যে বীর সেনাদের জন্ম না হলে হয়তো বাঙালি জাতি পেতনা স্বাধীন সার্বভৌমত্ব আজকের এই বাংলাদেশ । সময়ের ব্যবধানে সেই একাত্তরের রণাঙ্গনের সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের গেরিলা যোদ্ধাদের অনেকেই বীর শহীদের খেতাব নিয়ে পরলোক গমন করেছেন । যাদের ঋণ কখনো শোধ হবার নয় । কারণ ওই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগী মানুষগুলো শুধুমাত্র বাঙালীর মুক্তির সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে সাংসারিক সুখ, শান্তি, মায়া,মমতাকে বিসর্জন দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন লাল সবুজের মানচিত্র । তাইতো কবির ভাষায় বলতে হয়,ধন নয় মান নয়,এতটুকু বাসা করেছিনু আশ। তাই তো সেই বীর সেনাদের সম্মানার্থে অসহায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের প্রত্যাশা পুরুনের আরো একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। আর সেই জনদরদী হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধিনতার ৫১ বছর পরে হলেও বীর নিবাস পেয়ে আনন্দ অশ্রুতে আবেগ প্রবণ হয়ে পড়ার বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে । তাদেরই একজন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বালিয়াদহা গ্রামের ১২ বছর আগে পরপারে পাড়ি জমানো মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খার স্ত্রী মোছাঃ হাফিজা বেগম। তিনি বলেন স্বামী বেঁচে থাকলে কত খুঁশি হতেন নতুন ঘর পেয়ে তা বোঝাতে পারবোনা। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ছেলে ও চার মেয়ে নিয়ে কোন ভাবে দিন কাটাতেন দৃষ্টিহীন মোছাঃ হাফিজা বেগম। টিনের একটি খুঁপড়ি ঘরে ছেলের স্ত্রী এক মেয়ে ও মেয়ের জামাই কে নিয়ে অনেক কষ্টেই দিন পার করছেন হাফিজা।
দেশ স্বাধীনের ৫১ বছর পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসানার উপহার বীর নিবাস পেয়ে খুঁশিতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি তিনি। কান্না জড়িত কন্ঠে হাফিজা বেগম বলেন শীত কালে কুয়াশা আর বর্ষা কালে বৃষ্টির পানি ঘরে পড়ে। এ ভাবেই রোদ বৃষ্টি ঝড় তুফান শীত ও কুয়াশায় ছোট একটি খুঁপড়ি ঘরেই আমাদের থাকতে হয় । সহায় সম্বল বলতে ভিটেমাটির সামান্য জমি। ছেলের দৃষ্টি প্রতিবন্ধি হওয়ায় তেমন কোন কাজ ও করতে পারে না। চার মেয়ে কে অনেক কষ্ট করে বিয়ে দিয়েছি। তবে একটি মেয়ে ও মেয়ের জামাই আমার সাথে থাকে। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার মাথা গোজার ঠাঁই বসত ঘর পেয়ে বড় কষ্টের দিন শেেষ। দোয়া করি আল্লাহ তার মঙ্গল করুক। তালা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়দুল বলেন তালা উপজেলায় ডিজাইন মোতাবেক সঠিক তদারকির মাধ্যমে অস্বচ্ছল বীর মুক্তি যোদ্ধাদের ৪১ টি বীর নিবাস নির্মান করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে ৩৬ টি ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘর গুলো পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। এ দিকে ১৫ ফেব্রুয়ারী সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরা জেলায় ১১৬ টি ঘরের মধ্যে তালার ৩৬ টি ঘর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালী উদ্বোধন করেছেন।