সাতক্ষীরায় তালা উপজেলায় আগাম রোপনকৃত ইরি - বোরো ধান কাটা ও মাড়াই এর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কৃষকরা। একই সাথে স্বপ্নের সোনালী ফসল পাকা ধান কৃষকের ঘরে উঠতে শুরু করছে । তাই তো শত কষ্টের মাঝেও এসব চাষীদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে সোনালী হাসি। নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে যেন মুখরিত হয়ে উঠেছে এই অঞ্চলের মাঠ ও বাড়ি ঘর । যা বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে চলতি মাসের মধ্যে। আবাদকৃত জমির প্রায় সব ধানই বাড়ি-ঘরে উঠবে এমনটি আশা করছেন চাষিরা।কৃষকরা বলছেন, গেল কয়েক বছরের মধ্যে এবার বিলের জমি গুলোতে ধানের ফলন ভাল হয়েছে । প্রতি বিঘায় ব্রি ২৮ জাতের ধানের ফলন ২২ থেকে ২৫ মণ ও মোটা ধান ২৫ থেকে ২৮ মন হবে বলে আশা করা হচ্ছে । এদিকে বাম্পার ফলনে কৃষকের ঘরে আনন্দ বইছে। তবে দু’একটি জমির ধান রোগ বালাইয়ের আক্রমণে নষ্ট হয়েছে।। তবে চাষিরা বলেন অনাবৃষ্টি ও সেচ স্যকট থাকলে ও গত সপ্তাহে বৃষ্টি কৃষকের মনে আনন্দের পরশ বুলিয়ে দিয়ে গেছে। উপজেলার তৈলকুপির বিলের বোরো চাষি আমানাত মোড়ল বলেন, চলতি মৌসুমের উৎপাদন বিঘা প্রতি গেল বছরের চেয়ে ৪ থেকে ৫ মণ বেশী হবে। প্রতি বিঘায় খরচ পড়েছে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। গত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় তিনি ধান রোপন করেন। আগাম চাষ করায় ধান কাটতে শ্রমিকের মুজুরী কম ও বেশি দামে ধান বিক্র করতে পারবেন। তবে জমিতে সময় মত সার সেচ ও পরিচর্যা করায় রোগবালাই কম বলে জানান তিনি। একই এলাকার আকবার গাজী নামে অপর এক চাষি জানান ,নতুন ধানের বাজার দর ভাল। প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১২শত থেকে ১৩শত টাকা মণ দরে। তবে অনেক চাষী বলেন দেরিতে লাগানো ধান নিয়ে ঝড় বৃষ্টির ভয়ে তারা রয়েছে দারুন দুচিন্তায়। বিলের জমি থেকে উৎপাদিত ধান এখন ঘরে তোলাই বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ হিসেবে চাষিরা বলেন, কালবৈশাখী ও শ্রমিক সংকটের দুশ্চিন্তায় দিন পার করতে হয় কৃষকের।
তালা উপজেলা কৃষি অফিসার হাজিরা বেগম বলেন চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর উপজেলায় ধানের বাম্পার ফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলায় কিছু কৃষক ধান কাটা শুরু করেছে। এখানকার কৃষকেরা এবার মোটামুটি লাভবান হবেন। তবে চলতি এপ্রিল মাসে দেশে কয়েক দফায় বিক্ষিপ্ত কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত এমন খবরে। এই অঞ্চলের কয়েক হাজার কৃষক মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানা যায়।
২ দিন ২ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
১৩ দিন ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
১৯ দিন ৫৮ মিনিট আগে
২৩ দিন ৪ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
২৫ দিন ৬ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৬৭ দিন ৭ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে