:"আশ্রয়ণে থাকি সম্মানে শেখ হাসিনার কল্যাণে" স্লোগানে ‘মুজিব শর্তবষে থাকবে না কোন গৃহহীন’ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ে সকল প্রকার নাগরিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত
ভূমিহীন ও গৃহহীন হতদরিদ্র পরিবারকে আধা পাকা ঘর এবং জমি প্রদান কার্যক্রমের উপকারভোগী পরিবারের নিকট গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে নয়াপাড়া গ্রামের নয়া শহর উদ্বোধন করা হয়।
বুধবার (২২ই মার্চ) সারাদেশে একযোগে ভার্চুয়ালি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ঘরগুলো হস্তান্তরসহ ৭টি জেলা ১৫৯ উপজেলা ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ উপলক্ষ্যে গাজীপুরের শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে ঢাকা বিভাগের সর্ববৃহৎ আশ্রায়ন প্রকল্পে গাজীপুর জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সিমি হোসেন রিমি, মাননীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো.জাহিদ আহসান রাসেল,কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি,গাজীপুর- ৩ আসনের সাংসদ ইকবাল হোসেন সবুজ,সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি এমপি,প্রশাসন ও পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা,শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.তরিকুল ইসলামসহ মুক্তিযুদ্ধাবৃন্দ,উপকারভোগী,স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।
গাজীপুরের শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে ঢাকা বিভাগের সর্ববৃহৎ আশ্রায়ন প্রকল্প ৮ একর ৯০ শতাংশ জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে ভূমিহীন ও গৃহহীন হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ১৪২ টি ঘর।
গাজীপুর ইউনিয়নের ২৯ বছর থেকে বিধবা নুরজাহান বেগম বলেন,আমি অসহায় লোক ছিলাম,রাস্তা ঘাটে থাকছি,মানুষের কাজ কাম করছি।স্বামী মারা যাওয়ার পর আমার ছেলেও কোনো খুঁজ খবর নেইনি।আমি খুবই বিপদে ছিলাম।এখন আমি একটা পাকা ঘর পাইছি,আমার একটা ঠিকানা হয়েছে।
নয়াপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা আবদুল জব্বার বলেন,এখন আর কাজ কাম করতে পাড়ি না,প্রধানমন্ত্রী ভাতা দিয়ে আমার সংসার চলে।আমার কোনো জায়গা ছিল না। রাতে কোনো জায়গায় ঠাই পেলেও দিনে শরীর খারাপ লাগলের থাকার জায়গা ছিল না।প্রধানমন্ত্রী ঘর পেয়ে আমি অত্যান্ত খুশি ও কৃতজ্ঞ।যেভাবেই হাউক শুয়া থাইকা মরা পারব,খাই আর না খাই।এমনকি আমার কববের একটা ঠিকানা হলো।
শ্রীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কে এম মোহিতুল ইসলাম জানান, এ আশ্রয়ন প্রকল্পে বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, দিনমজুর, বয়স্কসহ ১৪২টি গৃহহীন পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। এ প্রকল্পের প্রতিটি ঘর তৈরিতে সরকারিভাবে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম জানান, প্রতিটি ঘরের জন্য ২ শতাংশ জমি, দুটি বেডরুম, একটি বারান্দা, একটি রান্নাঘর ও একটি টয়লেট রয়েছে। ওইসব ঘরে মিটারসহ বিদুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। খুবই সচ্ছতার সাথে উপজেলা প্রশাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।
ডিসি আনিছুর রহমান আরো জানান, এ আশ্রয়ন প্রকল্পের অভ্যন্তরে উপহারের ১৪২টি ঘর ছাড়াও রয়েছে স্কুল, মসজিদ, খেলার মাঠ, সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা। তার মধ্যে ১টি পুকুর, ১টি সুপরিসর মসজিদ, ১টি বিদ্যালয় কাম-স্টাডি সেন্টার, ১টি কমিউনিটি সেন্টার কাম দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র, ১টি কবরস্থান, প্রকল্পের অভ্যন্তরে প্রশস্ত সড়ক, সৌরচালিত সড়কবাতি নির্মাাণ করা হয়েছে।এছাড়াও শিল্প কারখানা কর্মসংস্থানের আশ্রয়প্রকল্পের বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি আরোও বলেন,জেলায় ১৮১৭ ঘর প্রদানের মধ্যে দিয়ে জেলাকে ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করা হলো।
এছাড়াও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি, ফলদ, বনজ গাছ সমৃদ্ধ বাগান এবং কৃষি বিভাগ কর্তৃক পারিবারিক পুষ্টি বাগান সৃষ্টির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা বলতে পারছি গ্রামের ভেতর পূর্ণাঙ্গ এক শহর গড়ে উঠছে এ আশ্রয়ণ প্রকল্পটির মাধ্যমে।
তিনটি ধাপে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ প্রকল্পসহ গাজীপুরে “ক” শ্রেণীর অর্ন্তভুক্ত ১ হাজার ৮১৭ টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ পাকা ঘর দেয়া হয়েছে। জেলার ৫টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৮১৭টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬৩০টি, শ্রীপুরে ২৮০টি, কাপাসিয়ায় ৩১৮টি, কালিয়াকৈরে ৪৪০টি এবং কালীগঞ্জে ১৪৯টি।
আশ্রয়ণে স্থায়ী ঠিকানা পেয়ে তাদের চোখে মুখে আনন্দের বন্যা। সকাল হলেই সন্তনদের পাঠাচ্ছেন স্কুলে। নিশ্চিন্ত মনে কাজ করছেন। সরকারের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর থেকে নিচ্ছেন নানা ধরনের কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ। জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির ফলে এগিয়ে যাচ্ছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের দরিদ্র ও আশ্রয়হীন বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিক উপলক্ষ্যে ঘোষিত মুজিব বর্ষে উপহার হিসেবে আধা পাকা ঘর এবং জমি উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আজ সকালে চতুর্থ পর্যায়ে গাজীপুর, সিলেট, বরিসালে ভূমিসহ ৩৯ হাজার ৩৬৫টি ঘর হস্তান্তর করা হবে।
প্রথম পর্যায়ে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি ৬৩ হাজার ৯৯৯ গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার তাদের মাথার উপর ছাদ পায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২১ সালের ২০ জুন ৫৩ হাজার ৩৩০টি গৃহহীন পরিবার ঘর পায়। তৃতীয় পর্যায়ের দুই ধাপে ৫৯ হাজার ১৩৩টি ঘর গৃহহীনদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
২ দিন ১১ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
২ দিন ১৮ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১১ দিন ১২ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
৪৭ দিন ১৭ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
২০৫ দিন ৯ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
২০৬ দিন ১ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
২২৮ দিন ৫৫ মিনিট আগে
২৩৬ দিন ১৯ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে