◾ স্পোর্টস ডেস্ক
আফগানিস্তানের দেওয়া ১৭৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর তাড়া করে সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে ৫ বল আর ৪ উইকেট হাতে রেখেই জিতল শ্রীলঙ্কা।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বেশ ভালোই শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। প্রথম উইকেটে দ্রুত গতিতে রান উঠলেও ৩৯ বলে দলীয় ৬২ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙলে চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা।
লক্ষ্য বড় থাকলেও লঙ্কান ব্যাটাররা কেউ ফিফটির দেখা পাননি। কিন্তু গড় রান ভালো হওয়ায় বন্ধুর পথ শেষ পর্যন্ত সহজই হয়েছে।
কুশাল মেন্ডিসের ৩৬, পাথুম নিসাঙ্কার ৩৫, দানুস্কা গুনাথিলাকার ৩৩ ও ভানুকা রাজাপাকসে ৩১ রানই জয়ের ভিত শক্ত করে দেয়।
উদ্বোধনী জুটিতে ৬২ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। নাভিন উল হকের বলে মিড উইকেটে ইব্রাহিম জাদরানকে ক্যাচ দেন কুশাল মেন্ডিস। মেন্ডিস আউট হয়ে গেলে শ্রীলঙ্কাকে পথ দেখাতে শুরু করেন পাথুম নিসাঙ্কা। মুজিব উর রহমানের ক্যারম ডেলিভারি খেলতে গিয়ে ৩৫ রানে তিনি ক্যাচ তুলে দেন গুরবাজের হাতে। আসালাঙ্কাকে বোল্ড আউট করেন নবি।
গুনাথিলাকা আর শানাকা মিলে ১৫ বলে গড়েন ২৫ রানের জুটি। সেই জুটি ভাঙে নাজিবউল্লাহ জাদরানের দুর্দান্ত এক ক্যাচে। মুজিব উর রহমানের বলে বল উড়িয়ে মারেন শানাকা। সীমানা দড়ির কাছে থেকে সেই বল ধরেন নাজিব। তবে তিনি চলে যাচ্ছিলেন মাঠের বাইরে, তাই বল মাঠের দিকে ছুঁড়ে নিজেকে সীমানার মধ্যে নিয়ে এসে সেটি তালুবন্ধী করেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার ম্যাচ হাতে চলে আসে ভানুকা রাজাপাকসে ক্রিজে আসলে। নাভিন উল হকের ১৬তম ওভারের প্রথম তিন বলে তিনি নেন ১৪ রান। তবে শেষ বলে ক্যাচ উঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শিনওয়ারি সেই ক্যাচ ছেড়ে দিলে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় আফগানরা।
যদিও পরের ওভারে গুনাথিলাকাকে ফেরান রশিদ খান। জয় থেকে ২ রান দূরে থাকতে ১৩ বলে ৩১ রান করে আউট হন রাজাপাকসে। হাসারাঙ্গা করেন ১৬ রান।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান।
গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে এশিয়া কাপের সুপার ফোর শুরু করা আফগানিস্তান ব্যাটিংয়ে নামার আগে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ছিল। শারজায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাটে উদ্বোধনী জুটিতে উড়ন্ত সূচনা পায় আফগানরা।
২৯ বলে ৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ধীরগতির হজরতউল্লাহ জাজাই। মধুশঙ্কার বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার সময় তার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬ বলে ১৩ রান। পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৪৯ রান তোলে আফগানরা।
প্রথম উইকেট হারিয়ে আরও যেন বিধ্বংসী হয়ে ওঠে আফগান সদস্য রহমানুল্লাহ গুরবাজ। মাত্র ৪৫ বলে ৮৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে বড় সংগ্রহের পথ দেখান তিনি।
মাত্র ২২ বলে তুলে নেন ফিফটি। এরই মধ্যে ৪০ বলে দুইশ স্ট্রাইকরেটে ৮০ রান তোলেন গুরবাজ। ছয়টি ছক্কা আর চারটি চার হাকিয়ে যেন অবসর নেন। ব্যাটিংয়ে তার তান্ডব থামে ৮৪ রানে।
মাঠে রীতিমত চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে দেওয়া গুরবাজকে অবশেষে ১৬তম ওভারে এসে ফেরান আসিথা ফার্নান্ডো। এবারও ছক্কাই হাঁকাতে গিয়েছিলেন গুরবাজ। কিন্তু বল অনেক ওপরে উঠে যায়, মিডউইকেটে কঠিন ক্যাচ তালুবন্দী করেন হাসারাঙ্গা।
রহমানুল্লাহ গুরবাজ আউট হলে যেন কিছুটা মিইয়ে যায় নবির সতীর্থরা। শেষ ৫ ওভারে দারুণ বোলিং করে আফগানদের বিশাল পুঁজি গড়তে বাঁধা দেয় শ্রীলঙ্কা। শেষের ৫ ওভারে তারা হারায় ৫ উইকেট। এ সময়ের সংগ্রহ মাত্র ৩৭ রান।
১৭ ওভারে দেড়শ ছোঁয় আফগানিস্তান। ১৮তম ওভারে ৩৮ বলে ৪০ করে মধুশঙ্কার শিকার হয়ে ফেরেন ইব্রাহিম জাদরান। তবে নাজিবুল্লাহ জাদরানের একটি করে চার-ছক্কায় ওভারে ঠিকই ১৩ রান তুলে নেয় আফগানিস্তান।
কিন্তু শেষ দুই ওভারে প্রত্যাশিত রান পায়নি আফগানরা। ১৯তম ওভারে থিকসানা আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নাবিকে (১) ফিরতি ক্যাচ বানান, রানআউট হন নাজিবুল্লাহ (১০ বলে ১৭)। ওই ওভারে মাত্র ৩ নিতে পারে আফগানিস্তান।
২০তম ওভারেও প্রথম তিন বল ব্যাটেই লাগাতে পারেননি রশিদ খান। আসিথা ফার্নান্ডোর পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে শেষ বলে দুই নিতে গিয়ে রানআউট হয়ে যান (৭ বলে ৯)।
৪ দিন ৯ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
৫ দিন ৯ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৯ দিন ৬ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১০ দিন ৬ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
১০ দিন ৬ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
১৪ দিন ১১ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
২১ দিন ২৩ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
২৪ দিন ১০ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে