তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তালা উপজেলার নিয়মিত শিক্ষার্থী নিয়েই কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করলে ইউএনও’র কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়। এ উপজেলাতে সাস এনজিও ৭০টি স্কুলের দাবী করলেও তা ২০/২২টির বেশি নয়। তিনি জানান, এই উপজেলায় ১২৮জন ঝরে পড়া শিশু রয়েছে। যারা সকলে শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং তাদের পক্ষে বিদ্যালয়ে যাতায়াত সম্ভব নয়। কিন্তু সাস ২১০০ ঝরে পড়া শিক্ষার্থী কোথায় পেয়েছে তা আমার জানা নেই। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এই প্রকল্পটি অত্র দপ্তরের তত্বাবধানে পরিচালিত থাকার কথা। কিন্তু আমাকে কিছু না জানিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তত্বাবধানে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরার সদরের বালিয়াডাঙ্গা উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়ে বেলা ১১টায় দেখা যায় স্কুলটি বন্ধ, স্কুলের সামনে বাথরুম ও গরুর গোবরগাদা। অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ন পুশকুনি ও বাঁশবাগানের মধ্যে টিনের খুপড়িঘরেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে। শিক্ষার্থীরা অনেকেই পাশের বাবুলিয়া স্কুলে পড়ে। এরপর খানপুর হাটখোলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ৬জন শিক্ষার্থী নিয়ে একটি ঘরের অর্ধেক মুরগির খামার আর অর্ধেক স্কুল হিসেবে ক্লাস করছেন শিক্ষক মৌসুমী ইসলাম। তালার চরগ্রাম, খাজরা, আটারই, দেওয়ানীপাড়া, ফতেপুর, দোহার, আটুলিয়া, শিবপুর ও মাগুরা সহ একাধিক উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, নিয়ম বহির্ভূতভাবে পাশ্ববর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেন ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুলগুলো চালানো হচ্ছে। প্রতিটি স্কুলে ৩০জন শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও ক্লাসে হাজিরা দিচ্ছে ৮/১০জন শিক্ষার্থী। যারা সকলেই অন্য বিদ্যালয়ের নিয়োমিত শিক্ষার্থী এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে সরকারি উপবৃত্তি সহ অন্যান্য সুবিধাভোগী। এই সকল বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলাকালে দেখা যায়, শিশু শিক্ষার্থীদের কৌশলে মিথ্যা বলা শেখানো হচ্ছে। বিদ্যালয় পরিদর্শনে আগতদের প্রশ্নে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সংক্রান্ত কিছু বলতে না পারলেও এনজিও এবং প্রকল্পের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কথা তাদের একদম মুখস্ত। যার অধিকাংশ কথা মিথ্যা এবং বানোয়াট। শিক্ষার্থীদের মিথ্যা বলা শেখানোর ঘটনায় অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এবিষয়ে সাসের সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, স্কুলগুলোতে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে। সেগুলো দেখা হচ্ছে। এব্যপারে সাতক্ষীরা জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র উপ-পরিচালক হিরামন কুমার বিশ্বাস জানান, এক জনের পক্ষে সকল জায়গায় যাওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া যারা ঝরে পড়েছে কিংবা কোনদিন স্কুলে যায়নি তাদের শিক্ষাদান করা খুবই কঠিন। আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবুও একটা ভাল কিছু উপহার দেয়ার প্রত্যয় আমি রাখছি।