বালিয়াডাঙ্গী প্রেসক্লাবের নিজস্ব অস্থায়ী কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন দোহাজারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা ও এক হাত বিচ্ছিন্ন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বাঘ সংরক্ষণে সকলকে ভূমিকা রাখার আহব্বানে শ্যামনগরে বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত ‎ ‎বিশ্ব বাঘ দিবসে সুন্দরবনের অস্তিত্ব রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণের আহ্বান গোয়ালন্দে চালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা ছিনতাই।। চক্রের দুই সদস্যকে কুষ্টিয়া হতে গ্রেফতার ৫২ পিস ইয়াবাসহ পাংশায় মাদক কারবারি গ্রেপ্তার পবিপ্রবিতে উদ্ভাবিত চারা উপহার দিতে ব্যতিক্রমী আয়োজনে নবীনদের বরণ র‌্যাব-১৫ এর ঝটিকা অভিযানে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক ও ৩টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার। গলাচিপায় ফ্যামিলি শুমারির নিয়োগ পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন আরেকটি সিটি করপোরেশন হচ্ছে দায়িত্ব গ্রহণ করেই মাদকবিরোধী অভিযানে ওসি তামবিরুল ইসলাম, গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক ক্রীড়াঙ্গণে রাজনীতি আসা উচিত নয়: মির্জা ফখরুল আইফোন ব্যবহারকারীদের সতর্ক করল অ্যাপল বাংলাদেশ দলের ঘাটতি কোথায় বললেন সাকিব "নারী—ইসলামের আলোয় জ্যোতির্ময় মর্যাদার অমর কাব্য" কুলিয়ারচর পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করতে প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরিফুল আলমের ডিও লেটার বর্তমানে দেশের রিজার্ভ ৩৬.৪৫ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি সহযোগিতার জন্য মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেছেন ও চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বরগঞ্জে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

নিয়োগে বাড়ছে ঘুষের প্রভাব : দরকার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 02-10-2023 11:11:40 am

© ফাইল ছবি


◾ মোহাম্মদ শাকিল আহমেদ  : বর্তমান সময়ে চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা কি ? প্রশ্নের উত্তরে সহজেই বলা যায় চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা টাকা। কারণ, বর্তমান সময়ে চাকরি প্রার্থীর যোগ্যতায় নয় বরং পরিবারের টাকার উপর নির্ভর করে। পরিবারের টাকার পরিমাণটা বেশি হলে তবে সে প্রথম শ্রেণীর চাকরি প্রত্যাশা করে, একটু কম হলে মধ্যম বা নিম্ন শ্রেণির চাকরি। আর যদি পরিবারের টাকা উল্লেখযোগ্য পরিমানে না থাকে তাহলে যোগ্যতা থাকার পরেও চাকরি নয় বরং হতাশা ও টাকার আফসোসই শেষ পরিণতি। 


এখন প্রশ্ন আসতে পারে পরিবারের টাকার সাথে চাকরির কি সম্পর্ক? চাকরি হয় চাকরি প্রার্থীর যোগ্যতার উপর ভিত্তি করে। এখানে পরিবারের টাকা থাকলো বা না থাকলো তাতে কি? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় হুম, চাকরি যোগ্যতার উপর ভিত্তি করেই হয় তবে তা টাকার যোগ্যতা মানে ঘুষ। বর্তমান চাকরির বাজারে নিয়োগে ঘুষ নেই এমন চাকরি খুজে পাওয়া দায়। অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে বড় কর্মকর্তা, প্রত্যেক পদেই নিয়োগে ঘুষ দিতে হয় কয়েক লক্ষ টাকা। এমনকি অফিস সহকারী পদে নিয়োগ পেতে হলেও দিতে ৭/৮ লক্ষ টাকা আর একটু বড় কর্মকর্তা হতে গেলে গুনতে হয় ২০/২৫ লক্ষ টাকা। এ-তো সাধারণ চাকরির বাজার, এখন একটু ডিফেন্সের চাকরির বাজার নিয়ে ভাবা যাক। ডিফেন্স বলতে আমরা সাধারণ বুঝি বাহিনীকে। যারা সমাজে শৃঙ্খলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। তবে এই শৃঙ্খলা রক্ষার বাহিনীতেও নিয়োগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারি ঘুষ নামক অনিয়মের অভিযোগ অহরহ। সাধারণত এই সকল বাহিনীতে নিয়োগে দিতে হয় ১২/১৫ লক্ষ টাকা তবে তা যদি একটু বড় কর্মকর্তার চাকরি হয় তাহলে টাকার পরিমাণটা হয়ে দাঁড়ায় দ্বিগুণ ।


মোটকথা বাংলাদেশে প্রায় সকল ধরনের সরকারি চাকরিতেই ঘুষের ছড়াছড়ি। ঘুষ যেন এক অতি লাভবান বানিজ্যে পরিনত হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন প্রতিবছর বাংলাদেশে সরকারি চাকরির পদ ফাঁকা হয় প্রায় ৫০ হাজার। এরমধ্যে ২ হাজার পদে নিয়োগ পায় পিএসসি কর্তৃক নির্বাচিত চাকরি প্রত্যাশিরা। বাকি ৪৮ হাজার পদের প্রায় ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৩৬ হাজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ঘুষের মাধ্যমে। যা মোট ফাঁকা পদের প্রায় ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ দেশের চাকরির বাজারের সিংহভাগ চাকরিই হয় ঘুষের মাধ্যমে। এতে করে একদিকে যেমন প্রকৃত যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীরা চাকরি পাচ্ছে না অপরদিকে অযোগ্য লোক গুরুত্বপূর্ণ পদে বসায় তারা দেশের উন্নয়নেও তেমন ভুমিকা রাখতে পারছে না। বিষেশ করে এই ঘুষ বানিজ্যের কারণে সমাজে অসমতা সৃষ্টি হচ্ছে। সমাজে ধনী শ্রেণির লোকরা টাকার মাধ্যমে তাদের সন্তানকে কে চাকরি যোগাড় করে দিতে পারলেও সমাজের গরিব মানুষেরা সহায়-সম্বল হারিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা করানোর ফলে পর্যাপ্ত টাকার অভাবে ঘুষের মাধ্যমে সন্তানকে চাকরি যোগাড় করে দিতে পারছে না।


এতে করে সমাজের ধনীরা চাকরির মাধ্যমে আরো ধনী হলেও আগে থেকে সমাজের পিছিয়ে পরা গরিবরা বেকারত্বের কারণে আরো পিছিয়ে পরতেছে। যা সমাজে ধনী এবং গরিবের শ্রেণি বৈষম্য আরো স্পষ্ট করতেছে। শুধু তাই নয়, সমাজের নিম্ন বা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা যখন সহায়-সম্পত্তি হারিয়ে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির বাজারের ঘুষ বানিজ্যের কারণে চাকরি পায় না তখন তারা জীবিকার তাগিদে নানান অপরাধ মূলক কাজে নিজেকে জরাতে বাধ্য হয়। যা পরবর্তীতে দেশ ও জাতির জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিছু শিক্ষার্থী বেকারত্বের গ্লানি নিতে না পেরে আত্নহত্যার মতো জঘন্য কাজ করে পরপারে পারি জানাচ্ছে। আবার একশ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঘুষের কারণে দেশে চাকরি না পেয়ে বাধ্য হয়ে পারি জানাচ্ছে বিদেশে যা মেধা পাচারের অন্যতম কারণ।


খুঁজলে হয়তো ঘুষের কারণে এরকম হাজারো ক্ষতিকর দিক খুজে পাওয়া যাবে। যে ক্ষতি গুলো শুধু ব্যাক্তির নয় বরং দেশেরও। যা দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন ও শাসননীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতেছে। 


ঘুষ নামক এমন ক্ষতিকর প্রক্রিয়া যদি বন্ধ করা না যায় তাহলে এটি সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পরার মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবক্ষয় ঘটাতে পারে। এজন্য এটি বন্ধে প্রশাসনকে ও প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদেরকেও সোচ্চার হতে হবে। প্রশাসনের উচিত ঘুষের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া। ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের জন্য কঠোর শাস্তির আইন প্রনয়ণ ও তার বাস্তবায়ন করা। 


ঘুষ বানিজ্য বন্ধে সবথেকে কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারে সাধারণ জনগণ অর্থাৎ চাকরি প্রার্থী ও তার পরিবার। চাকরি প্রার্থী যদি ঘুষের মাধ্যমে চাকরি না নেয় বরং ঘুষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তবেই ঘুষ প্রত্যাশিরা ঘুষ না নিয়েই চাকরি দিতে বাধ্য হবে। শুধু চাকরি প্রার্থী বা তার পরিবার নয় বরং আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে ঘুষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। আমাদের মধ্যে যারা ঘুষ প্রত্যাশি তাদের উচিত এই দেশ এবং দেশের জনগণের সার্থে ঘুষ নেওয়া বন্ধ করা, তাহলে তারাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারবে। এতে করে ঘুষ নামক এই অভিশাপ হয়তো বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বিদায় নিবে। যা সমাজে প্রতিষ্ঠা করবে সাম্যতা। পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীও চাকরির উপর ভর করে এগোতে পারবে সামনের দিকে । তারাও দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাবে। আর এমন একটি সাম্য ও ঘুষ মুক্ত দেশ সকলেরই কাম্য। 



লেখক : মোহাম্মদ শাকিল আহমেদ 

শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক 

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ঢাকা কলেজ। 



আরও খবর