স বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা সরকারের ঘরে জমা দিয়ে আমরা ব্যবসা করছি। আর সরকারের অনুমোদন ছাড়াই সরকারের মোটা অঙ্কের টাকা ফাঁকি দিয়ে কিভাবে মেশিনে জ্বালানি তেল অবাধে বিক্রি করে তা আমার বোধগম্য না। বিশাল এলাকার জনপদকে বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচাতে সরকারের কাছে আমি এর সঠিক বিচার চাই।
সারিয়াকান্দির নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার রহমান বলেন, সবেমাত্র সারিয়াকান্দি উপজেলায় যোগদান করেছি। অভিযোগটি এখনো হাতে পাইনি। হাতে পেলে অভিযোগের ভিত্তিতে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।