মোংলা প্রতিনিধিঃ
মোংলা-খুলনা মহাসড়কের দিগরাজে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২০ যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সোমবার দুপুরে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের দিগরাজ এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোংলাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় বাসটির সম্মুখভাগ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়, যার ফলে বাসে থাকা অন্তত ২০ জন যাত্রী গুরুতর জখম হয়েছেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই মোংলা এলাকার বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় মহাসড়কের ওই অংশে বেশ কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়, যা স্থানীয় জনজীবনে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে।
দুর্ঘটনার শিকার হওয়া যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মহাসড়কে বেপরোয়া গতি এবং চালকদের ট্রাফিক আইন না মেনে গাড়ি চালানোর প্রবণতাই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মূল কারণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সংঘর্ষের সময় বাস ও ট্রাক—উভয়ই উচ্চগতিতে ছিল, যার ফলে চালকরা একে অপরকে পাশ কাটানোর সময় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। আহত যাত্রীদের স্বজনরা দাবি করেছেন যে, মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল এবং অদক্ষ চালকদের হাতে স্টিয়ারিং থাকার কারণে নিয়মিত বিরতিতে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। ভুক্তভোগীদের মতে, দিগরাজ এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও মহাসড়কে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বা গতিরোধক না থাকায় প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। চিকিৎসা নিতে আসা আহতদের আহাজারি এবং স্বজনদের উদ্বেগের চিত্রটি এই রুটের পরিবহন ব্যবস্থার চরম নৈরাজ্যকেই প্রতিফলিত করছে।
ঘটনার বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানিয়েছেন যে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। বাস নাকি ট্রাকের চালক দোষী, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিবহন কোম্পানির নথিপত্র এবং চালকদের লাইসেন্স যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। তবে বাস মালিক সমিতি বা সংশ্লিষ্ট পরিবহন খাতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দায় স্বীকার বা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, নিয়মিত দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এই দুর্ঘটনাটি মোংলা-খুলনা মহাসড়কের বিদ্যমান পরিবহন নিরাপত্তার দুর্বলতাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। যাতায়াত ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং এ ধরনের প্রাণহানি কমাতে মহাসড়কে নিয়মিত টহল বাড়ানো, চালকদের দক্ষতা যাচাই এবং ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য। যদি পরিবহন মালিক এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দায়সারা আচরণ অব্যাহত রাখে, তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি চালক ও হেলপারদের যথাযথ প্রশিক্ষণের নিশ্চয়তা না দিলে এই রুটে চলাচলকারী যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তা কখনোই নিশ্চিত হবে না, যা ভবিষ্যতে পরিবহন খাতে বড় ধরনের সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
১৮ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে