দেশের আরও ১০ জেলায় রেল সংযোগ চালু করা হবে : রেলমন্ত্রী একনেকে ৫ প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ৭০০৩ কোটি টাকা ক্ষেতলাল সরকারি মডেল স্কুল ও কলেজে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা মিরসরাইয়ের বামনসুন্দর ফকির আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত সমাজসেবক শরফু উদ্দীন মিরসরাইয়ে শাহ সূফী মুফতী মাওলানা ছেরাজুল ইসলাম (র.)-এর পাঠদানের পদ্ধতি শীর্ষক আলোচনা সভা জুনের দুই সপ্তাহে এলো ১৫৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স ঝিনাইগাতীতে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের ঐক্যের অঙ্গীকারে নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাবের ৩৭ বছর পূর্তি ইসলামী ব্যাংককে আরও ২৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক শ্রীমঙ্গলে শান্তি বাড়ি ইকো রিসোর্টের উদ্যোগে মৌসুমী ফল উৎসব ও পরিবেশ রক্ষায় সুহৃদ আড্ডা মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে দলীয় সম্পৃক্ততা থাকবে না: অর্থমন্ত্রী দেওয়ানগঞ্জের ডাংধরায় ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন জাবিপ্রবিতে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন মৎস্য উৎপাদন শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত লাখাইয়ে গ্রাম আদালত এর বার্ষিক ক্যাম্পেইন, সচেতনতা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত। খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে আশাশুনিতে লিফলেট বিতরণ লোহাগাড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান: ২৩ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ, ড্রেজার মেশিন ধ্বংস সাতক্ষীরায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৫৫ লাখ টাকার পণ্য জব্দ ‎মোংলায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ২০, মহাসড়কে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিশৃঙ্খলার চিত্র ‎ ঈশ্বরগঞ্জে নকল প্রসাধনী ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

মা-বাবার বিশ্বাস

একটি ছেলে ছিল, মা-বাবা ভালোবেসে তার নাম রেখেছিল অনু। প্রতি বছর গরমের ছুটিতে তার মা-বাবা তাকে তার দাদুর বাড়ি বেড়াতে নিয়ে যেতেন। দাদু থাকতেন দেশের বাড়ি; অনেকটা দূর, তাই ট্রেনে করে যেতে হত।
এক বছর গরমের ছুটিতে বেড়ানোর তোড়জোড় চলছে; অনু বলল, বাবা, আমি তো এখন যথেষ্ট বড় হয়েছি, আর তোমাদের যাবার দরকার নেই। আমি একাই যেতে পারব। বেশ খানিকক্ষণ আলোচনার পর ঠিক হল, এবার অনু একাই যাবে, তার বাবাকে আর অফিস কামাই করে তাকে পৌঁছে দিতে হবে না।
অনুকে জানলার ধারের সিটে বসিয়ে বাবা প্ল্যাটফর্মে নেমে এলেন। অনু বলল, তোমরা চিন্তা কোরো না, আমি ঠিক পৌঁছে যাব।
ট্রেন যখন ছাড়ব-ছাড়ব করছে, অনুর বাবা তার জামার পকেটে একটা কিছু গুঁজে দিলেন। দিয়ে বললেন, যদি রাস্তায় ভয় পাস বাবা, এই জিনিসটা বার করে দেখিস।
ট্রেন ছেড়ে দিল, অনুর জীবনে এই প্রথমবার যে সে একেবারে একা। সঙ্গে মা-বাবা নেই, দরকার পড়লেও তাদের সাহায্য এখন পাওয়া যাবে না। অস্বস্তি কাটাবার জন্য জানলার বাইরে মন দিল সে। পৃথিবীর নানা রঙের টুকরো টুকরো ছবি সেখানে ছিটকে ছিটকে পেরিয়ে যাচ্ছে। কখনও দেখা গেল একলা কৃষক আনমনে পথ হেঁটে চলেছে তার হাল আর বলদ নিয়ে, কখনও দেখা গেল আকাশের বুকে আলপনা এঁকে উড়ে চলেছে একসারি বলাকা, আবার কখনও বা সূর্যকে আড়াল করা মেঘের ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঠিকরে বেরোচ্ছে একফালি রোদ।

এইভাবে অপরাহ্ন পেরিয়ে সন্ধ্যা নেমে এল। ট্রেনের ভেতর লোকজনের হট্টগোল, হকারদের যাওয়া-আসা, চিৎকার-চেঁচামেচি ক্রমশ স্তিমিত হতে লাগল। অনুর জানলার আকাশে এখন চাপ চাপ অন্ধকার শুধু। সেই মুহূর্তে নিজেকে খুব একা মনে হতে লাগল অনুর। ভাবল, এইভাবে জিদ করে একা না এলেই বোধহয় ভালো হত। মুখ ঘুরিয়ে সবাইকে দেখতে লাগল সে। সবাই কেমন যেন চুপচাপ, উল্টোদিকের যে লোকটা মাঝেমাঝেই তার দিকে তাকাচ্ছে, তার মুখে যেন একরাশ শূন্যতা! ওদিকে কয়েকটা ষন্ডামার্কা লোকজন, কী তাদের মতলব ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। এবারে অনু বেশ ভয় পেয়ে গেল, জানলার কোণটায় আরও গুটিয়ে গেল সে। হে আল্লাহ, এ রাত কতক্ষণে শেষ হবে! গলা শুকিয়ে এল তার, হাত-পা কাঁপতে লাগল, চোখের কোণটা জলে ভরে এল, রুমাল বার করে কপালের ঘাম মুছল বারকয়েক।
হটাৎ অনুর মনে পড়ল, বাবা না জানি কি একটা তার পকেটে গুঁজে দিয়েছিলেন শেষমূহূর্তে! কোনোরকমে কাঁপা কাঁপা হাতে পকেট থেকে বার করে নিয়ে এল সেটা। এক টুকরো কাগজ, আর তাতে লেখা, *ভয় পাস না বাবা, আমি তোর পাশের কম্পার্টমেন্টেই আছি।*
আমাদের জীবনের ট্রেনটিও ঠিক এইভাবেই ছুটে চলেছে। যখন আল্লাহ আমাদের এই পৃথিবীতে পাঠান, তিনি আমাদের পকেটে এক টুকরো কাগজ এইভাবেই গুঁজে দিয়েছেন। তাতে লেখা আছে *আমি তোমাদের সঙ্গেই চলেছি, তোমাদের হাতের নাগালের মধ্যেই আছি, শুধু একবার ডাক দিও, দেখবে তোমাদের পাশেই আমি দাঁড়িয়ে আছি।*
তাহলে আর চিন্তা কী! শুধু বিশ্বাস করো, শুধু একবার প্রাণভরে ডাকো, আর দেখবে, তিনি দু-হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁর মুখে একরাশ ভুবন ভোলানো হাসি আর এক জোড়া ক্ষমাসুন্দর চোখ! তাহলে আর কীসের ভয়! কীসের দুশ্চিন্তা! কীসের এত ভাবনা!
Tag