রাজবাড়ীর বঙ্গবন্ধু কলেজের ৭৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ২ জন পাস।
শিক্ষার মান ভালো না হলেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহারের বদৌলতে কলেজটি হয়েছে সরকারি নথিভুক্ত। চলতি বছর কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে মাত্র ২ জন পাস করলেও বাকি ৭৩ জনই ফেল করে। পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করেছেন অবিভাবকসহ এলাকাবাসী।
এমন ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলাধীন সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা বাজারের পাশে অবস্থিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কলেজে। কলেজটি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০২১ সালে কলেজটি সরকারি হিসেবে নথিভুক্ত হয়। বর্তমানে কলেজটিতে অধ্যক্ষসহ পাঠদানের জন্য ২৭ জন শিক্ষক রয়েছেন। এছাড়াও রয়েছেন ১৪ জন কর্মচারী।
সরেজমিনে গিয়েও দেখা হয়নি কলেজে অধ্যক্ষের সাথে। দেখা যায়নি নোটিশ বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল। সাংবাদিক পরিচয় দিতেই এলোমেলোভাবে কলেজ মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন শিক্ষক শ্রেণি কক্ষে গিয়ে পাঠদান শুরু করেন। একাধিক শিক্ষকের কাছে পরীক্ষার ফলাফল জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে বলে দায় সারেন তারা।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. নবিউল ইসলামের মুঠোফোনে ফোন করে পরীক্ষার ফলাফল জানতে চাইতেই ব্যস্ত আছি বলে ফোন রেখে দেন।
এ বিষয়ে সরিষা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আজমল আল বাহার বলেন, কলেজটি সরকারি হওয়ার আগে ম্যানেজিং কমিটি দ্বারা পরিচালিত হতো। তখন কলেজটি ভালোই চলেছে, পরীক্ষার রেজাল্টও ভালো হয়েছে। বর্তমানে সরকারি হওয়াতে মনে হচ্ছে শিক্ষকদের লাগাম ধরার মতো কেউ নেই। এমন চলতে থাকলে এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ইউপি চেয়ারম্যান আজমল আল বাহার।