◾ নিউজ ডেস্ক
আজ রবিবার (৬ নভেম্বর) থেকে সারাদেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবার ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
এ পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নফাঁস এড়াতে এবং নকলমুক্ত পরিবেশে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা আয়োজনে আগামী ৩রা নভেম্বর থেকে ১৪ই ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবার ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে বেলা ১১টায়। চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ হবে ১৩ই ডিসেম্বর। ১৫ই ডিসেম্বর ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হবে ২২শে ডিসেম্বর। চলতি বছরের পরীক্ষা পুনর্বিন্যাস করা পাঠ্যসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। এইচএসসিতে এবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এই বিষয়ের নম্বর সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
গত বছরের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থী কমেছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৮৩ জন। এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৩ হাজার ৪০৭ জন।
এবার মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৫ লাখ ৮০ হাজার ৬১১ জন। মোট কেন্দ্র সংখ্যা ২ হাজার ৬৪৯টি, মোট প্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ১৮১টি।
গত বছরের তুলনায় কেন্দ্র বেড়েছে ২৮টি, প্রতিষ্ঠান কমেছে ২টি। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৩ জন শিক্ষার্থী।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ২ হাজার ৬৭৮টি প্রতিষ্ঠানে ৪৪৮টি কেন্দ্রে ৯৪ হাজার ৭৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ হাজার ৮৫৬টি প্রতিষ্ঠানে ৬৭৩টি কেন্দ্রে ১ লাখ ২২ হাজার ৯৩১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
দেশের বাইরে আটটি স্থানে এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। তার মধ্যে জেদ্দায় ৫১ জন, রিয়াদে ২০ জন, ত্রিপোলিতে ৪ জন, দোহায় ৬২ জন, আবুধাবিতে ২৭ জন, দুবাইয়ে ২১ জন, বাহরাইনে ১৫ জন এবং সাহাম, ওমানে ২২ জন মিলে মোট ২২২ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।
পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে এসএমএসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রশ্নপত্রের সেট কোড জানিয়ে দেয়া হবে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। অভিভাবকদেরও সামাজিক দূরত্ব রেখে চলাফেরার অনুরোধ করা হয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্রুতি লেখক) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। এ ধরনের পরীক্ষার্থীদের এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেওয়া হবে।
প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও গত বছর করোনা মহামারির কারণে তা সম্ভব হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। এ অবস্থায় গত বছর প্রায় ৯ মাস পিছিয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি এসএসসি আর ডিসেম্বরের শুরুতে নেওয়া হয় এইচএসসি পরীক্ষা।
তবে এ বছর করোনার পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে যায়।
মহামারির পর বন্যা পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে যাওয়া এইচএসসি এবার শুরু হচ্ছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে। এ পরিস্থিতির কারণে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় পরীক্ষার্থীদের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ডেঙ্গু আক্রান্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার।
তিনি বলেন, কেউ অসুস্থ থাকলে কেন্দ্র সচিবের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন করলে ওই পরীক্ষার্থীর জন্য আলাদা রুমে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
৫ দিন ২৩ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
৭ দিন ২ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৭ দিন ৫ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
৭ দিন ৫ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
৯ দিন ১ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৯ দিন ৫ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
৯ দিন ৫ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে